এশিয়ান গেমসে ভারতের পদকের খাতা খুলেছিল রুপো-ব্রোঞ্জে। তৃতীয় দিনেই এল প্রথম সোনা। আর তা এল মেয়েদের ক্রিকেটে। শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে এশিয়ান গেমসে টানা দ্বিতীয় বার টি-টোয়েন্টিতে সোনা জিতল হরমনপ্রীত কৌরের ভারত। একই দিনে পুরুষদের ব্যাডমিন্টন দল জাপানকে ৩-০ হারিয়ে অন্তত ব্রোঞ্জ নিশ্চিত করেছে। তবে শুটিংয়ে চতুর্থ হয়ে হতাশ হতে হল, টেবিল টেনিসে উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধেও ধাক্কা খেয়েছে ভারত।
ব্যাডমিন্টনে পুরুষদের পদক নিশ্চিত
এক দিকে মেয়েদের দল জাপানের কাছে ১-৩ হেরে কোয়ার্টার ফাইনালেই বিদায় নিয়েছে। পিভি সিন্ধু প্রথম ম্যাচে আকানে ইয়ামাগুচিকে হারিয়েও শেষ পর্যন্ত দলকে জেতাতে পারেননি। সিন্ধু ২৩-২১, ১৮-২১, ১১-২১ ব্যবধানে হেরে যান। উন্নতি হুডাও তাঁর ম্যাচে হারেন। তবে তৃষা জলি ও গায়ত্রী গোপীচাঁদ ২১-১৭, ২১-১৬ জিতে ভারতকে লড়াইয়ে ফেরান। শেষ পর্যন্ত তনভি শর্মা নোজোমি ওকুহারার কাছে হারায় জাপান ৩-১-এ জিতে যায়।
পুরুষদের ছবিটা একেবারেই উল্টো। জাপানের বিরুদ্ধে কোয়ার্টার ফাইনালে শুরু থেকেই দাপট দেখায় ভারত। সাত্ত্বিক সাইরাজ রাঙ্কিরেড্ডি ও চিরাগ শেট্টি জাপানের তাকুরো হোকি ও ইউগো কোবায়াশিকে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে ২৪-২২ হারিয়ে ভারতকে ২-০ এগিয়ে দেন। তার পর আয়ুষ শেট্টি কোকি ওয়াতানাবেকে ২১-১০, ২১-১৯ হারিয়ে ম্যাচ ৩-০ করেন। ফলে সেমিফাইনালে উঠে অন্তত ব্রোঞ্জ নিশ্চিত ভারতের।
উশুতে রোশিবিনার পদক নিশ্চিত
উশুতে রোশিবিনা দেবী ভারতকে আরও একটি পদক এনে দিচ্ছেন। মহিলাদের ৬০ কেজি বিভাগে ম্যাকাওয়ের মান সিন চুকে পয়েন্টের ব্যবধানে হারিয়ে সেমিফাইনালে উঠেছেন তিনি। ফলে পদক নিশ্চিত রোশিবিনার।তবে পুরুষদের ৫৬ কেজিতে আরিয়ান হতাশ করলেন। উজবেকিস্তানের সাইদুলো আবদুরাশিতভের বিরুদ্ধে প্রথম রাউন্ড ৫-০ জিতেও পরের দুই রাউন্ডে আরিয়ান হারেন। ফলে কোয়ার্টার ফাইনাল থেকেই বিদায় নিতে হয় তাঁকে।
ভল্ট ফাইনালে বাংলার জিমন্যাস্ট প্রণতি
এশিয়ান গেমসে ভারতীয় জিমন্যাস্টিক্সের একমাত্র প্রতিনিধি তিনি। তাই গোটা দেশের নজর ছিল তাঁর দিকেই। সেই প্রত্যাশার চাপ সামলে মঙ্গলবার দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করলেন বাংলার প্রণতি নায়েক। মহিলাদের ভল্টের যোগ্যতা পর্বে সপ্তম হয়ে ফাইনালের টিকিট পাকা করেছেন তিনি। ফাইনাল বৃহস্পতিবার।
