সাগরপাড়ের গলে জয়ের পর এ বার কলম্বোয় দ্বিতীয় টেস্টে জিতলেই ২০২৩ সালের পর প্রথম বার বিদেশের মাটিতে টেস্ট সিরিজ জয়ের স্বাদ পাবে শুভমান গিলের দল। অন্য দিকে ঘরের মাঠে সিরিজ বাঁচাতে মরিয়া শ্রীলঙ্কা।
গলের প্রথম টেস্টে একতরফা জয়ের পরে আত্মবিশ্বাস তুঙ্গে ভারতীয় শিবিরে। এ বার লক্ষ্য কলম্বোয় দ্বিতীয় টেস্ট জিতে সিরিজ পকেটে পুরে ফেলা। শনিবার থেকে শুরু হচ্ছে দ্বিতীয় টেস্ট। ভারতের সামনে শুধু সিরিজ জয়ের সুযোগই নয়, রয়েছে তিন বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটানোর হাতছানিও।
ভারত যদি ২-০ ব্যবধানে সিরিজ জিতে ক্লিন সুইপ করতে পারে, তা হলে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের (WTC) পয়েন্ট তালিকায় ৫৭.৫৮ শতাংশ পয়েন্ট নিয়ে চতুর্থ স্থানে উঠে যাওয়ার সুযোগ থাকবে।
অন্য দিকে, ডারউইনে জয়ের পর বর্তমানে এই তালিকায় ৬৬.৬৭ শতাংশ পয়েন্ট নিয়ে চতুর্থ স্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। ম্যাকেতে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে দ্বিতীয় টেস্টে বাংলাদেশ হেরে গেলে তাদের পঞ্চম স্থানে নেমে যাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। সে ক্ষেত্রে বাংলাদেশের পয়েন্ট কমে হবে ৫৫.৫৬ শতাংশ।
২০২৩-এর পরে বিদেশের মাটিতে আর কোনও টেস্ট সিরিজ জিততে পারেনি ভারত। ফলে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেও গিলদের লক্ষ্য যে আরও বড়, তা বলাই যায়। প্রথম টেস্টে ভারতের ব্যাটিং ও বোলিং— দুই বিভাগই দাপট দেখিয়েছে। বিশেষ করে দেবদত্ত পাডিক্কলের দুরন্ত ১৬৭ এবং ধ্রুব জুরেলের অর্ধশতরানের সুবাদে প্রথম ইনিংসেই ম্যাচের রাশ নিজেদের হাতে নিয়ে নিয়েছিল ভারত।
গলে ব্যাটারদের পাশাপাশি বল হাতেও কার্যকর হয়ে ওঠে ভারত। শ্রীলঙ্কার ব্যাটিংকে বড় রান করতে দেয়নি ভারতীয় বোলিং আক্রমণ। ফলে দ্বিতীয় টেস্টের আগে দলের আত্মবিশ্বাস যে অনেকটাই বেড়েছে, তা নিয়ে কোনও সংশয় নেই।
তবে কলম্বোর উইকেট গলের থেকে আলাদা চরিত্রের হতে পারে। সেই কারণেই প্রথম একাদশে কিছু বদলের সম্ভাবনাও রয়েছে। ভারতের অধিনায়ক শুভমান গিল জানিয়েছেন, দলের ভারসাম্য এবং পিচের চরিত্র বুঝেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
গিল বলেন, ‘আমরা ম্যাচের পরিস্থিতি এবং উইকেট দেখে সিদ্ধান্ত নেব। প্রথম টেস্টে আমরা যে ভাবে খেলেছি, সেই আত্মবিশ্বাস অবশ্যই আমাদের রয়েছে। কিন্তু প্রতিটি ম্যাচই নতুন চ্যালেঞ্জ নিয়ে আসে।’
ভারতের লক্ষ্য নিয়ে তিনি বলেন, ‘বিদেশের মাটিতে সিরিজ জেতা সব সময়ই বিশেষ। আমরা এখন একটি করে ম্যাচ নিয়েই ভাবছি। প্রথম টেস্টে যা হয়েছে, তা এখন অতীত। এ বার আমাদের সমস্ত মনোযোগ থাকবে দ্বিতীয় টেস্টে’।
অন্য দিকে, সিরিজে হার এড়াতে হলে কলম্বোয় জয়ের বিকল্প নেই শ্রীলঙ্কার। প্রথম টেস্টে ঘরের মাঠে হার তাদের চাপে ফেলে দিয়েছে। ফলে দ্বিতীয় ম্যাচে ব্যাটারদের থেকে অনেক বেশি দায়িত্বশীল পারফরম্যান্স চান শ্রীলঙ্কার অধিনায়ক।
প্রথম টেস্টে ভারতের বিরুদ্ধে লড়াই করার মতো রানই তুলতে পারেনি শ্রীলঙ্কা। টপ অর্ডারের ব্যর্থতাই তাদের সবচেয়ে বড় চিন্তার জায়গা। দ্বিতীয় টেস্টের আগে তাই দলকে ঘুরে দাঁড়ানোর বার্তা দিয়েছেন অধিনায়ক।
অধিনায়ক ধনঞ্জয় ডিসিলভার কথায়, ‘প্রথম ম্যাচে আমরা আমাদের সেরা ক্রিকেট খেলতে পারিনি। কিন্তু একটি ম্যাচের ফল দিয়ে গোটা সিরিজ বিচার করা যায় না। দ্বিতীয় টেস্টে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ রয়েছে এবং আমরা সেই সুযোগ কাজে লাগাতে চাই’।
শ্রীলঙ্কার কোচিং শিবির থেকেও একই সুর শোনা যাচ্ছে। ঘরের মাঠে ভারতের মতো শক্তিশালী দলের বিরুদ্ধে খেলতে হলে ছোট ছোট ভুলের জায়গা নেই বলেই মনে করছে তারা। ব্যাটিংয়ে বড় পার্টনারশিপ এবং বোলিংয়ে নিয়মিত চাপ বজায় রাখাই তাদের মূল লক্ষ্য।
ভারতের জন্য অবশ্য সুখবর, প্রথম টেস্টে দাপুটে পারফরম্যান্সের পরে দলের অধিকাংশ ক্রিকেটারই ছন্দে রয়েছেন। পাডিক্কলের ১৬৭ ভারতীয় ব্যাটিংয়ের অন্যতম বড় প্রাপ্তি। ধ্রুব জুরেলও গুরুত্বপূর্ণ সময়ে রান করে নিজের জায়গা আরও মজবুত করেছেন।
এ বার কলম্বোয় ভারত যদি জয় তুলে নিতে পারে, তা হলে ২০২৩ সালের পর বিদেশের মাটিতে প্রথম টেস্ট সিরিজ জয়ের পাশাপাশি শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে নতুন অধিনায়ক শুভমান গিলের নেতৃত্বে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তাও দিতে পারবে।
প্রথম টেস্টে জয় ভারতকে এগিয়ে রেখেছে ঠিকই। কিন্তু সিরিজের শেষ ম্যাচে ঘরের মাঠে চাপে থাকা শ্রীলঙ্কাকে হালকা ভাবে নেওয়ার কোনও সুযোগ নেই। এক দিকে তিন বছর পর বিদেশে সিরিজ জয়ের স্বপ্ন, অন্য দিকে ঘরের মাঠে সম্মান বাঁচানোর লড়াই— কলম্বোর দ্বিতীয় টেস্ট তাই শুধু সিরিজের শেষ ম্যাচ নয়, দুই দলের কাছেই বড় পরীক্ষার মঞ্চ।




