ব্রাজিলের ২-১ গোলে নাটকীয় জয়ের পর জাপানি ফুটবলারদের উদ্দেশে পাঁচ আঙুল দেখিয়ে বিতর্কে জড়ালেন ম্যাথিউস কুনহা।
সোমবার রাতে হিউস্টনে ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজার পর কুনহাকে দেখা যায় জাপানের ফুটবলারদের দিকে এগিয়ে যেতে। তিনি ডান হাতের পাঁচটি আঙুল দেখিয়ে বলেন, “আমাদের পাঁচটা (বিশ্বকাপ শিরোপা) আছে। সম্মান দেখাও।” তাঁর এই মন্তব্য ছিল ব্রাজিলের পাঁচটি বিশ্বকাপ জয়ের প্রতি ইঙ্গিত। ম্যাচের আগে জাপানের তরুণ ফরোয়ার্ড কেন্তো শিওগাই মন্তব্য করেছিলেন, “ব্রাজিল আর আগের মতো নেই।” সেই বক্তব্যেরই জবাব দেন কুনহা।
শুধু মাঠেই নয়, ম্যাচের পর সামাজিক মাধ্যমেও কুনহা খোঁচা দিতে ছাড়েননি। তিনি নিজের ইনস্টাগ্রামে জাপানের বদলি স্ট্রাইকার কেন্তো শিওগাইয়ের দিকে আঙুল তুলে থাকা একটি ছবি পোস্ট করেন। ক্যাপশনে লেখেন, “সম্মান।” সেই পোস্টে তিনি কেনড্রিক লামারের জনপ্রিয় গান ‘HUMBLE’-এর উল্লেখও করেন, যা অনেকের মতে শিওগাইয়ের মন্তব্যেরই পরোক্ষ জবাব।
তবে বিতর্কের মাঝেই ফুটবলপ্রেমীদের মন জয় করে নেন কুনহা। ম্যাচ শেষ হওয়ার পর কান্নায় ভেঙে পড়া জাপানি মিডফিল্ডার আও তানাকার কাছে গিয়ে তাঁকে জড়িয়ে ধরেন এবং সান্ত্বনা দেন। সেই দৃশ্য দ্রুত সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়। অনেক সমর্থক কুনহার এই মানবিক আচরণের প্রশংসা করে লেখেন, প্রতিদ্বন্দ্বিতা মাঠ পর্যন্তই সীমাবদ্ধ থাকা উচিত, ম্যাচ শেষে প্রতিপক্ষের প্রতি সম্মানই ফুটবলের আসল সৌন্দর্য। বিশ্বকাপের শেষ ৩২-এর এই ম্যাচে কুনহার দুটি সম্পুর্ণ ভিন্ন আচরণই এখন সামাজিক মাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।
ম্যাচের পর নিজের আচরণের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে ব্রাজিলের এই ফরোয়ার্ড বলেন, “জাপান ফুটবলে কতটা উন্নতি করেছে, সেটা দেখা সত্যিই দারুণ। আমরা সবসময়ই তাদের সম্মান করি এবং জানি, তাদের বিরুদ্ধে খেলাটা কত কঠিন। আমি শুধু একটা কথাই বলেছি—‘ব্রাজিল সম্পর্কে কথা বলতে গেলে মনে রাখতে হবে, আমাদের জার্সিতে পাঁচটি তারকা রয়েছে।’ এই জার্সির ইতিহাস কতটা সমৃদ্ধ এবং আমরা তার যথাযোগ্য প্রতিনিধিত্ব করার জন্য কতটা লড়াই করি, সেটাই বোঝাতে চেয়েছি। এটা আমার ব্যক্তিগত বিষয় নয়। এটা সেই কোটি কোটি ব্রাজিল সমর্থকের জন্য, যারা আমাদের এই জার্সি পরে খেলতে দেখে গর্ব অনুভব করেন। আমি শুধু তাদের প্রতিনিধিত্ব করতে চেয়েছি। পরে আমাদের মধ্যে কথা হয়েছে, সব ঠিক হয়ে গিয়েছে।”
উল্লেখ্য, শেষ ৩২-এর এই ম্যাচে প্রথমে পিছিয়ে পড়েও দারুণ প্রত্যাবর্তন করে ব্রাজিল। কাসেমিরোর সমতাসূচক গোলের পর যোগ করা সময়ে গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লির জয়সূচক গোলে ২-১ ব্যবধানে জিতে শেষ ষোলোয় জায়গা নিশ্চিত করে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
তবে এ দিন ব্রাজিলের নাভিশ্বাস তুলে দিয়েছিল এশিয়ার অন্যতম সেরা দল জাপান। ২৯ মিনিটের মাথায় কাইশু সানোর দুর্দান্ত গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর তারা প্রতিপক্ষকে নিজেদের বক্সের মধ্যে কার্যত ঢুকতেই দেয়নি। হন্যে হয়ে জাপানের গোল এরিয়ায় ঢোকার অনেক চেষ্টা করেও সফল হননি ভিনিসিয়াস, কুনহা, রায়ান-রা। জাপানের রক্ষণের দুর্ভেদ্য প্রাচীরে ফাটল ধরাতে তাদের বেশ বেগ পেতে হয়।
তবু চেষ্টা ছাড়েনি এবং জাপানি ওয়াল-এ ভাঙন ধরানোর সব রকম কৌশল অবলম্বন করে তারা। কত রকম ভাবে আল্ট্রা ডিফেন্সিভ ফুটবল খেলা একটা দলের বিরুদ্ধেও গোল করা যায়, সারা বিশ্বকে তা দেখিয়ে দেয় ব্রাজিল।




