ডালাসে ইতিহাস গড়ল মিশর। অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ১-১ ড্র করার পর টাইব্রেকারে ৪-২ ব্যবধানে হারিয়ে এই প্রথম বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জয়ের স্বাদ পেল ‘ফারাওরা’। শেষ ষোলোয় তাদের সামনে এ বার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা।
গত ম্যাচে নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে বিশ্বকাপের মঞ্চে প্রথম জয় তুলে নিয়েছিল মিশর। এবার অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে সেই সাফল্যে নতুন মাত্রা যোগ করল তারা। টাইব্রেকারে অস্ট্রেলিয়ার হ্যারি সাউতার ও লুকাস হেরিংটন স্পট-কিক থেকে গোল করতে ব্যর্থ হন, আর হোসাম আবদেলমাগুইদের সফল শটেই নিশ্চিত হয় মিশরের ঐতিহাসিক জয়।
নির্ধারিত সময়ের শুরুতেই এমাম আশৌরের গোলে এগিয়ে গিয়েছিল মিশর। তবে দ্বিতীয়ার্ধে মোহাম্মদ হানির আত্মঘাতী গোলে সমতায় ফেরে অস্ট্রেলিয়া। এরপর হাড্ডাহাড্ডি লড়াই গড়ায় টাইব্রেকারে। সেখানে হোসাম হাসানের অপরাজিত দল স্নায়ুর লড়াইয়ে জয় তুলে নিয়ে শেষ ষোলোয় জায়গা নিশ্চিত করে। ৭ জুলাই আটলান্টায় শেষ ষোলোর ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ হবে গতবারের বিশ্বকাপজয়ী আর্জেন্টিনা।
স্মরণীয় জয়ের পর মিশরের ফরোয়ার্ড মোহাম্মদ সালাহ বলেন, “আজ আমার জীবনের সেরা দিনগুলোর একটি। নিজের দেশের হয়ে ইতিহাস গড়তে পেরেছি। আমি সবসময় নিজের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করি। চোট নিয়েও খেলেছি। সতীর্থদের নিয়ে আমি ভীষণ গর্বিত। আমি সবসময় ছেলেদের বলি, এই মুহূর্তটা উপভোগ করো। আমরা কতবার বিশ্বকাপে খেলেছি, জানি না। কিন্তু এর আগে কখনও গ্রুপ পর্ব পেরোতে পারিনি। এবার আমরা পরের রাউন্ডে উঠেছি। এটা সেলিব্রেট করার মতো এক মুহূর্ত।”
মিশরের মিডফিল্ডার হাইসেম হাসানও উচ্ছ্বসিত। বলেন, “আমরা ম্যাচটা ভালোভাবেই শুরু করেছিলাম এবং এগিয়েও গিয়েছিলাম। কিন্তু ওরা সমতায় ফিরে আসে। আমরা জানতাম, ম্যাচটা কঠিন হবে, কারণ অস্ট্রেলিয়া শারীরিক শক্তির ওপর নির্ভরশীল একটি দল। তাদের দারুণ স্ট্যামিনা আছে, আর খেলোয়াড়রা খুবই দ্রুতগতির ও শক্তিশালী। আমরা এটাও জানতাম, ফ্রি-কিক ও কর্নারের সময় ওদের উচ্চতা আমাদের বড় চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেবে। সত্যিই এটা অবিশ্বাস্য অনুভূতি। কারণ, সবাই জানেন, আজ আমরা মিশরের ১২ কোটি মানুষকে আনন্দ দিতে পেরেছি। আজ পুরো দেশজুড়েই এই আমাদের সাফল্য উদযাপন হবে। প্রতিটি ফুটবলারেরই ছোটবেলা থেকে এমন একটি মুহূর্তের স্বপ্ন থাকে। আজ সেই স্বপ্নই যেন সত্যি হলো।”
তবে এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে তৈরি হয় উত্তপ্ত পরিস্থিতি। ডালাসে মিশরের টিম হোটেলের সামনে মিশরীয় তারকা ত্রেজেগের সঙ্গে ছবি তুলতে চেয়েছিল এক খুদে সমর্থক। কিন্তু ছবি তোলার সময় পুলিশ বাধা দিলে শুরু হয় তুমুল বচসা। পরে তা ধাক্কাধাক্কি ও হাতাহাতির পর্যায়ে চলে যায়। সোশাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া ভিডিওয় দেখা যায়, প্রথমে ছবি তোলা নিয়ে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। পরে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়। পরে অবশ্য পরিস্থিতি শীঘ্রই নিয়ন্ত্রণে আসে।
আর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, পুলিশের আচরণে চটে যান মিশরের কোচ হোসাম হাসানের ভাই ও কোচিং স্টাফের সদস্য ইব্রাহিম হাসান। তাঁরা পুলিশের আচরণের প্রতিবাদ করলে এক পর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে। পরে মিশরের হেডকোচ হোসাম হাসানও ঘটনাস্থলে এসে জড়িয়ে পড়েন। ভাইরাল ভিডিওয় দেখা গিয়েছে, তাঁর সঙ্গেও বেশ কয়েকজন পুলিশ কর্মীর হাতাহাতি পরিস্থিতি তৈরি হয়।মিশর ফুটবল সংস্থা অবশ্য সংঘর্ষের খবর অস্বীকার করেছে। ঘটনাটিকে ‘ছোটখাট বচসা’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। তাদের দাবি, দ্রুতই বিতর্কের নিষ্পত্তি ঘটে।
অন্যদিকে, কানসাস সিটি স্টেডিয়ামে শেষ বত্রিশের ম্যাচে ঘানাকে হারিয়ে শেষ ষোলোয় জায়গা নিশ্চিত করেছে কলম্বিয়া। এই বিশ্বকাপে তাদের ‘ডার্ক হর্স’ তকমা দিয়ে যে বিশেষজ্ঞরা ভুল করেননি, তা-ই বুঝিয়ে দিল নেস্তর লরেঞ্জোর দল। গ্রুপ লিগে পর্তুগালকে পিছনে ফেলে শীর্ষস্থান দখল করা কলম্বিয়া এ দিনও ছিল অনেক বেশি সংগঠিত ও আত্মবিশ্বাসী। প্রথমার্ধে জন আরিয়াসের করা একমাত্র গোলই জয়ের জন্য যথেষ্ট ছিল। এই জয়ের ফলে শেষ ষোলোয় সুইৎজারল্যান্ডের মুখোমুখি হবে কলম্বিয়া।




