লর্ডসের অনার্স বোর্ডে নাম ওঠা যে কোনও ক্রিকেটারের কাছেই স্বপ্নের। আর সেই স্বপ্নই বাস্তবে রূপ দিলেন ভারতের তরুণী পেসার ক্রান্তি গৌড়। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে একমাত্র মহিলা টেস্টের দ্বিতীয় দিনে ১৭ ওভারে ৩৭ রান দিয়ে ৫ উইকেট তুলে নিয়ে ইতিহাস গড়েছেন তিনি।
লর্ডসে পাঁচ উইকেট নেওয়া প্রথম মহিলা ক্রিকেটার হিসেবে তাঁর নাম খোদাই করা থাকবে অনার্স বোর্ডে। সেই ঐতিহাসিক কীর্তির পর আবেগ লুকিয়ে রাখতে পারলেন না ২২ বছরের এই পেসার। ম্যাচ শেষে ক্রান্তি বলেন, “লর্ডসের অনার্স বোর্ডে আমার নাম উঠবে, এটা ভাবতেই ভীষণ গর্ব হচ্ছে। এই অনুভূতিটা ভাষায় প্রকাশ করা খুব কঠিন। আমি সত্যিই অত্যন্ত খুশি।”
এই কৃতিত্বের নেপথ্যে নিজের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। বলেন, “আমি শুধু ঠিক জায়গায় বল করার চেষ্টা করেছি। উইকেট থেকে কিছুটা সাহায্য মিলছিল, তাই ধৈর্য ধরে একই জায়গায় বল করে গিয়েছি। শেষ পর্যন্ত তারই ফল পেয়েছি।” ইংল্যান্ডের ব্যাটারদের বিরুদ্ধে সফল হওয়ার রহস্য প্রসঙ্গে ক্রান্তি বলেন, “আমাদের পরিকল্পনা ছিল অফ স্টাম্পের বাইরে ধারাবাহিকভাবে বল করা এবং ব্যাটারদের ভুল করতে বাধ্য করা। আমরা সেই পরিকল্পনাতেই অটল ছিলাম।”
ভারতের বোলিং কোচ ও সিনিয়র ক্রিকেটারদের কাছ থেকে পাওয়া সাহায্যের কথাও উল্লেখ করেন ক্রান্তি। বলেন, “সিনিয়ররা এবং কোচিং স্টাফ আমাকে সব সময় সমর্থন করেছেন। তাঁরা শুধু একটা কথাই বলেছিলেন— নিজের শক্তির উপর ভরসা রাখো এবং স্বাভাবিক ক্রিকেট খেলো। আমি সেটাই করার চেষ্টা করেছি।”
ক্রান্তির আগুনে স্পেলে মাত্র ১৭০ রানে গুটিয়ে যায় ইংল্যান্ড। প্রথম ইনিংসে ১১৫ রানের গুরুত্বপূর্ণ লিড পায় ভারত। এরপর দ্বিতীয় ইনিংসেও স্মৃতি মন্ধানার অপরাজিত অর্ধশতরানে ম্যাচের রাশ আরও শক্ত করে ধরে সফরকারীরা।
লর্ডসের মতো ঐতিহাসিক মাঠে এমন কীর্তি শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, ভারতীয় মহিলা ক্রিকেটের জন্যও এক নতুন মাইলফলক। ক্রিকেটের ‘মক্কা’য় অনার্স বোর্ডে এবার উজ্জ্বল হয়ে থাকবে আর এক ভারতীয়র নাম— ক্রান্তি গৌড়।




