ভারত ও পাকিস্তানের সঙ্গে রাজনৈতিক ব্যবধান তৈরি হওয়ায় তার প্রভাব পড়েছে খেলার ময়দানে। যার ফলে বিভিন্ন টুর্নামেন্টে ভারত-পাকিস্তানের খেলা নিয়ে নানারকম টানাপোড়েন চলছে। গত বছর পহেলগাম কাণ্ডের পরে পাকিস্তানের সঙ্গে ভারত যেমন খেলবে না তাদের দেশের মাটিতে, তেমনই আবার পাকিস্তানও অনিচ্ছা প্রকাশ করেছে ভারতের মাটিতে খেলতে। তাই আগামী দিনে আইসিসি টুর্নামেন্ট ভারতের মাটিতে হবে কিনা, তা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়ে গিয়েছে। যেমন ২০২৯ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি এবং ২০৩১ একদিনের বিশ্বকাপ ভারত থেকে সরিয়ে নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে আইসিসি। ভারত ও পাকিস্তান পরস্পরের দেশে খেলতে অস্বীকার করায় বড় টুর্নামেন্ট আয়োজনের ক্ষেত্রে লজিস্টিক সমস্যা তৈরি হচ্ছে। সেই কারণেই বিকল্প আয়োজক খোঁজা। সম্ভাব্য গন্তব্য হিসেবে উঠে আসছে অস্ট্রেলিয়ার নাম। যাদের ২০১৫ সালে একদিনের বিশ্বকাপ এবং ২০২২ সালে টি-২০ বিশ্বকাপ আয়োজনের অভিজ্ঞতাও রয়েছে।
একটা সময় ভারত ও পাকিস্তান আগেই আইসিসির সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছেছিল—দুই দেশ একে অপরের মাটিতে বৈশ্বিক টুর্নামেন্ট খেলবে না। ২০২৫ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে পাকিস্তানে যেতে অস্বীকার করে টিম ইন্ডিয়া। সেই সূত্রেই ‘হাইব্রিড মডেল’ তৈরি। চুক্তিটি ২০২৭ পর্যন্ত কার্যকর থাকার কথা থাকলেও, তা ভবিষ্যৎ টুর্নামেন্ট পর্যন্ত বাড়তে পারে বলে ইঙ্গিত মিলছে। এরই মধ্যে নতুন মাত্রা যোগ করেছে বাংলাদেশ। ২০২৬ টি-২০ বিশ্বকাপে ভারতে খেলতে অস্বীকার করে সরে দাঁড়ায় তারা। আইসিসি শ্রীলঙ্কায় ম্যাচ সরাতে রাজি না হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়।
Advertisement
এশিয়া কাপ ও সাম্প্রতিক টি-২০ বিশ্বকাপে ভারতীয় দল পাকিস্তানের সঙ্গে করমর্দন এড়িয়ে যায়। মাঠের বাইরের উত্তেজনা মাঠেও ছাপ ফেলেছে—এমনটাই মত বিশ্লেষকদের একাংশের। ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের অবস্থান আইসিসিকে বিকল্প পরিকল্পনা ভাবতে বাধ্য করছে। ভবিষ্যৎ বৈশ্বিক টুর্নামেন্ট যাতে রাজনৈতিক অচলাবস্থার শিকার না হয়, তার জন্য বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
Advertisement
Advertisement



