• facebook
  • twitter
  • youtube
Thursday, 16 July, 2026

মেসি, বারকোর সঙ্গে ঝামেলায় জড়িয়ে বিতর্কে বেলিংহ্যাম, ইংল্যান্ডের হতাশা ফুটে উঠল ম্যাচের পরে

আর্জেন্টিনার ফুটবলার ভ্যালেন্তিন বারকোর মাথায় চড় মারতে দেখা যায় ইংল্যান্ডের তারকা জুড বেলিংহ্যামকে। সেই ঘটনার ভিডিও ইতিমধ্যেই ভাইরাল হয়েছে সমাজমাধ্যমে

মেসি, বারকোর সঙ্গে ঝামেলায় জড়িয়ে বিতর্কে বেলিংহ্যাম, ইংল্যান্ডের হতাশা ফুটে উঠল ম্যাচের পরে

Photo: Representational Image

শেষ মুহূর্তে ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপ-স্বপ্ন ভেঙে যাওয়ার হতাশাই ম্যাচের শেষে ফুটে উঠল প্রায় হাতাহাতির ঘটনায়। আর্জেন্টিনার ফুটবলার ভ্যালেন্তিন বারকোর মাথায় চড় মারতে দেখা যায় ইংল্যান্ডের তারকা জুড বেলিংহ্যামকে। সেই ঘটনার ভিডিও ইতিমধ্যেই ভাইরাল হয়েছে সমাজমাধ্যমে।

বুধবার আটলান্টায় বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে ম্যাচের ৮৫ মিনিট পর্যন্ত ১-০ এগিয়ে ছিল ইংল্যান্ড। কিন্তু শেষ দিকে এনজো ফার্নান্দেজের সমতা ফেরানো গোল এবং অতিরিক্ত সময়ে লাউতারো মার্তিনেজের হেডে ম্যাচ ঘুরিয়ে দেয় আর্জেন্টিনা। সেই নাটকীয় হারের ধাক্কা সামলাতে পারেননি বেলিংহ্যাম।

খেলা শেষ হতেই আর্জেন্টিনার ফুটবলাররা উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠেন। সেই সময়ই দলের বদলি ফুটবলার ভ্যালেন্তিন বারকোর দিকে এগিয়ে যান বেলিংহ্যাম। টেলিভিশনের পর্দায় দেখা যায়, আচমকাই বারকোর মাথার পিছনে চড় মারেন তিনি। সঙ্গে সঙ্গে বারকো ঘুরে দাঁড়িয়ে বেলিংহ্যামকে ধাক্কা দেন। মুহূর্তের মধ্যে দুই দলের একাধিক ফুটবলার ঘটনাস্থলে জড়ো হয়ে যান এবং পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। শেষ পর্যন্ত নিকোলাস ওতামেন্দি-সহ দুই দলের ফুটবলাররা এগিয়ে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

ঘটনার সঠিক কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। তবে ইংল্যান্ডের হতাশা এবং আর্জেন্টিনার উচ্ছ্বাসের আবহেই বেলিংহ্যামের এই আচরণ বলে জানা গিয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের একাংশের দাবি, বিষয়টি খতিয়ে দেখে ফিফা প্রয়োজনে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে পারে। যদিও এখনও এ বিষয়ে ফিফার তরফে কোনও মন্তব্য করা হয়নি।

ম্যাচ চলাকালীন মেসির সঙ্গেও ঝামেলায় জড়িয়ে পড়েন বেলিংহ্যাম। ম্যাচের শুরুতেই রেফারির একটি বিতর্কিত সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে দু’জনের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। ম্যাচ শুরুর কিছুক্ষণ পরেই বেলিংহ্যামের উপর ‘লেট ট্যাকল’ করেন আর্জেন্টিনার লিয়ান্দ্রো পারেদেস। তার কিছু পরেই এলিয়ট অ্যান্ডারসনের উপর একই ধরনের ট্যাকল করেন এনজো ফার্নান্দেজ। ইংল্যান্ড শিবিরের দাবি ছিল, অন্তত একটি হলুদ কার্ড দেখানো উচিত ছিল। কিন্তু রেফারি সেই দাবি মানেননি। রেফারির সেই সিদ্ধান্ত নিয়েই মাঠের মধ্যে মেসি এবং বেলিংহ্যামের মধ্যে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য তর্কাতর্কি হয়। যদিও সেই উত্তেজনা পরে আর বড় আকার নেয়নি।

তবে উত্তপ্ত মুহূর্তের পরেও এক অন্য ছবি ধরা পড়ে। কিছুক্ষণ পর আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসির সঙ্গে সৌজন্য বিনিময় করতে দেখা যায় বেলিংহ্যামকে। মাঠের উত্তেজনা সেখানেই কিছুটা প্রশমিত হলেও, সেই চড়ের ঘটনাই এখন বিশ্ব ফুটবলে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

বেলিংহ্যাম স্বীকার করেন, দিনটি তাঁর, গোটা ইংল্যান্ড দল এবং সমর্থকদের জন্য অত্যন্ত হতাশার। ম্যাচের শেষ দিকে নাটকীয়ভাবে খেলার মোড় ঘুরে যাওয়ার আগে পর্যন্ত ফাইনালে এক পা রেখেই ফেলেছিল ইংল্যান্ড। বেলিংহ্যাম ম্যাচের শেষে সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “আজ আমাদের জন্য অত্যন্ত দুঃখের দিন। আমরা ভাল খেলেছি, শেষ পর্যন্ত লড়াই করেছি, কিন্তু সেটা যথেষ্ট ছিল না।”

ইংল্যান্ডের কোচ থমাস টুখেল ম্যাচের শেষ দিকে পুরোপুরি রক্ষণাত্মক কৌশল নেওয়ায় সমাজমাধ্যমে সমালোচনার মুখে পড়েছেন। অনেকেরই দাবি, অতিরিক্ত ডিফেন্সিভ হয়ে পড়ায় ম্যাচ হাতছাড়া করে ইংল্যান্ড। তবে জার্মান কোচ নিজের সিদ্ধান্ত নিয়ে বিন্দুমাত্র অনুতপ্ত নন। তাঁর মতে, ইংল্যান্ড হেরেছে বলেই এখন সমালোচনা হচ্ছে।

টুখেল বলেন, “গত কয়েকটি ম্যাচেও আমি আক্রমণাত্মক বদলি করেছিলাম। এ দিন আমরা শুধু ফুটবলারদের সাহায্য করার চেষ্টা করেছি। গোল করার পরই, কোনও বদলি ছাড়াই, আমরা একটা বড় সুযোগ দিয়ে ফেলেছিলাম। তাই আমরা পাঁচ জনের রক্ষণে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিই, কারণ মাঝের ফাঁকগুলো অনেক বেশি ওপেন হয়ে যাচ্ছিল। গোল করার পরপরই আমরা অনেক বেশি ক্রস এবং অনেক সুযোগ প্রতিপক্ষকে দিয়ে ফেলছিলাম। তাই আমরা দলকে সাহায্য করার চেষ্টা করেছি। অবশ্যই দায়িত্ব কোচেরই। আর ফল যদি ভাল না হয়, তা হলে বলা খুব সহজ যে সিদ্ধান্তটা ভুল ছিল।”