• facebook
  • twitter
  • youtube
Sunday, 16 August, 2026

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ইতিহাস বাংলাদেশের, মিরাজের পাঁচ উইকেটের পর ৫৭ রান তাড়া করে স্মরণীয় জয়

দ্বিতীয় উইকেটে হাল ধরেন শাদমান ইসলাম (২৫) ও মমিনুল হকের (৩০) ঠান্ডা মাথার ইনিংসে জয় নিশ্চিত করে বাংলাদেশ। ইনিংসের ১৫ নম্বর ওভারে বাউন্ডারি হাঁকিয়ে দলকে ঐতিহাসিক জয় এনে দেন মমিনুল।

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ইতিহাস বাংলাদেশের, মিরাজের পাঁচ উইকেটের পর ৫৭ রান তাড়া করে স্মরণীয় জয়

Photo: X

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট জয়ের স্বপ্ন শেষ পর্যন্ত সত্যি হল বাংলাদেশের। মেহেদি হাসান মিরাজের পাঁচ উইকেটের দাপট, দুই ইনিংসেই হাসান মাহমুদের দুরন্ত বোলিং এবং ব্যাটারদের ঠান্ডা মাথার ফসল ডারউইনে বিশ্বের এক নম্বর টেস্ট খেলিয়ে দল অস্ট্রেলিয়াকে ন’উইকেটে হারিয়ে বিশ্ব ক্রম তালিকায় নয় নম্বরে থাকা বাংলাদেশের ঐতিহাসিক সাফল্য।

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট জেতার নজির ছিল না তাদের। সেই অপেক্ষার অবসান ঘটাল বাংলাদেশ। ডারউইনের প্রথম টেস্টে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে ক্রিকেট ইতিহাসে নতুন অধ্যায় লিখলেন নাজমুল হোসেন শান্তরা। শেষ ইনিংসে মাত্র ৫৭ রানের লক্ষ্য ছিল বাংলাদেশের সামনে। সেই ছোট লক্ষ্য তাড়া করেই অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে তাদের অন্যতম স্মরণীয় টেস্ট জয় নিশ্চিত করল বাংলাদেশ।

এই ঐতিহাসিক জয়ের ভিত গড়ে দেন মূলত বাংলাদেশের বোলাররাই। তবে ব্যাটারদের অবদানও কম নয়। প্রথম ইনিংসে অস্ট্রেলিয়াকে ১৯৮ রানে গুটিয়ে দেওয়ার পর ব্যাট হাতে ৪২৬ রান তোলে বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসে ২২৮ রানের বিশাল লিড পেয়ে ম্যাচের রাশ নিজেদের হাতে নেয় তারা। তানজিদ হাসানের প্রথম টেস্ট শতরান, নাজমুল হোসেন শান্তর ৮৪ এবং মেহেদি হাসান মিরাজের গুরুত্বপূর্ণ ৬৫ রানের ইনিংস বাংলাদেশের দাপটকে আরও মজবুত করে।

দ্বিতীয় ইনিংসে অস্ট্রেলিয়া অবশ্য কিছুটা লড়াই করেছিল। বিশেষ করে ক্যামেরন গ্রিনের সেঞ্চুরি স্বপ্ন দেখাচ্ছিল স্বাগতিকদের। ১০৪ রান করে তিনি অস্ট্রেলিয়ার ইনিংস টেনে নিয়ে যান। কিন্তু বাংলাদেশের বোলারদের সামনে সেই প্রতিরোধ শেষ পর্যন্ত টেকেনি।

রবিবার ম্যাচের চতুর্থ দিনে অস্ট্রেলিয়ার ইনিংস গুটিয়ে দেওয়ার দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেন মিরাজ। পাঁচ উইকেট নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার শেষ প্রতিরোধও ভেঙে দেন বাংলাদেশের এই অলরাউন্ডার। নাথান লায়নকে এলবিডব্লিউ করে নিজের পঞ্চম উইকেট নেওয়ার পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসের ইতি টানেন তিনি। ম্যাচের দুই ইনিংস মিলিয়ে হাসান মাহমুদও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন, তাঁর দখলে ছিল মোট ন’টি উইকেট।

অস্ট্রেলিয়া শেষ পর্যন্ত মাত্র ৫৬ রানের লিড নিতে সক্ষম হয়। ফলে জয়ের জন্য বাংলাদেশের প্রয়োজন ছিল ৫৭ রান। লক্ষ্য ছোট হলেও পরিস্থিতির গুরুত্ব ছিল বিশাল। কারণ, সামনে ছিল অস্ট্রেলিয়ার বোলিং আক্রমণ, আর অন্য দিকে ইতিহাসের হাতছানি।

প্রথম ইনিংসের সেঞ্চুরিয়ান তানজিদ হাসান বিনা রানেই আউট হয়ে ফিরে যান। সেই চাপ সামলে দ্বিতীয় উইকেটে হাল ধরেন শাদমান ইসলাম (২৫) ও মমিনুল হকের (৩০) ঠান্ডা মাথার ইনিংসে জয় নিশ্চিত করে বাংলাদেশ। ইনিংসের ১৫ নম্বর ওভারে বাউন্ডারি হাঁকিয়ে দলকে ঐতিহাসিক জয় এনে দেন মমিনুল।

ডারউইনের মাঠে শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের উচ্ছ্বাস তাই শুধু একটি টেস্ট ম্যাচ জেতার আনন্দ নয়, অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসানের আনন্দও। প্রথম টেস্টেই অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে দুই ম্যাচের সিরিজে এগিয়ে গেল বাংলাদেশ।

বাংলাদেশের জন্য জয়টি আরও বিশেষ এই কারণে যে, দীর্ঘদিন পর অস্ট্রেলিয়া সফরে গিয়ে তারা শুধু লড়াই করেনি, ম্যাচের অধিকাংশ সময় আধিপত্যও বজায় রেখেছে। প্রথমে বোলিংয়ে অস্ট্রেলিয়াকে ধাক্কা, তার পরে ব্যাট হাতে ৪২৬ রানের পাহাড়, আর শেষে মিরাজের ঘূর্ণিতে অস্ট্রেলিয়ার শেষ প্রতিরোধ ভেঙে ইতিহাস।

ডারউইনে তাই নতুন এক সকাল বাংলাদেশের ক্রিকেটের। যে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে এত দিন টেস্ট জয়ের স্বপ্নই ছিল অধরা, সেই স্বপ্ন এ বার বাস্তব হল।