ভারতীয় বায়ুসেনার (Indian Air Force) সর্বোচ্চ পদে চমকপ্রদ নতুন নেতৃত্ব। দেশের ২৯তম বায়ুসেনা প্রধান বা চিফ অফ দ্য এয়ার স্টাফ (Chief of the Air Staff-CAS) হিসেবে নিযুক্ত হলেন এয়ার মার্শাল আশুতোষ দীক্ষিত (Air Marshal Ashutosh Dixit)। আগামী ৩১ অক্টোবর আনুষ্ঠানিকভাবে এই দায়িত্বভার গ্রহণ করবেন তিনি। বর্তমান বায়ুসেনা প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল অমরপ্রীত সিংহ (Air Chief Marshal Amar Preet Singh) ওই দিনই অবসর গ্রহণ করছেন। প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, এয়ার চিফ মার্শাল পদমর্যাদায় বায়ুসেনার শীর্ষ কমান্ডের রাশ নিজের হাতে নেবেন আশুতোষ দীক্ষিত।
বর্তমানে তিনি বায়ুসেনার উপপ্রধান বা ভাইস চিফ অফ দ্য এয়ার স্টাফ (Vice Chief of the Air Staff-VCAS) পদে কর্মরত। যুদ্ধবিমান ওড়ানোর দীর্ঘ চার দশকের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন, প্রযুক্তিগত প্রজ্ঞাবান এবং জটিল সামরিক রণকৌশল পরিচালনায় সিদ্ধহস্ত এই আধিকারিকের হাতেই এবার তুলে দেওয়া হল দেশের আকাশসীমা রক্ষার চূড়ান্ত দায়িত্ব।
Air Marshal Ashutosh Dixit to be the 29th Chief of the Air Staff Air Marshal Ashutosh Dixit, PVSM, AVSM, VM, VSM, presently Vice Chief of the Air Staff, will assume the appointment of Chief of the Air Staff in the rank of Air Chief Marshal on 31 October 2026. An Experimental Test Pilot and Qualified Flying Instructor, Air Marshal Dixit has over 3,500 hours of flying experience and has held several key operational and strategic appointments, including CISC, HQ IDS and AOC-in-C, Central Air Command. He will succeed Air Chief Marshal Amar Preet Singh on completion of his tenure. The Indian Air Force welcomes the appointment of its next Chief. #IndianAirForce #IAF @DefenceMinIndia @SpokespersonMoD @HQ_IDS_India @adgpi @CareerinIAF @air_veterans
— Indian Air Force (@IAF_MCC) October 6, 2026
ককপিটে ৩৫০০ ঘণ্টার বেশি: অনন্য রেকর্ড
১৯৮৬ সালের ৬ ডিসেম্বর ভারতীয় বায়ুসেনার ফাইটার স্ট্রিমে কমিশন পেয়েছিলেন আশুতোষ দীক্ষিত। দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি কেবল যুদ্ধবিমানের দক্ষ চালক নন, একই সঙ্গে এক জন অভিজ্ঞ কোয়ালিফায়েড ফ্লাইং ইনস্ট্রাক্টর (qualified flying instructor) এবং এক্সপেরিমেন্টাল টেস্ট পাইলট (experimental test pilot)। আকাশে ৩৫০০ ঘণ্টারও বেশি সময় ওড়ার বাস্তব অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর ঝুলিতে।
মিরাজ ২০০০ (Mirage 2000), মিগ যুদ্ধবিমানের নানা রূপভেদ (MiG variants), জাগুয়ার (Jaguar) থেকে শুরু করে দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি এলসিএ তেজস (LCA Tejas), হক (Hawk), কিরণ (Kiran) কিংবা বিশালাকার আইএল-৭৮ (IL-78) জ্বালানি পরিবাহী বিমান– একাধিক শ্রেণির অত্যাধুনিক এয়ারক্রাফট সফল ভাবে উড়িয়েছেন তিনি। বিভিন্ন যুদ্ধবিমানের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও ত্রুটি পরীক্ষার ক্ষেত্রেও তাঁর পর্যবেক্ষণ সামরিক মহলে বিশেষভাবে স্বীকৃত।
