ফ্লেমিংয়ের সঙ্গে প্রায় দু’দশকের সম্পর্ক শেষ হওয়ার পর চেন্নাই সুপার কিংসের কোচের দায়িত্বে এলেন এক ভারতীয়। আগামী বছর আইপিএল থেকে পাঁচ বারের চ্যাম্পিয়ন দলের হেড কোচের দায়িত্ব সামলাবেন ভারতের প্রাক্তন বাঁহাতি পেসার জাহির খান। স্টিফেন ফ্লেমিংয়ের জায়গায় তাঁকে নিয়োগ করল সিএসকে। সোমবারই এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে দিল চেন্নাইয়ের এই ফ্র্যাঞ্চাইজি।
২০০৮-এ আইপিএলের প্রথম মরসুম থেকেই চেন্নাইয়ের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন ফ্লেমিং। প্রথমে ক্রিকেটার হিসাবে, পরে ২০০৯ থেকে কোচ হিসাবে। তাঁর অধীনে পাঁচ বার আইপিএল এবং দু’বার চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টি টোয়েন্টি জিতেছে সিএসকে। ১২ বার প্লে-অফে এবং ১০ বার ফাইনালে উঠেছে দল। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে ছন্দ হারায় চেন্নাই। ২০২৫ ও ২০২৬—পর পর দু’মরসুমে লিগ তালিকার একেবারে নীচে শেষ করে তারা। এর পরেই ফ্লেমিংয়ের সঙ্গে দীর্ঘ সম্পর্কের ইতি ঘটে।
ফ্লেমিংয়ের উত্তরসূরি হিসাবে এ বার জাহিরকে নিয়ে এল চেন্নাইয়ের দল। ভারতের ২০১১ বিশ্বকাপজয়ী দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন তিনি। দেশের হয়ে ৯২টি টেস্ট, ২০০টি ওয়ান ডে এবং ১৭টি টি-টোয়েন্টি খেলেছেন তিনি। আইপিএলে তাঁর ম্যাচের সংখ্যা ১০০। অবসর নেওয়ার পর কোচিং এবং মেন্টর হিসাবে কাজ করেছেন। ২০২৫-এ লখনউ সুপার জায়ান্টসের মেন্টর তথা বোলিং কোচ ছিলেন। তার আগে মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের ডিরেক্টর অফ ক্রিকেট এবং পরে হেড অফ গ্লোবাল ডেভেলপমেন্টের দায়িত্বও সামলেছেন।
চেন্নাইয়ের নতুন দায়িত্ব পেয়ে জাহির বলেছেন, ‘আইপিএলের ইতিহাসে অন্যতম সফল দলের অংশ হতে পারা আমার কাছে সম্মানের। ক্রিকেটার হিসাবে মাঠে সিএসকে-র বিরুদ্ধে খেলেছি এবং সেই লড়াইগুলো খুব উপভোগ করেছি। চিপকের গ্যালারিতে সুপারফ্যানদের তৈরি করা পরিবেশ এই দলকে আরও স্পেশ্যাল করে তোলে। এত সমৃদ্ধ ইতিহাস এবং ঐতিহ্যের এই ফ্র্যাঞ্চাইজির অংশ হওয়ার জন্য আর অপেক্ষা করতে পারছি না’।
সিএসকে মালিক রূপা গুরুনাথও নতুন কোচকে নিয়ে আশাবাদী। তিনি বলেছেন, ‘চেন্নাই সুপার কিংসের হেড কোচ হিসাবে জাহির খানকে নিয়োগের কথা জানাতে পেরে আমরা খুশি। তাঁর দুর্দান্ত ক্রিকেটজীবন এবং তরুণ প্রতিভা তৈরি করার দক্ষতা আমাদের দলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা বিশ্বাস করি, তাঁর দিশা এই ফ্র্যাঞ্চাইজির মূল কাঠামোকে আরও শক্তিশালী করবে’।
সিএসকে-র ম্যানেজিং ডিরেক্টর কে এস বিশ্বনাথন বলেন, ‘জাহির বিশ্বমানের বোলার। বছরের পর বছর ধরে বিশেষ করে তরুণ পেসারদের মেন্টর হিসাবে কাজ করেছেন। ক্রিকেটার হিসাবে ২০০০-এর দশকে ভারতের সাফল্যের অন্যতম কারণ ছিলেন তিনি। ওঁর ক্রিকেটীয় বোধ অসাধারণ। তাঁকে আমাদের পরিবারের অংশ হিসাবে পাওয়ার জন্য আমরা মুখিয়ে আছি’।
ফ্লেমিংয়ের দীর্ঘ অধ্যায়ের পর জাহিরের হাত ধরে নতুন পথে হাঁটতে চলেছে সিএসকে। আইপিএল ২০২৭-এ তাঁর সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে নতুন প্রজন্মের ক্রিকেটারদের নিয়ে চেন্নাইয়ের দলকে ফের শক্তিশালী করে তোলা।




