• facebook
  • twitter
  • youtube
Tuesday, 9 June, 2026

বিতর্কে এমবাপে! ‘অত্যন্ত স্বার্থপর’, ফ্রান্স অধিনায়ককে তোপ বিশ্বকাপজয়ী কিংবদন্তির

ফরাসি ফুটবলে অবশ্য নেতৃত্ব নিয়ে বিতর্ক নতুন নয়।

দুদিন পরেই বিশ্বকাপ ২০২৬ শুরু হতে চলেছে। এই সময়ে ফ্রান্সের অধিনায়ক এবং তারকা ফরোয়ার্ড কিলিয়ান এমবাপে-কে নিয়ে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। মাঠে তাঁর অসাধারণ সাফল্য নিয়ে কোনও প্রশ্ন না থাকলেও নেতৃত্বের গুণ নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিলেন ফ্রান্সের ১৯৯৮ বিশ্বকাপজয়ী প্রাক্তন ডিফেন্ডার ফ্রাঁ লেবো।

লেবো-র অভিযোগ, এমবাপে বিশ্বের অন্যতম সেরা ফুটবলার হলেও তিনি প্রকৃত অর্থে নেতা নন। তাঁর মতে, একজন অধিনায়কের মধ্যে যে আত্মত্যাগ, দলকে একসঙ্গে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার মানসিকতা এবং নিঃস্বার্থ নেতৃত্বের গুণ থাকা প্রয়োজন, তা এমবাপের মধ্যে যথেষ্ট পরিমাণে দেখা যায় না। লেবো প্রকাশ্যেই বলেন, ‘আমার কাছে এমবাপে নেতা নন, কারণ তিনি নিজের চিন্তাভাবনায় খুবই স্বার্থপর।‘
এই মন্তব্য এমন সময় এল যখন ফ্রান্স বিশ্বকাপের অন্যতম ফেভারিট হিসেবে টুর্নামেন্টে নামছে। ২৭ বছর বয়সি এমবাপে ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক ফুটবলে একাধিক নজির গড়েছেন। ২০১৮-য় বিশ্বকাপ জয়, ২০২২ সালের ফাইনালে হ্যাটট্রিক এবং ফ্রান্সের হয়ে ৯০-এর বেশি ম্যাচে ৫০-এর বেশি গোল—সব মিলিয়ে তিনি বর্তমান প্রজন্মের অন্যতম সফল ফুটবলার।

সম্প্রতি বিশ্বকাপ প্রস্তুতি ম্যাচে ফ্রান্স ৩-১ জয় পেলেও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন না এমবাপে। সেই ম্যাচে হ্যাটট্রিক করেন মাইকেল ওলিজ। ফলে দলের মধ্যে নতুন তারকাদের উত্থানও আলোচনায় এসেছে।

তবে সমালোচনার মধ্যেও ফরাসি দলের সবচেয়ে বড় ভরসা এখনও এমবাপেই। কোচ দিদিয়ে দেশঁ তাঁর নেতৃত্বেই বিশ্বকাপ অভিযানে দল নামাচ্ছেন। বিশ্বকাপের ইতিহাসে ইতিমধ্যেই ১২ গোল করে ফেলেছেন এমবাপে এবং আর একটি সফল টুর্নামেন্ট তাঁকে সর্বকালের সেরা বিশ্বকাপ গোলদাতাদের তালিকায় আরও ওপরে তুলে দিতে পারে।
ফরাসি ফুটবলে অবশ্য নেতৃত্ব নিয়ে বিতর্ক নতুন নয়। অনেকের মতে, এমবাপের ব্যক্তিত্ব অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক এবং উচ্চাকাঙ্ক্ষী, যা তাঁকে মহান ফুটবলার বানিয়েছে। আবার সমালোচকদের একাংশ মনে করেন, সেই ব্যক্তিত্বই কখনও কখনও দলগত নেতৃত্বের ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়ায়।

বিশ্বকাপের আগে এই বিতর্ক ফ্রান্স শিবিরে কতটা প্রভাব ফেলবে, তা সময়ই বলবে। তবে একটি বিষয় নিশ্চিত, উত্তর আমেরিকার মাটিতে ফ্রান্সের সাফল্য অনেকটাই নির্ভর করবে অধিনায়ক এমবাপের পারফরম্যান্স এবং নেতৃত্বের উপর। সমালোচনার জবাব তিনি মাঠেই দিতে পারেন কি না, সেটাই দেখার।