মোট ১৯ জন জিমন্যাস্ট ভল্টের ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে সপ্তম প্রণতি। যোগ্যতা পর্বে তাঁর গড় স্কোর ১২.৯১৬। প্রথম ভল্টে প্রণতি পেয়েছেন ১৩.০০০। সেখানে ডিফিকাল্টিতে ৪.৪ এবং এক্সিকিউশনে ৮.৬০০ নম্বর পেয়েছেন তিনি। দ্বিতীয় ভল্টে তাঁর স্কোর ১২.৪৩৩—ডিফিকাল্টি ৪.০ এবং এক্সিকিউশন ৮.৪৩৩। দুই ভল্টের ফল মিলিয়েই এসেছে ১২.৯১৬।
প্রথম ভল্টের ল্যান্ডিংয়ে সামান্য সমস্যা হয়েছিল। দ্বিতীয় ভল্টেও বেরোনোর সময় একটি স্টেপ নিতে হয়। কিন্তু সেই ভুল সামলে দ্রুত নিজেকে মেলে ধরেন প্রণতি। যোগ্যতা পর্বের এক পর্যায়ে তাঁর ১২.৯১৬ স্কোর তাঁকে তৃতীয় স্থানে তুলে দিয়েছিল। পরে অন্য প্রতিযোগীদের পারফরম্যান্সের পর সপ্তম স্থানে শেষ করেন তিনি।
তবে সপ্তম স্থান নিয়ে সন্তুষ্ট থাকার সময় নেই। কারণ ফাইনালে নামবেন এশিয়ান গেমসের গত বারের চ্যাম্পিয়ন উত্তর কোরিয়ার আন চ্যাং-ওক-সহ চিন ও জাপানের শক্তিশালী জিমন্যাস্টরা। ফলে ২৪ সেপ্টেম্বরের লড়াইয়ে প্রণতির সামনে কঠিন পরীক্ষা।
বক্সিংয়ে এগোলেন জাদুমানি, সাক্ষীও জিতেছেন
বক্সিং রিংয়ে ভারতের দিনটা মন্দ যায়নি। পুরুষদের ৫৫ কেজি বিভাগে জাদুমানি সিং নেপালের চন্দ্র বাহাদুর থাপাকে ৫-০ হারিয়ে ১৬ দলের রাউন্ডে উঠেছেন। কাউন্টার পাঞ্চ ও হুক দিয়ে শুরু থেকেই নিয়ন্ত্রণ নেন ভারতীয় বক্সার। মহিলাদের ৫১ কেজিতে সাক্ষী চৌধরীও দুর্দান্ত জয় পেয়েছেন। প্যারিস অলিম্পিক্সের ব্রোঞ্জজয়ী ফিলিপিন্সের আইরা ভিলেগাসকে ৫-০ হারিয়ে ১৬ দলের রাউন্ডে উঠেছেন তিনি। পরের লড়াইয়ে তাঁর সামনে কাজাখস্তানের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আলুয়া বালকিবেকোভা।
টিটি-তে পিছিয়ে পড়েও বাজিমাত, কোয়ার্টারে হার সৃজাদের
শুরুটা হয়েছিল ধাক্কা দিয়ে। একটা সময় ম্যাচের ফল ভারতের বিরুদ্ধে ১-২। সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে শেষ পর্যন্ত থাইল্যান্ডকে ৩-২ ব্যবধানে হারিয়ে এশিয়ান গেমস ২০২৬-এর মেয়েদের টিম টেবিল টেনিসের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠল ভারত। শেষ ম্যাচে সৃজা আকুলার দুরন্ত প্রত্যাবর্তনই ভারতকে শেষ আটে পৌঁছে দিল। ১৬ দলের রাউন্ডের প্রথম ম্যাচে সৃজা আকুলা