আইপিএল ক্রিকেটে শেষ চারে খেলার আর কোনও সম্ভাবনা থাকলই না মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স দলের। মুম্বাই রবিবার প্রথমে ব্যাট করতে নেমে সাত উইকেট হারিয়ে ১৬৬ রান করে। তার উত্তরে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু নাটকীয় জয় তুলে নিল ৮ উইকেট হারিয়ে ১৫৭ রান করে। অনেকেই ভাবতেই পারেননি, এই ম্যাচটার চরিত্র একেবারে শেষ বলে বদলে যাবে। বেঙ্গালুরু দল ২ উইকেটে জয় তুলে নিয়ে লিগ টেবলের শীর্ষস্থানে পৌঁছে গেল। আর মুম্বাই ১০ দলের আইপিএলে এখন নবম স্থানে রয়েছে।
স্বাভাবিকভাবেই পাঁচবারের আইপিএল জয়ী মুম্বাই দলের এই করুণ অবস্থা অনেকেই মেনে নিতে পারছেন না। শুধু তাই নয়, রোহিত শর্মা থেকে শুরু করে সূর্যকুমার যাদব, যশপ্রীত বুমরা, হার্দিক পাণ্ডিয়া থেকে তিলক বর্মারা কোনওভাবেই দলকে টেনে নিতে পারলেন না। আর ওই ম্যাচেই হার্দিক পাণ্ডিয়ার দলের বিরুদ্ধে খেলতে নামেন তাঁরই ভাই ক্রুনাল পাণ্ডিয়া। ক্রুনাল এই খেলায় গুরুতর চোট পেয়েছেন।
Advertisement
শুধু যে তাঁর পেশিতে টান ধরেছে, তাই নয়, তাঁর পেটেও বেশ কয়েকবার বলের আঘাত লেগেছে। তাই যন্ত্রণায় তিনি ছটফট করতে থাকেন। সেই ক্রুনালই ৪৬ বলে ৭০ রানের ইনিংস খেলে বেঙ্গালুরু দলকে জয় এনে দেন। জানা গেছে, পেটের নাভির উপরের বাঁদিকে বড় অংশে ক্রুনালের রক্ত জমাট বেঁধেছে। ৩৫ বছর বয়সী অলরাউন্ডারের এই অবস্থা দেখে সবাই চিন্তিত হয়ে পড়েছেন। তবে বলতেই হবে, ক্রুনাল যেভাবে লড়াই করেছেন, তা উদাহরণ হয়ে থাকবে।
Advertisement
বেঙ্গালুরুর ইনিংসের ১৮তম ওভারের শেষ বলে আউট হন ক্রুণাল। তার আগের ওভারেই ক্রুণালের পায়ের পেশিতে টান ধরে। মাঠেই শুশ্রূষা করেন আরসিবির চিকিৎসকেরা। উঠে দাঁড়ালেও দৌড়তে পারছিলেন না ক্রুণাল। পরের ওভারে দৌড়ে রান নিতে পারছিলেন না। এক পায়ের উপর ভর করেই বড় শট খেলতে শুরু করেন। আল্লা গজনফরকে দু’টি ছয় মারেন। তৃতীয় বার বড় শট খেলতে গিয়ে আউট হন। তিলক বর্মা ক্যাচ ধরেও বল ধরে রাখতে পারেননি।
উপরে ছুড়ে দিয়ে বাউন্ডারির দড়ি পেরিয়ে যান। ভেতরে এসে ক্যাচ ধরেন। চোট নিয়েও ক্রুণালের লড়াইয়ের প্রশংসা করেন সবাই। ওইদিন রাতে অবশ্য বোঝা যায়নি শুধু পায়ের পেশির টান নয়, পেটেও গুরুতর আঘাত নিয়ে লড়াই চালিয়ে গিয়েছেন। ক্রুণাল অবশ্য জানাননি, কার বল খেলতে গিয়ে পেটে গুরুতর আঘাত পেয়েছেন।
মুম্বইয়ের বিরুদ্ধে ইনিংস নিয়ে ক্রুণাল বলেছেন, ‘আমি হারতে ভালোবাসি না। হারলেও শেষ পর্যন্ত লড়াই করতে চাই। হার মেনে নেওয়ার এবং আরও ভাল পারফর্ম করার উপায় বের করার মানসিক শক্তি আমার রয়েছে। ক্রিকেট খেললে বুঝবেন, ভাল দিনের চেয়ে খারাপ দিন বেশি আসে। যা স্বাভাবিক ভাবেই আপনাকে খেলার মাঠে এবং জীবনে বিনয়ী করে তোলে।’
ক্রুনাল আরও বলেন, ‘এই পারফরম্যান্সের নেপথ্যে আমার স্ত্রীর কৃতিত্ব কম নয়। আমার পাশে শক্তির স্তম্ভ হয়ে থেকেছে। মায়ের কথাও বলব। বাবার কথাও খুব মনে পড়ে। বাবা মারা গিয়েছেন। আমার সাফল্য দেখলে বাবা খুব খুশি হতেন।’ তবে হার্দিক পাণ্ডিয়া চোটের কারণে খেলতে পারেননি। সেই কারণে মুম্বাই দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন সূর্যকুমার যাদব।
মুম্বাই দলে হার্দিক পাণ্ডিয়ার পাশে মাঠে আসেননি যশপ্রীত বুমরাও। দলের দুই নির্ভরযোগ্য খেলোয়াড় না থাকায় বেঙ্গালুরু দলের জয়টা সহজেই আসবে, এমন ভাবনা ছিল। এই ভাবনাকে সার্থক রূপ দিয়েছেন ক্রুনাল।
Advertisement