বড় সামরিক অভিযানের অভিজ্ঞতা
রণক্ষেত্রের সরাসরি লড়াইয়েও আশুতোষ দীক্ষিতের নেতৃত্ব বারবার প্রমাণিত হয়েছে। ১৯৯৯ সালের কার্গিল যুদ্ধের সময়ের অপারেশন সফেদ সাগর (Operation Safed Sagar)-এ তিনি সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন। এ ছাড়া সীমান্ত সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ অপারেশন রক্ষক (Operation Rakshak) এবং অপারেশন সিঁদুর (Operation Sindoor)-এর মতো সংবেদনশীল সামরিক অভিযানেও তাঁর প্রত্যক্ষ ভূমিকা ছিল।
কর্মজীবনে তিনি যেমন একটি প্রথম সারির মিরাজ ২০০০ স্কোয়াড্রনের নেতৃত্ব দিয়েছেন, তেমনই পশ্চিম সীমান্ত সংলগ্ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ফ্রন্টলাইন ফাইটার এয়ার বেসের কম্যান্ডিং অফিসারের দায়িত্বও সামলেছেন। পাশাপাশি দক্ষিণ ভারতে বায়ুসেনার প্রথম সারির যুদ্ধবিমান প্রশিক্ষণ ঘাঁটির প্রধান হিসেবেও নতুন প্রজন্মের বৈমানিক গড়ে তোলার কাজ করেছেন তিনি।
যৌথ কমান্ডের রূপকার
বেঙ্গালুরুর ‘এয়ারক্র্যাফ্ট অ্যান্ড সিস্টেমস টেস্টিং এস্টাব্লিশমেন্ট’ (ASTE)-এ দায়িত্ব পালনের সময় ভারতীয় বায়ুসেনার আধুনিকীকরণ ও স্বদেশিকরণ প্রক্রিয়ায় এক গভীর ছাপ রেখেছিলেন আশুতোষ দীক্ষিত। জাগুয়ার যুদ্ধবিমানের আধুনিকীকরণ এবং মিগ-২৭ বিমানের আপগ্রেডেশন প্রকল্পে তাঁর অবদান ছিল উল্লেখযোগ্য। পাশাপাশি ভারতের নিজস্ব যুদ্ধবিমান তৈরির প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন জটিল উড়ান পরীক্ষা পরিচালনা করে স্বদেশি প্রযুক্তির অগ্রগতিকে ত্বরান্বিত করেছেন তিনি।
তিন বাহিনীর সমন্বয় সাধনের ক্ষেত্রেও তাঁর ভূমিকা অনস্বীকার্য। বায়ুসেনার সেন্ট্রাল এয়ার কমান্ডের প্রধান (AOC-in-C, Central Air Command) হিসেবে দায়িত্ব সামলানোর পাশাপাশি তিনি চিফস অফ স্টাফ কমিটির চেয়ারম্যানের অধীনে চিফ অফ ইন্টিগ্রেটেড ডিফেন্স স্টাফ (Chief of Integrated Defence Staff-CISC) পদে কাজ করেছেন। ফলে ভবিষ্যতের থিয়েটার কমান্ড (theatre commands) গঠন এবং স্থল, নৌ ও বায়ুসেনার মধ্যে যৌথ সামরিক সমন্বয়ের কাজকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর এই দীর্ঘ অভিজ্ঞতা বায়ুসেনাকে এক নতুন দিশা দেখাবে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
শিক্ষা ও সামরিক সম্মান
ন্যাশনাল ডিফেন্স অ্যাকাডেমির (NDA) এই প্রাক্তনী পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের ডিফেন্স সার্ভিসেস স্টাফ কলেজ এবং ভারতের ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজ (NDC) থেকেও উচ্চতর সামরিক পাঠ সম্পন্ন করেন। দেশসেবায় অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ২০০৬ সালে বায়ুসেনা পদক (Vayu Sena Medal), ২০১১ সালে বিশিষ্ট সেবা পদক (Vishisht Seva Medal), ২০২৩ সালে অতি বিশিষ্ট সেবা পদক (Ati Vishisht Seva Medal) এবং ২০২৬ সালে সর্বোচ্চ পরম বিশিষ্ট সেবা পদকে (Param Vishisht Seva Medal) সম্মানিত হয়েছেন এয়ার মার্শাল আশুতোষ দীক্ষিত।




