চলতি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সুপার-এইটে মরণ-বাঁচন লড়াইয়ে ভারতের সঙ্গে মুখোমুখি হয়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। গত রবিবার ইডেন উদ্যানে রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজের শেষ চারে খেলার স্বপ্ন ভেস্তে গিয়েছে ভারতের কাছে হেরে গিয়ে। সুপার-এইট পর্বে দু’টি ম্যাচ হেরে যাওয়ার ফলে পয়েন্টের টেবিলে ওয়েস্ট ইন্ডিজ তৃতীয় স্থানে। তবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ হারলেও খালি হাতে দেশে ফিরছে না। আইসিসি ওয়েস্ট ইন্ডিজকে মোটা অঙ্কের টাকার আর্থিক পুরস্কার দিতে চলেছে। বলতে পারা যায়, ওয়েস্ট ইন্ডিজের চওড়া কপাল।
আইসিসি-র নিয়মানুসারে বিশ্বকাপ ক্রিকেটে সুপার-এইট পর্ব থেকে বিদায় নেওয়া দলগুলো টুর্নামেন্ট থেকে প্রায় ৩.৫ কোটি টাকা পুরস্কার হিসেবে দেওয়া হয়ে থাকে। অবশ্য তাদের পঞ্চম থেকে অষ্টম স্থানে থাকতে হবে। শুধু তাই নয়, গ্রুপ পর্ব ও সুপার এইট মিলিয়ে প্রতিটি জয়ের জন্য আলাদা আলাদা বোনাস দেওয়া হয়ে থাকে। এবারে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল পাঁচটা ম্যাচে জিতেছে। আইসিসি প্রতিটি জয়ী ম্যাচের জন্য ২৮ লক্ষ টাকা করে আর্থিক পুরস্কার দিয়ে থাকে। সেই হিসেব অনুযায়ী পাঁচটি ম্যাচের জন্য ওয়েস্ট ইন্ডিজ আরও ১.৫ কোটি টাকা পাবে। সব মিলিয়ে বলতে পারা যায়, এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে ওয়েস্ট ইন্ডিজ বিদায় নিলেও, এই প্রতিযোগিতা থেকে পাঁচ কোটি টাকা নিয়ে তারা দেশে ফিরছে। তাই এক কথায় বলা যায়, বিদায় নিলেও আর্থিক পুরস্কারে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের কপাল চওড়া হয়েছে।
Advertisement
অন্যদিকে, বিশ্বকাপ ক্রিকেটে চরম ব্যর্থতার জন্য পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড বাবর আজমের উপরে কড়া শাস্তি প্রয়োগ করছে। যেহেতু বাবর ও রিজওয়ানরা বিদায় নিয়েছেন, তাঁদের আর্থিক অনুদানও কমিয়ে দেওয়া হচ্ছে। লজ্জাজনক পারফরম্যান্সের জন্য পাক ক্রিকেটারদের ৫০ লক্ষ পাকিস্তানি টাকা জরিমানা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড। সাধারণত, জয়ের জন্য পুরস্কার দেওয়া হলেও হারের কারণে এমন আর্থিক দণ্ড দেখা যায় না।
Advertisement
বিশ্ব ক্রিকেটে পাকিস্তান বোর্ডের কর্মকর্তারা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ভারতের কাছে হারার কারণেই এই রকম কঠিন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বোর্ডের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এখন থেকে মাঠের পারফরম্যান্সের উপর ভিত্তিতেই বেতন ও বোনাস দেওয়া হবে। এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তানের পারফরম্যান্স ছিল একেবারেই জঘন্য। সাহেবজাদা ফারহান ছাড়া তাঁদর দলের কোনও ক্রিকেটার শতরানের গণ্ডি পার হতে পারেননি। এই ব্যর্থতার জন্যই তাঁদের বেতন ও ম্যাচ ফি-র অর্থ কেটে নেওয়া হচ্ছে। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের এই সিদ্ধান্তে এখন রীতিমতো ব্যাকফুটে চলে গিয়েছেন ক্রিকেটাররা।
Advertisement



