দুর্দান্ত লড়াই করে নেদারল্যান্ডসের বিরুদ্ধে ২-২ ড্র আদায় করে নিল জাপান। টেক্সাসের ডালাস স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের গ্রুপ ‘এফ’-এর অন্যতম আকর্ষণীয় এই ম্যাচে দু’বার পিছিয়ে পড়েও শেষ মুহূর্তে সমতা ফিরিয়ে ‘সামুরাই ব্লু’রা। এশিয়ার অন্যতম সেরা ফুটবল খেলিয়ে দেশ প্রমাণ করল কেন তাদের এই বিশ্বকাপের অন্যতম ‘ডার্ক হর্স’ বলা হচ্ছে।
প্রথমার্ধে উভয় দলই একাধিক সুযোগ তৈরি করলেও গোলের দেখা পায়নি। জাপানের গোলরক্ষক জিয়ন সুজুকি কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সেভ করে দলকে ম্যাচে টিকিয়ে রাখেন। বিরতির পর ৫১ মিনিটে কর্নার থেকে আসা বলে হেড করে নেদারল্যান্ডসকে এগিয়ে দেন অধিনায়ক ভিরজিল ফান জিক। মিডফিল্ডার রায়ান গ্রাভেনবার্খের নিখুঁত অ্যাসিস্ট থেকে আসে গোলটি।
তবে ডাচদের সেই আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। মাত্র ছয় মিনিট পরই জাপানের হয়ে সমতা ফেরান কেইতো নাকামুরা। তাঁর শট ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে জালে জড়ায়। কিন্তু ৬৪ মিনিটে আবারও এগিয়ে যায় নেদারল্যান্ডস। ক্রিসেনসিও সামারভিলের দুর্দান্ত বাঁ-পায়ের বাঁকানো শট জাপানি গোলরক্ষককে পরাস্ত করে স্কোরলাইন ২-১ করে দেয়।
ম্যাচ তখন নেদারল্যান্ডসের নিয়ন্ত্রণেই চলে যাচ্ছে বলে মনে হচ্ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত হার মানেনি জাপান। ৮৮ মিনিটে কোকি ওগাওয়ার হেড থেকে আসা বল দাইচি কামাদার গায়ে লেগে জালে জড়িয়ে যায়। সেই গোলেই ২-২ সমতা ফেরায় জাপান। গোল হতেই জাপানি বেঞ্চে উচ্ছ্বাসের বিস্ফোরণ ঘটে এবং গুরুত্বপূর্ণ এক পয়েন্ট নিশ্চিত করে তারা।
ম্যাচ শেষে জাপান কোচ হাজিম মোরিয়াসু দলের লড়াকু মানসিকতার প্রশংসা করেন। বলেন, ‘গুরুত্বপূর্ণ মিডফিল্ডার ওতারু এন্দোকে চোটের কারণে না পেয়েও দল যেভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে, তাতে আমি সন্তুষ্ট’। অন্যদিকে, ডাচ কোচ রোনাল্ড কোয়েম্যান হতাশা প্রকাশ করে বলেন, ‘দু’বার এগিয়ে থেকেও জয় ধরে রাখতে না পারা আমাদের জন্য বড় আক্ষেপের বিষয়’।
নেদারল্যান্ডসকে এখন পরের ম্যাচে সুইডেনের বিরুদ্ধে আরও সতর্ক হয়ে নামতে হবে। এই ড্রয়ের ফলে গ্রুপ ‘এফ’-এর লড়াই আরও জমে উঠল। একই গ্রুপে রয়েছে সুইডেন ও তিউনিসিয়া। ভারতীয় সময় অনুযায়ী সোমবার সকালে মেক্সিকোর মন্তেরেতে সুইডেন ৫-১-এ হারাল তিউনিশিয়াকে। সাত মিনিটের মাথায় গোল করে সুইডেনকে এগিয়ে দেন ইয়াসিম আইয়ারি। ম্যাচের শেষে সংযুক্ত সময়েও তিনি গোল করেন। এ ছাড়া আলেকজান্দার আইজ্যাক, ভিক্টর গিওকেরেস ও মাতিয়াস সোয়ানবার্গ গোল করে দলকে বড় জয় এনে দেন। তিউনিশিয়ার হয়ে একমাত্র গোলটি করেন ওমর রেকিক।




