একদিকে প্রায় ৮০ শতাংশ বলের দখল, অন্যদিকে একের পর এক গোলের সুযোগ। কিন্তু সেই আধিপত্যের প্রতিফলন ইস্টবেঙ্গলের স্কোরলাইনে দেখা গেল না। পি ভি বিষ্ণুর প্রথমার্ধের হেডারই শেষ পর্যন্ত পার্থক্য গড়ে দেয়।
যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে ডুরান্ড কাপের কোয়ার্টার ফাইনালে লড়াকু ইন্ডিয়ান আর্মি এফটিকে ১-০ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনালে উঠল ইস্টবেঙ্গল। সেমিফাইনালে তারা খেলবে এসসি দিল্লির বিরুদ্ধে।
আজ, সোমবার বিকেলে শেষ চারে ওঠার লড়াইয়ে নামবে মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট। তাদের প্রতিপক্ষ জামশেদপুর এফসি।
বেশ কষ্ট করেই কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠা ইস্পাতনগরীর দল সম্প্রতি চার্চিল ব্রাদার্স-এর হস্তক্ষেপে আইএসএল-এ খেলা নিয়ে আশার আলো দেখতে পেয়ে চাঙ্গা হয়ে উঠেছে। আজ জেমি ম্যাকলারেনদের হারাতে পারলে উৎসাহ আরো বাড়বে তাদের।
রবিবার শুরু থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেয় লাল-হলুদ। আক্রমণাত্মক ৪-২-৩-১ ছকে দল সাজিয়েছিলেন ইস্টবেঙ্গলের কোচ। সামনে ডেভিড লালনসাঙ্গা, তাঁর পিছনে দানি রামিরেজ, ক্রিস্টোফার ইকোনোমিডিস এবং বিষ্ণু। মাঝমাঠে রোহিত কুমার ও মহম্মদ বাসিম রশিদ।
২৯ মিনিটে ম্যাচের অন্যতম সহজ সুযোগ নষ্ট করেন বিষ্ণু। জয় গুপ্তার নিখুঁত ক্রস থেকে প্রায় একা গোলকিপারের সামনে বল পেয়েও তাঁর নিচু শট সোজা গিয়ে ঠাকুরির হাতে জমা পড়ে।
তবে নিজের ভুল শুধরে নিতে বেশি সময় নেননি বিষ্ণু। ৩৮ মিনিটে ইকোনোমিডিসের ডান দিক থেকে ভেসে আসা ক্রসে সকলের উপরে উঠে দুর্দান্ত হেডে বল জালে জড়িয়ে দেন তিনি। ডান দিকের কোণে তাঁর হেডারে ঠাকুরি আঙুলের ডগা ছোঁয়ালেও গোল বাঁচাতে পারেননি। ১-০ এগিয়ে যায় ইস্টবেঙ্গল।
বিরতির পর আর্মি কিছুটা বেশি আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলার চেষ্টা করে। কিন্তু তারা প্রতিপক্ষের গোলের ঠিকানা খুঁজে পায়নি। বরং দ্বিতীয়ার্ধে ব্যবধান বাড়ানোর একাধিক সুযোগ পেয়েছিল লাল-হলুদ। কিন্তু সেগুলি কাজে লাগাতে পারেনি তারা।
শেষ দশ মিনিটে যেন গোল নষ্টের প্রতিযোগিতা শুরু হয় ইস্টবেঙ্গলের। ম্যাচের অধিকাংশ সময় বলের দখল নিজেদের কাছে রেখেও এক গোলের বেশি করতে পারেনি ইস্টবেঙ্গল। অসংখ্য সহজ সুযোগ নষ্ট না হলে জয়ের ব্যবধান আরও অনেক বড় হতে পারত।
আজ মোহনবাগানের পরীক্ষা
গ্রুপ এ-তে নিজেদের তিনটি ম্যাচই জিতে পুরো ৯ পয়েন্ট নিয়ে পরের রাউন্ডে উঠেছে মোহনবাগান। শুধু জয়ই নয়, তিন ম্যাচে একটিও গোল হজম করেনি তারা। টুর্নামেন্টে এখনও পর্যন্ত চারটি দল নিখুঁত রেকর্ড নিয়ে গ্রুপ পর্ব শেষ করেছে, যার মধ্যে রয়েছে মোহনবাগানও। ফলে সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সের বিচারে জামশেদপুরের থেকে অনেকটাই এগিয়ে মেরিনার্স।
মোহনবাগানের সাফল্যের অন্যতম কারণ তাদের ভারসাম্যপূর্ণ স্কোয়াড। রক্ষণে অধিনায়ক শুভাশিস বসুর অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্বের পাশাপাশি মেহতাব সিং এবং আলবার্তো রদ্রিগেজের মতো ফুটবলার রয়েছেন। গোলের নিচে বিশাল কাইথও দুর্দান্ত ফর্মে।
আক্রমণভাগেও শক্তিশালী মোহনবাগান। টুর্নামেন্টে মনবীর সিং এবং সহাল আবদুল সামাদ দু’জনেই চারটি করে গোল করেছেন। তবে এই ম্যাচে মিগুয়েল ফিগেরা অনিশ্চিত তার কোমরের চোটের জন্য।
দুই ম্যাচে জয় এবং +১০ গোল পার্থক্য সেরা দুই রানার্স-আপের একটি হিসেবে শেষ আটে জায়গা করে দিয়েছে জামশেদপুরকে।
রক্ষণে নিখিল বার্লা ও তাঁর সতীর্থদের সামনে থাকবে মোহনবাগানের শক্তিশালী আক্রমণভাগকে আটকানোর বড় চ্যালেঞ্জ। মাঝমাঠে প্রণয় হালদারের অভিজ্ঞতা জামশেদপুরকে বলের দখল সামলাতে সাহায্য করতে পারে।




