‘হেক্সা’ জয়ের লক্ষ্যে শনিবার গভীর রাতে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করতে চলেছে ব্রাজিল। নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে তাদের প্রতিপক্ষ মরক্কো। এই ম্যাচে নামার আগে কোচ কার্লো আন্সেলোত্তির চিন্তা বাড়িয়েছে নেইমারের চোট। ম্যাচের আটচল্লিশ ঘন্টা আগেও দলের সঙ্গে অনুশীলন করেননি ব্রাজিলিয়ান এই তারকা। স্বাভাবিকভাবেই, এই ম্যাচে তাঁকে পাচ্ছে না ব্রাজিল। জানা গিয়েছে, চোট কাটিয়ে এখনও পুরোপুরি ফিট হয়ে উঠতে পারেননি তিনি। সান্তোসের হয়ে খেলতে গিয়ে পায়ে গ্রেড টু টিয়ার হয়েছিল নেইমারের। ফলে, এখনও রিহ্যাব চলছে তাঁর। এ বাদে বাকি দল পুরোপুরি ফিট। বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে মরক্কোর বিরুদ্ধে নামার আগে যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী আন্সেলোত্তির দল।
এই প্রসঙ্গে বলা যায়, বিশ্বকাপের আসরে অন্যতম ধারাবাহিক দল ব্রাজিল। ১৯৩০ সালে টুর্নামেন্টের সূচনা থেকে প্রতিটি আসরে অংশ নিয়েছে সেলেকাও’রা। পাশাপাশি, পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নও তারা। যদিও, ২০০২ সালের পর আর বিশ্বকাপ ট্রফি জিততে পারেনি রবার্তো কার্লোস, কাকা’দের দেশ। এমনকি, ২০০২ সালের পর থেকে একবারও ফাইনালের ছাড়পত্র পায়নি তারা। শেষবার, ২০১৪ সালে ঘরের মাঠে সেমিফাইনালে ৭-১ গোলে লজ্জার হারে শেষ চার থেকেই বিদায় নিতে হয়েছিল তাদের। ফলে, এবার দীর্ঘ ২৪ বছরের খরা কাটানোর লক্ষ্যে বদ্ধপরিকর রাহিনহা, ভিনিসিয়াস জুনিয়র’রা।
এদিকে, বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথমবারের জন্য কোনও বিদেশী কোচের অধীনে খেলতে নামছে সাম্বার দেশ। ক্লাব ফুটবলে অসংখ্য সাফল্য পেলেও এটাই প্রথম বিশ্বকাপ আন্সেলোত্তির। আর তাঁর হাত ধরেই ফের বিশ্বজয়ের স্বপ্ন দেখছে আপামর ব্রাজিল সমর্থকরা। ষষ্ঠ বিশ্বকাপ জয়ের লক্ষ্যে আক্রমণে ব্রাজিল দলের প্রধান ভরসা অবশ্যই রাফিনহা। বাছাইপর্বে পাঁচ গোল ও দুই অ্যাসিস্ট রয়েছে বার্সেলোনার এই তারকার নামের পাশে। গত মরসুমেও দুর্দান্ত ছন্দে ছিলেন তিনি। ফলে, নেইমারের অনুপস্থিতিতে তাঁকে বাড়তি দায়িত্ব নিতেই হবে।
যদিও, প্রতিপক্ষ মরক্কোকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই আন্সেলোত্তির কাছে। ২০২২ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠেছিল আফ্রিকার এই দলটি। শুধু তাই নয়, বাছাইপর্বেও সবকটি ম্যাচ জিতেছে তারা। দলে আচরাফ হাকিমি, ব্রাহিম দিয়াজ, আয়ুব এল কাবির মতো তারকারা রয়েছেন। মিডফিল্ডার ইসমাইল সাইবারিও দুর্দান্ত ফর্মে রয়েছেন। তাই, ব্রাজিলকে হারিয়ে বিশ্বকাপে ফের অঘটন ঘটাতে মরিয়া তারা।
তবে, প্রথম ম্যাচে নামার আগে প্রতিপক্ষের মতোই চোট সমস্যায় জেরবার মরক্কোও। দলের অন্যতম দুই খেলোয়াড় আব্দি এজ্জালজৌলি ও নাইয়েফ আগুয়ের্দ বিশ্বকাপ শুরুর আগেই দল থেকে ছিটকে গিয়েছেন। প্রথম ম্যাচে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের ডিফেন্ডার নুসায়ের মাজরাউইয়ের খেলাও অনিশ্চিত।
বিশ্বকাপে এর আগে মাত্র একবারই মুখোমুখি হয়েছে এই দুই দল। ১৯৯৮ সালে সেই ম্যাচে জিতেছিল ব্রাজিল। ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত সেই বিশ্বকাপে রোনাল্ডো, রিভালদো এবং বেবেতোর গোলে মরক্কোকে ৩-০ গোলে হারিয়েছিল তারা। তবে ২০২৩ সালের ফিফা ফ্রেন্ডলি ম্যাচে ২-১ ব্যবধানে জয় পেয়েছিল মরক্কো। সবমিলিয়ে, ‘হেক্সা’ জয়ের লক্ষ্যে প্রথম ম্যাচে লড়াইটা যে খুব একটা সহজ হবে না ব্রাজিলের তা বলাই বাহুল্য।




