• facebook
  • twitter
  • youtube
Tuesday, 28 July, 2026

গ্লাসগোয় কঠিন চ্যালেঞ্জের সামনে, তবু সোনা ফেরাতে আত্মবিশ্বাসী ভারতের জ্যাভলিন তারকা

গ্রেনাডার প্রাক্তন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন অ্যান্ডারসন পিটার্স, ত্রিনিদাদ ও টোবাগোর অলিম্পিক চ্যাম্পিয়ন কেশর্ন ওয়ালকট এবং চলতি মরসুমে বিশ্বের সেরা থ্রো করা শ্রীলঙ্কার রুমেশ থারাঙ্গা পাথিরাগে। ভারতের হয়ে নীরজ ছাড়াও জ্যাভলিন ইভেন্টে অংশ নেবেন রোহিত যাদব এবং যশবীর সিং।

গ্লাসগোয় কঠিন চ্যালেঞ্জের সামনে, তবু সোনা ফেরাতে আত্মবিশ্বাসী ভারতের জ্যাভলিন তারকা

Photo: X

দীর্ঘ আট বছর পর কমনওয়েলথ গেমসে ফিরছেন ভারতের অলিম্পিক ও বিশ্বচ্যাম্পিয়ন নীরজ চোপড়া। তাই এ বার কমনওয়েলথ গেমসে জ্যাভলিন থ্রো হতে চলেছে অন্যতম আকর্ষণের কেন্দ্র। তবে সোনা জয়ের পথে যে কঠিন চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে, তা নিজেই স্বীকার করে নিয়েছেন ভারতীয় তারকা।

২০১৮-য় গোল্ড কোস্ট কমনওয়েলথ গেমসে সোনা জিতেছিলেন নীরজ। কিন্তু চোটের কারণে ২০২২- এর বার্মিংহাম গেমসে অংশ নিতে পারেননি। এবার গ্লাসগোয় ফিরে নিজের খেতাব বজায় রাখার লক্ষ্যে নামছেন তিনি।

নিজের লক্ষ্য নিয়ে নীরজ বলেছেন, ‘এবারের প্রতিযোগিতার মান সত্যিই খুব ভালো। আমার মনে হয়, জ্যাভলিন ইভেন্টে এবার ভীষণ কঠিন লড়াই হবে। কারণ এখানে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপের একাধিক সোনাজয়ী, অলিম্পিকের একাধিক সোনাজয়ী এবং কমনওয়েলথ গেমস ও এশিয়ান গেমসের পদকজয়ীরাও অংশ নিচ্ছে। তাই প্রতিযোগিতা অত্যন্ত কঠিন হতে চলেছে। তাছাড়া প্রায় প্রত্যেকেই ডায়মন্ড লিগে নিয়মিত নামে। ফলে দর্শকেরাও দারুণ মানের একটি প্রতিযোগিতা উপভোগ করতে পারবেন’।

তবে কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতা নিয়ে কোনও বাড়তি চাপ নিচ্ছেন না তিনি। নীরজের কথায়, ‘আমি সবসময় নিজের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করি। ফলাফল নিয়ে অতিরিক্ত ভাবি না। মাঠে নেমে ১০০ শতাংশ উজাড় করে দেওয়াই আমার লক্ষ্য’।

গ্লাসগোয় নীরজের সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানের বর্তমান কমনওয়েলথ গেমস ও অলিম্পিক চ্যাম্পিয়ন আরশাদ নাদিম। এ ছাড়া গ্রেনাডার প্রাক্তন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন অ্যান্ডারসন পিটার্স, ত্রিনিদাদ ও টোবাগোর অলিম্পিক চ্যাম্পিয়ন কেশর্ন ওয়ালকট এবং চলতি মরসুমে বিশ্বের সেরা থ্রো করা শ্রীলঙ্কার রুমেশ থারাঙ্গা পাথিরাগে। ভারতের হয়ে নীরজ ছাড়াও জ্যাভলিন ইভেন্টে অংশ নেবেন রোহিত যাদব এবং যশবীর সিং।

কমনওয়েলথ গেমস তাঁর কেরিয়ারে যে বিশেষ জায়গা জুড়ে রয়েছে, তা জানিয়ে নীরজ বলেন, ‘কমনওয়েলথ গেমসকে ঘিরে আমার অনেক ভালো স্মৃতি রয়েছে। এটাই ছিল আমার প্রথম সিনিয়র প্রতিযোগিতা— প্রথমবার সিনিয়র পর্যায়ে আমি কমনওয়েলথ গেমসেই খেলেছিলাম। সেই যাত্রার শুরুটা সোনার পদক জয়ের মাধ্যমে হওয়ায় স্মৃতিটা আরও বিশেষ। দেশের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ যখনই পাই, সেই প্রতিটি প্রতিযোগিতাই আমার কাছে বড় মঞ্চ। তাই অবশেষে আবার মাঠে ফিরতে পেরে এবং নিজেকে বেশ ভালো অনুভব করতে পেরে খুব ভালো লাগছে’।

সম্প্রতি নীরজ ৯০ মিটারের গণ্ডিও পেরিয়ে গিয়েছেন। কিন্তু সেই মাইলফলক নিয়ে তাঁর বাড়তি উৎসাহ নেই। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, ‘আমার মাথায় একটাই বিষয় থাকে—অনুশীলনের মাধ্যমে যে প্রস্তুতি নিয়েছি এবং যে টেকনিক নিয়ে এতদিন কাজ করেছি, প্রতিযোগিতার দিন সেটাই যেন ঠিকভাবে প্রয়োগ করতে পারি। এর বাইরে আলাদা করে কোনও নির্দিষ্ট লক্ষ্য মাথায় থাকে না। আমি যখনই প্রতিযোগিতায় নামি, তখন সবসময় নিজের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করি এবং সেদিন ১০০ শতাংশ উজাড় করে দিই’।

গ্লাসগোর আবহাওয়া জ্যাভলিনের পক্ষে খুব একটা সুবিধাজনক নয়। যা নিয়ে অবশ্য বিশেষ চিন্তিত নন তারকা জ্যাভেলিন থ্রোয়ার। তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ, এখানকার আবহাওয়া খুব একটা অনুকুল নয় ঠিকই, তবে এই আবহাওয়ায় তো সবাইকেই পারফর্ম করতে হবে। তবে আবহাওয়া যেমনই হোক না কেন, আমাকে মানসিক ভাবে শক্তিশালী থাকতে হবে’।

পুরুষদের জ্যাভলিন থ্রোর যোগ্যতা নির্ধারণ পর্ব হবে বৃহস্পতিবার স্কটস্টাউন স্টেডিয়ামে। শুক্রবার জুলাই হবে পদক নির্ধারক ফাইনাল। সেখানে নেমে কমনওয়েলথ গেমসে নিজের দ্বিতীয় সোনার পদক জয়ের লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামবেন নীরজ চোপড়া।

ভারতীয় অ্যাথলেটিক্সের অন্যতম বড় ভরসা নীরজ। এবারও দেশের জন্য তিনি সোনা আনবেন, এমন প্রত্যাশা অনেকেরই। তবে তিনি জানেন, গ্লাসগোয় সোনা জিততে হলে বিশ্বের সেরাদের বিরুদ্ধে নিজের সর্বোচ্চ পারফরম্যান্সই তুলে ধরতে হবে।