২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ শুরুর ঠিক আগে ব্রাজিল শিবিরে যে এমন দৃশ্য দেখা যাবে, তা অনেকেই ভাবতে পারেননি। বেশ আবেগঘন ও বিরল সেই মুহূর্ত। নেইমারদের কঠোর কোচের ভাবমূর্তি সরিয়ে রেখে দলের সঙ্গে একান্তভাবে সময় কাটালেন ব্রাজিলের প্রধান কোচ কার্লো আনসেলোত্তি। আর এই ঘটনাই আরও মজবুত করে তুলেছে কোচ ও ফুটবলারদের পারস্পরিক বন্ধন।
বিশ্বকাপের প্রস্তুতি শিবিরে সতীর্থদের পক্ষ থেকে বিশেষ সম্মান পান ইতালিয়ান কিংবদন্তি কোচ। প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী খেলোয়াড়রা তাঁকে ‘গার্ড অব অনার’-এর মধ্য দিয়ে স্বাগত জানান। তবে সাধারণত এমন অনুষ্ঠানে মজার ছলে ধাক্কাধাক্কি বা হালকা আঘাতের রীতি থাকলেও এবার ফুটবলাররা নিজেদের কোচের প্রতি বিশেষ শ্রদ্ধা দেখিয়ে তা থেকে বিরত থাকেন। ব্রাজিল তারকা রাফিনা মজা করে জানান, ‘উনি এই মুহূর্ত উপভোগ করেছেন ঠিকই, কিন্তু কেউ তাঁকে স্পর্শও করেনি।’
আসলে বুধবার ছিল আনসেলোত্তির ৬৭তম জন্মদিন। উপস্থিত সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, জন্মদিন উপলক্ষে আনসেলোত্তি দলের সদস্যদের সঙ্গে স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি সময় কাটান। ফুটবলারদের তৈরি ‘বার্থডে টানেল’-এর মধ্যে দিয়ে মাঠে নামেন তিনি। কোচের এই মানবিক দিক ফুটবলারদের বেশ পছন্দও হয়। ব্রাজিল দলে যোগ দেওয়ার পর থেকেই তিনি খেলোয়াড়দের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশ গড়ে তোলার চেষ্টা করছেন, যা বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে দলের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে সাহায্য করবে।
বিশ্বকাপে ব্রাজিলের প্রথম ম্যাচ মরক্কোর বিরুদ্ধে। তবে প্রস্তুতির মাঝেই চিন্তার কারণ হয়ে রয়েছে নেইমারের চোট। কাফ মাসলের চোটের কারণে তিনি এখনও পুরোপুরি অনুশীলনে ফিরতে পারেননি এবং প্রথম ম্যাচে তাঁর খেলা অনিশ্চিত বলে জানা গেছে।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালে ব্রাজিল দলের দায়িত্ব নেওয়ার পর আনসেলোত্তি দ্রুতই সমর্থক ও ফুটবলারদের আস্থা অর্জন করেছেন। সম্প্রতি তাঁর চুক্তিও ২০৩০ সাল পর্যন্ত বাড়িয়েছে ব্রাজিল ফুটবল ফেডারেশন। এখন তাঁর সামনে সবচেয়ে বড় লক্ষ্য, ২৪ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে ব্রাজিলকে ষষ্ঠ বিশ্বকাপ শিরোপা এনে দেওয়া। যা হবে তাঁরও প্রথম বিশ্বকাপ জয়।
ব্রাজিলের জাতীয় কোচ হিসেবে যোগ দেওয়ার আগে এসি মিলান, চেলসি, প্যারিস সেন্ট জারমেইন, বেয়ার্ন মিউনিখ, এভার্টন ও রিয়েল মাদ্রিদের মতো বিশ্বখ্যাত ক্লাবগুলিকে সাফল্য এনে দিয়েছেন। ইউরোপের পাঁচ দেশ স্পেন, ইতালি, ইংল্যান্ড, ফ্রান্স ও জার্মানির সেরা লিগের পালক রয়েছে তাঁর মুকুটে। কিন্তু এখনও বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ পাননি এই সফল কোচ। এ বার সেই লক্ষ্য নিয়েই দল নামাবেন তিনি।
বিশ্বকাপের আগে কোচের জন্মদিনের এই ছোট্ট সেলিব্রেশন তাই শুধুই আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং ব্রাজিল শিবিরে ঐক্য, বিশ্বাস এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধার এক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবেই দেখা হচ্ছে। যা তাদের এই লক্ষ্য পূরণে অবশ্যই সাহায্য করতে পারে।




