• facebook
  • twitter
  • youtube
Thursday, 20 August, 2026

বৈভবকে টেস্ট দলে নেওয়া প্রসঙ্গে দুই মেরুতে সম্বরণ, অরুণলাল

সম্প্রতি ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের সচিব দেবজিৎ সইকিয়া বলেছেন, বৈভবের মতো ক্রিকেট প্রতিভাকে যাতে সঠিক ভাবে কাজে লাগানো যায়, সেই চেষ্টা অবশ্যই করবে বোর্ড

বৈভবকে টেস্ট দলে নেওয়া প্রসঙ্গে দুই মেরুতে সম্বরণ, অরুণলাল

রাজীব ঘোষ: ভারতীয় ক্রিকেটের ‘বিস্ময় কিশোর’ বৈভব সূর্যবংশী সদ্যসমাপ্ত আইপিএলে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন। এই অসাধারণ পারফরম্যান্সের পর এ বার কি ১৫ বছর বয়সী এই তারকা ব্যাটসম্যানকে ইংল্যান্ডগামী ভারতীয় টেস্ট দলেও নেওয়া হবে? এটাই এখন ভারতীয় ক্রিকেট মহলে সবচেয়ে চর্চিত বিষয়।

সম্প্রতি ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের সচিব দেবজিৎ সইকিয়া বলেছেন, বৈভবের মতো ক্রিকেট প্রতিভাকে যাতে সঠিক ভাবে কাজে লাগানো যায়, সেই চেষ্টা অবশ্যই করবে বোর্ড। তবে অজিত আগারকরের নেতৃত্বে ভারতীয় বোর্ডের নির্বাচক কমিটি বৈভবকে ইংল্যান্ডে টেস্ট দলের সঙ্গে নিয়ে যেতে রাজি হবে কি না, সেটাই দেখার।

বাংলার দুই প্রাক্তন তারকা ব্যাটসম্যান সম্বরণ ব্যানার্জি ও অরুণলাল অবশ্য এই বিষয়ে দুই মেরুতে। বাংলার রঞ্জিজয়ী অধিনায়ক ও প্রাক্তন কোচ সম্বরণ যেখানে বলছেন, বৈভবকে এখনই ইংল্যান্ডে লাল বলের ক্রিকেটে খেলানো উচিত হবে কি না, সেখানে অরুণলালের বক্তব্য, ক্রিকেটের বিস্ময়বালককে ইংল্যান্ডে নিয়ে যাওয়া যেতেই পারে।

মঙ্গলবার সম্বরণ এই প্রসঙ্গে বলেন, “আইপিএলে বৈভব দুর্দান্ত খেলেছে ঠিকই, তবে এখনই ওকে ইংল্যান্ডে নিয়ে যাওয়া উচিত নয়। সাদা বলের ক্রিকেটে ও ভারতীয় দলের হয়ে খেলতেই পারে। কিন্তু লাল বলে এখনই ওকে না নেওয়া ভাল”।

সম্বরণের ব্যাখ্যা, “ওর ক্রিকেট প্রতিভা নিয়ে আমার কোনও সন্দেহ নেই। ওর সবচেয়ে বড় গুণ ও অন্যদের চেয়ে কয়েক মাইক্রো সেকেন্ড আগেই বলের লেংথ বুঝে নিতে পারে। যার জন্য ওর ব্যাট ও বলের কন্টাক্ট পয়েন্ট খুব ভাল জায়গায় যায়। তবে আমি মনে করি, ওকে প্রথমে ঘরোয়া ক্রিকেটে লাল বলে খেলানো হোক। যেখানে তিনটে স্লিপ, গালিতে ফিল্ডার থাকবে। এই পরিস্থিতিতে ও কেমন ব্যাট করছে দেখে, তার পরে ওকে ভারতীয় টেস্ট দলে নেওয়ার ব্যাপারে ভাবা হোক”।

ভারতের আসন্ন টেস্ট সিরিজ ইংল্যান্ডে বলেই এই সাবধানতা অবলম্বন করতে বলছেন সম্বরণ। তাঁর মতে, “ইংলিশ কন্ডিশনে বল দু’দিকে মুভ করবে। আইপিএলে স্লিপ ফিল্ডার থাকে না। এতে ব্যাটররা সুবিধা পায়। ইংল্যান্ডে টেস্টে তিনটে করে স্লিপ ফিল্ডার থাকবে। বল দুদিকে মুভ করবে। একদম নতুন ব্যাটসম্যানের পক্ষে এই পরিস্থিতিতে সফল হওয়া অত সোজা হবে না”।

আর এক প্রাক্তন ব্যাটসম্যান ও বাংলার রঞ্জিজয়ী দলের ওপেনার অরুণলাল বলেন, “আগে ভাবতাম একটা ১৪-১৫ বছরের ছেলে কী করে এই স্তরের ক্রিকেট খেলবে। এখন দেখছি বৈভব সেটাও করে দেখিয়ে দিল। আমার মনে হয় ও টেস্টের পরিস্থিতির সঙ্গেও মানিয়ে নিতে পারবে”।

শচীন তেণ্ডুলকর ১৬ বছর ২০৫ দিন বয়সে প্রথম টেস্ট খেলেছিলেন। এ বার বৈভব তাঁর গড়া এই নজিরও ভাঙতে পারেন কি না, জানতে চাইলে অরুণ বলেন, ‘আমি আশাবাদী, ও ঠিক মানিয়ে নেবে’। কিন্তু টেস্ট ও টি টোয়েন্টির মানসিকতা তো সম্পুর্ণ আলাদা। প্রাক্তন ভারতীয় ব্যাটসম্যান বলেন, ‘বীরেন্দ্র সেহবাগই তো প্রমাণ করে দিয়েছে, এই তত্ত্ব ঠিক নয়। আমরা ভাবতাম বীরু ওয়ানডে ব্যাটসম্যান, টেস্টে পারবে না। কিন্তু ও তো টেস্টেও সফল হয়ে দেখিয়ে দিয়েছে। তেমনই আমার বিশ্বাস বৈভব সূর্যবংশীও পারবে’।