‘বাংলাকে টাইট দিতেই এত বাহিনী’ কমিশনকে তোপ মমতার

Written by SNS May 28, 2024 2:11 pm

নিজস্ব প্রতিনিধি— দীর্ঘকালীন নির্বাচন ঘোষণা নিয়ে আগেই নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে তোপ দেগেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় থেকে তাঁর দল তৃণমূল কংগ্রেস৷ তবে এই জল্পনার মধ্যেই কেটে গিয়েছে ছ’দফার নির্বাচন৷ এরই মাঝে কেন্দ্রীয় বাহিনীর সংখ্যা নিয়ে সরব হলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ সোমবার কলকাতা উত্তরের প্রার্থী সুদীপ বন্দোপাধ্যায়ের সমর্থনে আয়োজিত বড়বাজারের সভা থেকে বিজেপি তো বটেই পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনেরও কড়া সমালোচনা করলেন মমতা৷ স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে কড়া ভাষায় আক্রমণ শানালেন তিনি৷ মমতার অভিযোগ, মোদী যাতে সময় নিয়ে ঘুরতে পারেন তার জন্যই এত দফায় ভোট করানো হচ্ছে৷ সভামঞ্চ থেকে কমিশনকে নিশানা করে তাঁর আক্রমণ, ”তিন মাস ধরে নির্বাচনের কোনও প্রয়োজন ছিল না৷ মে মাসের মাঝামাঝি ভোট শেষ করে দেওয়া উচিত ছিল৷ কিন্ত্ত শুধু নরেন্দ্র মোদীকে অ্যাডভান্টেজ দেবে বলে, যাতে উনি সময় নিয়ে ঘুরতে পারেন, তাই সাত দফা ধরে ভোট করানো হচ্ছে৷” অন্যান্য রাজ্যে এক দফা বা দু-তিন দফায় ভোট হলে কেন বাংলাতেও তা করা যাবে না, সে প্রশ্নও তোলেন মমতা৷ তাঁর প্রশ্ন, “তামিলনাড়ুতে যদি একদিন ৪০ আসনে ভোট হতে পারে, তাহলে বাংলায় কেন একদিন ৪ আসনে ভোট হল?” দুই বা ততোধিক দফায় নির্বাচন হলে জনসাধারণের মধ্যে ভোটদানের প্রবণতা কমতে থাকে৷ পাশাপাশি উন্নয়নের কাজও স্তব্ধ হয়ে যায় যা রাজ্যের পক্ষে হানিকারক, এই অভিযোগ আগেও করেছিলেন মমতা৷

এবার কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়েও নির্বাচন কমিশনকে তোপ মুখ্যমন্ত্রীর৷ নজিরবিহীনভাবে এবারের ভোটে বাংলায় কেন্দ্রীয় বাহিনী সংখ্যা সবথেকে বেশি৷ প্রায় ৯২০ কোম্পানি বাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন৷ এক এক দফাতেও আগের থেকে বেশি সংখ্যক জওয়ান মোতায়েন ছিলেন৷ এই বিপুল বাহিনী মোতায়েনের বিষয় নিয়েও সমালোচনা করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ বিজেপির কথাতেই নির্বাচন কমিশন এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে তাঁর অভিযোগ৷ মমতা বলেছেন, ”আর কোনও রাজ্যে এত কেন্দ্রীয় বাহিনী নেই৷ সব পাঠানো হয়েছে বাংলায়৷ কারণ বাংলাকে আপনারা পছন্দ করেন না৷ বাকি রাজ্য আপনাদের বিরুদ্ধে লড়তে পারে না, কিন্ত্ত আমরা বাংলার মানুষেরা লড়াই করি, তাই আমাদের টাইট দেওয়ার জন্যই এত বাহিনী পাঠানো হয়েছে৷”

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, বিপুল সংখ্যক বাহিনী মোতায়েনের জেরে এবারের নির্বাচন হয়েছে তুলনামূলক শান্তিপূর্ণ৷ কিন্ত্ত কিছুক্ষেত্রে আবার কেন্দ্রীয় বাহিনী কর্তৃক মহিলা অসম্মানের অভিযোগ উঠে এসেছে৷ তারও কড়া ভাষায় নিন্দা করেছে রাজ্যের শাসক দল৷ তবে নির্বাচন কমিশন সূত্রের খবর, ভোটের সময় এবং ভোট পরবর্তী হিংসা ঠেকাতেই বিপুল সংখ্যক কেন্দ্রীয় বাহিনী পাঠানো হয়েছে এবং ভোটের পরও রাজ্যে থাকবে এই কেন্দ্রীয় বাহিনী৷ এমনকি পরিস্থিতি বিচার করে ভোটের পর প্রয়োজনে আরও দেড় মাস রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় পাহারা দিতে পারে কেন্দ্রীয় বাহিনী৷