রাজ্যে চলছে এসআইআর-এর শুনানি পর্ব। খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশের পর দেখা যায় মতুয়াদের একটা বড় অংশের নাম বাদ পড়েছে তালিকা থেকে। তা নিয়ে মতুয়াদের মধ্যে তৈরি হয় আশঙ্কা। নাগরিকত্ব হারানোর ভয়ে কাঁটা হয়ে আছেন মতুয়ারা। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেন, ‘মতুয়াদের ভয়ের কোনও কারণ নেই। কেউ ওদের ক্ষতি করতে পারবে না। যাঁরা শরণার্থী হয়ে বাংলায় এসেছেন, তাঁদের সকলকে নাগরিকত্ব দেওয়া হবে।’ শান্তনু ঠাকুরকে পাশে নিয়েই তিনি বললেন, ‘মতুয়াদের ভয়ের কোনও কারণ নেই।
যারা শরণার্থী হয়ে বাংলায় এসেছে, কেউ ওদের ক্ষতি করতে পারবে না। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও পারবেন না। তাদের সকলকে নাগরিকত্ব দেওয়া হবে।’বিশেষ নিবিড় সংশোধন নিয়ে বারবার সরব হয়েছে শাসক দল। ছাব্বিশের নির্বাচনের আগে এসআইআর রাজনৈতিক চক্রান্ত বলে দাবি করেছে তৃণমূল। আতঙ্কে ছিলেন মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষরাও। যদিও বিজেপির তরফে তাঁদের বারবার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল যে, চিন্তার কোনও কারণ নেই। গাইঘাটার ঠাকুরবাড়িতে প্রতিবাদসভার ডাক দিয়েছিলেন অল ইন্ডিয়া মতুয়া মহাসংঘের আরেক সংঘাধিপতি তথা তৃণমূল সাংসদ মমতাবালা ঠাকুর। তা নিয়ে ধুন্ধুমার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল।
Advertisement
অনুপ্রবেশকারীদের দেশ থেকে তাড়ানোর হুমকি দেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এসআইআর চালু হওয়ার পর থেকে নাগরিকদের অযথা হয়রানি করা হচ্ছে বলে অভিযোগে সরব তৃণমূল কংগ্রেস। হয়রানির অভিযোগের বিরুদ্ধে পাল্টা সুর চড়িয়েছেন শাহ। তিনি বলেন, ‘বেছে বেছে অনুপ্রবেশকারীদের তাড়াব। আর সেই কারণেই এসআইআর হচ্ছে। কোনও মানুষ তো দূরের কথা, একটি পাখিও গলতে পারবে না। এমন কড়াভাবে কাজ করা হবে। অনুপ্রবেশকারীদের তাড়ানোর কাজ তৃণমূল সরকারে করেনি, পারেওনি।
Advertisement
এটা একমাত্র পারে ভারতীয় জনতা পার্টি।’ ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের খসড়া তালিকায় প্রায় ৫৮ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ গিয়েছে। এই তালিকায় একজন বাংলাদেশি বা রোহিঙ্গার নাম নেই বলে বারবার দাবি করেছে তৃণমূল। শাসক নেতাদের কণ্ঠে বারবার এই অভিযোগও শোনা গিয়েছে, সীমান্তে অনুপ্রবেশ আটকানোর দায়িত্ব বিএসএফের। আর সীমান্ত রক্ষা বাহিনী স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অধীনে। এরও জবাব দিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। শাহ বলেছেন, ‘সীমান্তে কাঁটাতার দিতে জমি প্রয়োজন। সেই জমি দিতে চায় না রাজ্য সরকার।
বিএসএফকে যথাযথ পরিকাঠামো দিলে তবে তো তারা ঠিকমতো সীমান্ত রক্ষা করতে পারবে। জমি চেয়ে কেন্দ্র বারবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারকে চিঠি দিয়েছে, জমি পাওয়া যায়নি এখনও।’অনুপ্রবেশ শুধু বাংলার নয়, গোটা দেশে সমস্যা বলে তিনি মনে করিয়ে দিয়েছেন। এই সমস্যার নির্মূল না হলে বড় বিপদের আশঙ্কা রয়েছে। আর বিজেপি তা রুখে দিতে সক্ষম। এ নিয়ে পাল্টা প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন তৃণমূলের অন্যতম রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ। তিনি বলেছেন, ‘অনুপ্রবেশের কথা বলছেন আপনি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, অনুপ্রবেশ হলে সেটা আপনার ব্যর্থতা।
এই তো কয়েকদিন আগে রোহিঙ্গা, বাংলাদেশিরা ধরা পড়েছে। কোথা থেকে ধরা পড়েছে? কথা বলার আগে ভেবে বলুন।’ তৃণমূল ও গেরুয়া শিবিরের সেটিং তত্ত্ব নিয়ে প্রায়শই রাজনীতির ময়দানে গুঞ্জন শোনা যায়। সেই গুঞ্জনে এবার জল ঢেলে দিলেন অমিত শাহ। সাংবাদিক বৈঠকে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি সাফ বলেন, ‘তাহলে আমি এখানে কেন?’ বিজেপির একমাত্র লক্ষ্য বাংলা থেকে তৃণমূলকে তাড়ানো। এদিন সেকথা স্পষ্ট করে দিয়ে শাহ বলেন, ‘বিজেপির নীচুতলার কর্মী থেকে শুরু করে নরেন্দ্র মোদী, সকলেই চান শিকড় থেকে তৃণমূলকে বাংলা থেকে উপড়ে ফেলতে।’ তাঁর আরও ব্যাখ্যা, ‘নরেন্দ্র মোদীজি নিজে কিছুদিন আগেও বাংলায় এসেছিলেন। জনসভা হয়নি, সেটার আলাদা কারণ আছে। তা নিয়ে যদি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভ্রান্ত ধারণা ছড়াতে চান, ছড়াতে পারেন।’
Advertisement



