একদিকে উচ্ছ্বাসে ভাসছে স্পেনের তারকা ফুটবলাররা। কারণ, আজ দেশে তারাই একেকজন সুপারহিরো। অন্য দিকে, মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে লিওনেল মেসি, চোখে জল। ১২০ মিনিটের লড়াই শেষে বিশ্বকাপ হাতছাড়া হয়েছে আর্জেন্টিনার।
এমন সময়েই দেখা গেল এমন এক দৃশ্য, যা হয়তো বহু দিন মনে রাখবে ফুটবল বিশ্ব। বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার আনন্দের মধ্যেও ছুটে গিয়ে মেসিকে জড়িয়ে ধরলেন স্পেনের তরুণ তারকা লামিন ইয়ামাল। পরাজিত কিংবদন্তিকে সান্ত্বনা জানিয়ে শ্রদ্ধাজ্ঞাপনের নতুন নজির গড়লেন ১৯ বছর বয়সি এই ফুটবলার।
বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে থেকেই মেসি ও ইয়ামালকে ঘিরে ছিল এক অন্যরকম আবেগ। ২০০৭-এ মাত্র কয়েক মাসের শিশু ইয়ামালকে কোলে নিয়ে ছবি তুলেছিলেন তরুণ মেসি। সেই ছবিই বছর কয়েক পরে ভাইরাল হয় এবং ফুটবলপ্রেমীদের কাছে ‘দুই প্রজন্মের প্রতীক’ হয়ে ওঠে। তবে রবিবার মেটলাইফ স্টেডিয়ামে সেই দুই ফুটবল তারকা ছিলেন বিশ্বকাপ ফাইনালের দুই প্রান্তে।
স্পেন ১-০ গোলে জেতার পর সতীর্থদের সঙ্গে উল্লাসে মেতে উঠতেই পারতেন ইয়ামাল। কিন্তু তিনি সেলিব্রেশনে যোগ দেওয়ার আগে সোজা এগিয়ে যান মেসির দিকে। হতাশায় ভেঙে পড়া আর্জেন্টিনা অধিনায়ককে আলিঙ্গন করেন এবং কয়েক মুহূর্ত কথা বলেন তাঁর সঙ্গে। মেসিও হাসিমুখে তরুণ স্প্যানিশ ফুটবলারের শুভেচ্ছা গ্রহণ করেন। মাঠের সেই বিরল দৃশ্য মুহূর্তের মধ্যেই চিত্রসাংবাদিকদের ক্যামেরায় বন্দি হয়ে যায় এবং ছড়িয়ে পড়ে সমাজ মাধ্যমেও। অনেকের মতে, এটিই বিশ্বকাপ ফাইনালের সবচেয়ে মানবিক মুহূর্ত।
ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, এই আলিঙ্গন শুধু একজন বিজয়ী ও একজন পরাজিতের মধ্যে সৌজন্য বিনিময় নয়। বরং এটি এক যুগ থেকে আরেক যুগে ফুটবলের ব্যাটন হস্তান্তরের প্রতীক। একদিকে বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা কিংবদন্তি মেসি, অন্যদিকে আগামী দিনের মুখ হিসেবে উঠে আসা ইয়ামাল। সেই মুহূর্ত যেন ফুটবলের চিরন্তন ধারাবাহিকতারই প্রতিচ্ছবি।
ফাইনালে তাঁর ধারলো আক্রমণে বারবার আর্জেন্টিনাকে সমস্যায় ফেলেছিলেন ইয়ামাল। যদিও গোলটি করেন ফেরান তোরেস, তবু ডান প্রান্তে তাঁর সৃজনশীল ফুটবল স্পেনের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিন্তু ম্যাচ শেষে সব কিছুকে ছাপিয়ে যায় তাঁর এই সৌজন্যবোধ— পরাজিত মেসির কাছে গিয়ে তাঁর কাঁধে হাত রাখা। বিশ্বজয়ের রাতে সেই ছবিই যেন বলে দিল, ট্রফি জেতার থেকেও বড় হয়ে উঠতে পারে প্রতিপক্ষের প্রতি সম্মান।




