আইপিএলে দুরন্ত ফর্মে নজর কেড়েছিলেন তরুণ ব্যাটার বৈভব সূর্যবংশী। তবে ভারত ‘এ’ দলের জার্সিতে অভিষেক ম্যাচে সেই ছন্দের দেখা মিলল না। বৈভবের ব্যর্থতা অবশ্য বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়নি। অধিনায়ক তিলক ভার্মা এবং রুতুরাজ গায়কোয়াড়ের দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি বোলারদের নিয়ন্ত্রিত পারফরম্যান্সে ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রথম ম্যাচে শ্রীলঙ্কা ‘এ’ দলকে হারিয়ে শুভসূচনা করল ভারত ‘এ’।
মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত ম্যাচে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন ভারত ‘এ’ দলের অধিনায়ক তিলক ভার্মা। ইনিংসের শুরুতে ওপেন করতে নেমে আগ্রাসী মেজাজে ব্যাট করতে দেখা যায় বৈভবকে। এক ওভারে টানা তিনটি বাউন্ডারি হাঁকিয়ে নিজের ইঙ্গিতও দিয়েছিলেন তিনি। তবে সেই সূচনা বড় ইনিংসে পরিণত করতে পারেননি। মাত্র ১৪ রান করে প্যাভিলিয়নে ফিরে যান তরুণ ব্যাটার।
বৈভব দ্রুত আউট হলেও ইনিংসের হাল ধরেন রুতুরাজ গায়কোয়াড়। ধৈর্য ও আক্রমণের নিখুঁত মিশেলে তিনি ১০১ রানের অনবদ্য শতরান করেন। অন্যদিকে অধিনায়ক তিলক ভার্মাও গুরুত্বপূর্ণ ৬০ রান যোগ করেন। তাঁদের জুটির উপর ভর করেই নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ২৭৭ রানের প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক স্কোর গড়ে তোলে ভারত।
২৭৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শ্রীলঙ্কা ‘এ’ দল শুরুটা ভালোই করেছিল। কিন্তু ভারতীয় বোলাররা নিয়মিত বিরতিতে উইকেট তুলে ম্যাচে প্রত্যাবর্তন করেন। ১০৯ রানের মধ্যেই তিন উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় শ্রীলঙ্কা।
এরপর ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন কলকাতা নাইট রাইডার্সের স্পিনার অনুকূল রায়। পরপর দুই গুরুত্বপূর্ণ উইকেট তুলে তিনি প্রতিপক্ষের রান তোলার গতি থামিয়ে দেন। তাঁর আঘাতের পর শ্রীলঙ্কার ব্যাটিং লাইন-আপ আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। নিয়মিত ব্যবধানে উইকেট হারাতে থাকে তারা।
শেষ পর্যন্ত ২৬৯ রানে অলআউট হয়ে যায় শ্রীলঙ্কা ‘এ’। ফলে ৮ রানের রুদ্ধশ্বাস জয় তুলে নেয় ভারত ‘এ’ দল।
ভারতের হয়ে বল হাতে সমান সাফল্য পেয়েছেন একাধিক বোলার। আর্শাদ খান, অনুকূল রায়, আয়ুশ বাদোনি এবং বিপ্রাজ নিগম প্রত্যেকে দুটি করে উইকেট দখল করেন। তবে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে অনুকূলের জোড়া উইকেট ম্যাচের অন্যতম টার্নিং পয়েন্ট হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রথম ম্যাচেই ব্যাট ও বল হাতে ভারসাম্যপূর্ণ পারফরম্যান্স দেখিয়ে আত্মবিশ্বাসী সূচনা করল ভারত ‘এ’ দল।




