ফুটবলের জন্মভূমি ইংল্যান্ড। কিন্তু বিশ্বকাপ জয়ের ইতিহাসে তাদের সাফল্য বলতে শুধুই ১৯৬৬ সালে সেই একবারের ট্রফি। এর পর বহুবার আশা জাগিয়েও শেষ মুহূর্তে ব্যর্থ হয়েছে ‘থ্রি লায়ন্স’। ২০২৬ বিশ্বকাপের আগে প্রতিবারের মতো ফের একবার নতুন করে স্বপ্ন দেখছেন ইংল্যান্ড সমর্থকেরা। নতুন কোচ থমাস টাচেলের নেতৃত্বে এবার কি দীর্ঘ ৬০ বছরের ট্রফি-খরা কাটাতে পারবে ইংল্যান্ড?
উত্তর আমেরিকায় এই বিশ্বকাপে ইংল্যান্ড রয়েছে গ্রুপ ‘এল’-এ। তাদের প্রতিপক্ষ ক্রোয়েশিয়া, ঘানা এবং পানামা। কাগজে-কলমে ইংল্যান্ড গ্রুপের অন্যতম ফেভারিট হলেও ক্রোয়েশিয়ার মতো অভিজ্ঞ দলের বিরুদ্ধে শুরু থেকেই তাদের জন্য কঠিন পরীক্ষা অপেক্ষা করছে।
দলের সবচেয়ে বড় ভরসা অধিনায়ক ও তারকা স্ট্রাইকার হ্যারি কেইন। বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম ধারাবাহিক গোলদাতার উপরই আক্রমণভাগের বড় দায়িত্ব থাকবে। কোচ টাচেল সম্প্রতি জানিয়েছেন, কেইন এখন দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছেন এবং শারীরিকভাবে নিজের সেরা অবস্থায় আছেন।
মিডফিল্ডে নজর থাকবে জুড বেলিংহামের দিকে। যদিও টাচেল স্পষ্ট করে দিয়েছেন, দলে প্রতিযোগিতা এতটাই তীব্র যে, কোনও খেলোয়াড়ের জায়গাই নিশ্চিত নয়। বেলিংহ্যামকে নিয়মিত প্রথম একাদশে থাকার জন্যও লড়াই করতে হবে।
এ ছাড়া ইংল্যান্ডের তরুণ প্রতিভাদের মধ্যে বিশেষ নজর থাকবে নিকো ও’রিলির উপর। ম্যানচেস্টার সিটির এই উদীয়মান ফুটবলারকে ভবিষ্যতের বড় তারকা হিসেবে দেখা হচ্ছে এবং নিজেকে প্রমাণ করার আদর্শ মঞ্চ হয়ে উঠতে পারে এই বিশ্বকাপ।
বিশ্বকাপের আগে ফ্লোরিডায় বিশেষ প্রস্তুতি শিবির করছে ইংল্যান্ড। উত্তর আমেরিকার গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার জন্য কঠোর অনুশীলন চলছে। প্রস্তুতি ম্যাচে নিউজিল্যান্ডকে ১-০ গোলে হারিয়ে আত্মবিশ্বাসও বাড়িয়েছে দল।
গত কয়েকটি বড় টুর্নামেন্টে ইংল্যান্ড ধারাবাহিকভাবে সেমিফাইনাল ও ফাইনালের কাছাকাছি পৌঁছেছে। কিন্তু ট্রফি জেতার শেষ ধাপটা এখনও অতিক্রম করা যায়নি। ২০২৬ বিশ্বকাপে তাই শুধু ভালো ফুটবল খেলাই নয়, ইতিহাস গড়ার লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামবে ‘থ্রি লায়ন্স’। আর সমর্থকদের আশা, ১৯৬৬ সালের পর অবশেষে আবারও বিশ্বকাপ ট্রফি উঠবে ইংল্যান্ডের হাতে।