ওরাওয়ান পারানাংয়ের কাছে হেরে যান। সুতাসিনি সাওয়েত্তাবুতের বিরুদ্ধে তিন গেমে পিছিয়ে পড়েও দারুণ ভাবে ম্যাচে ফিরে জিতে ম্যাচ ১-১ করে দেন যশস্বিনী ঘোরপাড়ে। তৃতীয় ম্যাচে ফের ধাক্কা। জিন্নাপান সাওয়েত্তাবুতের বিরুদ্ধে পাঁচ গেমের লড়াইয়ে হেরে যান দিয়া চিতালে। ম্যাচ পয়েন্টে গিয়েও শেষ পর্যন্ত হারতে হয় তাঁকে। ফলে থাইল্যান্ড ২-১ এগিয়ে যায়। ভারতের সামনে তখন কার্যত ‘ডু অর ডাই’ পরিস্থিতি।
সেই চাপের ম্যাচেই ফের দলকে সমতায় ফেরান যশস্বিনী। মাত্র ২১ মিনিটে জিতে ভারতকে ২-২-এ ফেরান যশস্বিনী। শেষ ম্যাচে সৃজা প্রতিপক্ষ সুতাসিনিকে ৯-১১, ১১-৬, ১২-১০, ১১-৮ ব্যবধানে হারিয়ে জিতে নেন পুরো টাই। এই জয়ের ফলে মেয়েদের টিম টেবিল টেনিসে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট পাকা ভারতের। শেষ আটে তাদের সামনে উত্তর কোরিয়া। উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে কোয়ার্টার ফাইনালে সৃজা আকুলা প্রথম ম্যাচ হারার পর যশস্বিনী ঘোরপাড়েও পরাজিত হন। ফলে উত্তর কোরিয়া ২-০ এগিয়ে যায়। তৃতীয় ম্যাচে দিয়ার লড়াইও বিফলে যায়। ফলে ০-৩ হেরে বিদায় নিতে হয় ভারতকে।
কবাডিতে দক্ষিণ কোরিয়াকে উড়িয়ে দিল ভারত
পুরুষদের কাবাডিতে ভারতের জয়যাত্রা অব্যাহত। গ্রুপ ‘এ’-র ম্যাচে দক্ষিণ কোরিয়াকে ৬৩-৩১ ব্যবধানে হারিয়েছে গত বারের চ্যাম্পিয়ন ভারত। প্রথমার্ধেই ৩৪-১৪ এগিয়ে গিয়েছিল দল। দ্বিতীয়ার্ধেও নিয়ন্ত্রণ ছাড়েনি ভারত। গ্রুপে এটি ভারতের দ্বিতীয় জয়।
শুটিংয়ে পদকের কাছে গিয়েও চতুর্থ
১০ মিটার এয়ার রাইফেল মিক্সড টিম ইভেন্টে এলাভেনিল ভালারিভান ও পার্থ মানে যোগ্যতা অর্জন পর্বে দ্বিতীয় হয়ে ফাইনালে উঠেছিলেন। কিন্তু ফাইনালে সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারেননি। ৩৭৬.৩ স্কোর করে চতুর্থ হয়ে শেষ করেন তাঁরা। চিনের ওয়াং জিফেই ও শেং লিহাও বিশ্বরেকর্ড স্কোর ৫০৭.১ করে সোনা জিতেছেন। রুপো দক্ষিণ কোরিয়ার, ব্রোঞ্জ জাপানের। ফলে শুটিং থেকে আরও একটি পদক পাওয়ার সুযোগ হাতছাড়া হল ভারতের।
সাঁতারে ফাইনালে উঠেও অষ্টম ভারত
৪x১০০ মিটার মেডলি রিলের ফাইনালে ঋষভ দাস, আকাশ মণি, বেনেডিকশন বেনিস্টন এবং ধনুশ সুরেশের ভারতীয় দল ৩:৪৪.২৬ সময় করে অষ্টম হয়েছে। যোগ্যতা অর্জন পর্বে সপ্তম হয়ে ফাইনালে উঠেছিল ভারত।




