আফগানিস্তান ক্রিকেটের এক স্বর্ণযুগের অবসান যে এ ভাবে হবে, তা বোধহয় কেউই ভাবতে পারেননি। মাত্র ৩৮ বছর বয়সে প্রয়াত হলেন দেশের প্রাক্তন বাঁহাতি জোরে বোলার শাপুর জাদরান। বিরল ও প্রাণঘাতী রোগ হেমোফ্যাগোসাইটিক লিম্ফোহিস্টিওসাইটোসিস (HLH)-এর সঙ্গে দীর্ঘ লড়াইয়ের পর মঙ্গলবার তাঁর মৃত্যু হয়। গত জানুয়ারি থেকে তিনি নয়াদিল্লির একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
আফগানিস্তানের ক্রিকেটকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে প্রতিষ্ঠিত করার অন্যতম পথিকৃৎ ছিলেন শাপুর। অসুস্থ হয়ে পড়ার পর গত অক্টোবরে আফগানিস্তানেই চিকিৎসা শুরু হয় তাঁর। পরে চিকিৎসকদের পরামর্শে তাঁকে ভারতে আনা হয়। প্রথমদিকে অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলেও হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার প্রায় ২০ দিনের মধ্যেই ফের তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে।
শাপুরের মৃত্যুর খবরে শোকবার্তা প্রকাশ করেছে আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (ACB)। বোর্ডের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “গভীর শোক ও দুঃখের সঙ্গে আফগানিস্তানের প্রাক্তন জোরে বোলার শাপুর জাদরানের মৃত্যুতে আমরা শোক প্রকাশ করছি। শাপুর আফগানিস্তান ক্রিকেটের ভিত গড়ে তোলা ব্যক্তিত্বদের অন্যতম ছিলেন। তাঁর নিষ্ঠা, আবেগ ও পরিশ্রম আমাদের দেশে ক্রিকেটের উত্থান ও বিকাশে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। আফগানিস্তানের ক্রিকেটের শুরুর যাত্রায় তিনি ছিলেন অন্যতম গর্বের সদস্য এবং আন্তর্জাতিক মঞ্চে দেশের ক্রিকেটকে পৌঁছে দেওয়ার পথ নির্মাণে বড় অবদান রেখেছেন।”
২০০৯ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে আফগানিস্তানের হয়ে ৪৪টি একদিনের আন্তর্জাতিক এবং ৩৬টি টি-২০ আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন শাপুর। এই বাঁহাতি পেসার আফগান ক্রিকেটের উত্থানের অন্যতম মুখ ছিলেন। বিশেষ করে ২০১৫ বিশ্বকাপে স্কটল্যান্ডের বিরুদ্ধে আফগানিস্তানের প্রথম বিশ্বকাপ জয়ে জয়সূচক বাউন্ডারি হাঁকিয়ে ইতিহাসের অংশ হয়ে যান তিনি।
HLH একটি বিরল কিন্তু অত্যন্ত বিপজ্জনক রোগ, যেখানে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা অস্বাভাবিকভাবে সক্রিয় হয়ে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের ক্ষতি করতে শুরু করে। মূলত শিশুদের মধ্যেই এই রোগ বেশি দেখা গেলেও শাপুর-এর দুর্ভাগ্য যে সেই বিরল রোগের শিকার হয়েছিলেন তিনিও।




