• facebook
  • twitter
Tuesday, 20 January, 2026

ঘনিষ্ঠ হতে চাওয়ার মুহূর্তে

আশার কথা এই রম্ভা কোনও সাধারণ অ্যাপ্রেনটিস নয়। তাই এই প্রশ্ন উত্তর পর্বও নিছক কোনও ছকে বাঁধা জাগলারি হয়ে উঠবে না তার কাছে।

কাল্পনিক চিত্র

রাজেশ কুমার

রম্ভা এক অদ্ভুত যন্ত্রমানবী। তার মস্তিষ্ক আসলে কৃত্রিম। কমপিউটার চালিত, জটিল এবং অত্যাধুনিক এক যন্ত্র। সেখানে সেরিব্রাম, থ্যালামাস, হাইপোথ্যালামাস ইত্যাদির কোনও অস্তিত্ব নেই। একজন সুস্থ স্বাভাবিক রক্ত-মাংসের মানুষের মতো নেই কোনও গ্রে-ম্যাটারও। তার আসলে নিজস্ব কোনও বুদ্ধি, বিদ্যাই নেই। আছে শুধু এক মডেল গার্লের মতো শরীর। তীব্র আকর্ষণীয়, যৌনগন্ধী অভিগমন। তার রম্ভা নামটিও দেওয়া হয়েছে পৌরাণিক এক অপ্সরা, স্বর্গের নর্তকীর নাম অনুসারে।

Advertisement

রম্ভা যন্ত্রমানবী হলেও তার শরীর কিন্তু রক্ত মাংসের। সে যেন প্রকৃতি আর প্রজ্ঞার এক চূড়ান্ত মিশ্রণ। বহু বছরের সৃষ্টি আর সাধনার ফসল। একবার চোখ পড়লে তার দিক থেকে আর চোখ ফেরানো যায় না। একবার কথা বলতে শুরু করলে থামা যায় না আর। এমনই সাজানো গোছানো অথচ তীব্র আবেদনময় তার বলা। যেন সবকিছুই আগে থাকতে জানে সে, কোন কথার পিঠে কোন কথা আসবে। পৃথিবীর সব প্রশ্নেরই যেন উত্তর আছে তার কাছে, বইয়ের বাঁধানো দুই মলাটের মতো। কন্ঠস্বরটিও ভারী মধুর। যেন সত্যিই কোনও অপ্সরী নেমে এসেছে আকাশ পথে। যে অফিসে আঠেরো ঘন্টা কাজ সেই অফিসকে দেবে এক নতুন উদ্দ্যম।

Advertisement

কাচের স্যুইং ডোর ঠেলে বসের চেম্বারে ঢুকতে ঢুকতেই তার ঘাড়, গর্দানজুড়ে হালকা ঘাম অনুভব করল আরিন। যদিও তাদের পুরো ফ্লোর স্পেসজুড়ে সেন্ট্রাল এসি। একটা অত্যাধুনিক কর্পোরেট অফিসের ডেকরেশন। আধুনিক প্রযুক্তি ও নান্দনিকতার প্রতিফলন। পুরো অফিসজুড়ে মিনিমালিস্টিক ও স্লিক ডিজাইন, ওপেন-স্পেস লেআউট, ছাদে ইনবিল্ট এলইডি প্যানেল লাইটিং, মেঝেতে লাইট গ্রে ফিনিশ। এসবই করা হয়েছে দীর্ঘ একঘেয়ে কাজের ফাঁকে কর্মচারীদের প্রয়োজনীয় মেন্টাল স্পেস দিতে। কাজের পরিবেশে এক ধরনের সতেজতা বজায় রাখতে।

তবুও ঘেমে উঠেছিল আরিন। কারণ বসের ঠিক পাশের চেয়ারটাতেই বসেছিল রম্ভা। আর আরিন জানে ঠিক এই মুহূর্তে কেন তাকে ডেকে পাঠিয়েছে বস। সারা অফিসে শুধু সেই জানে।

শিক্ষানবিশ হিসাবে জয়েন করলেও রম্ভা আসলে একটা এক্সপেরিমেন্টাল প্রজেক্ট। যার সাফল্যের দায়িত্ব একেবারে প্রথম দিন থেকেই নিতে হবে আরিনকে। গতকালই ম্যানেজমেন্টের তরফে এক গোপন মিটিংয়ে নেওয়া হয়েছে সিদ্ধান্তটি। এবং জানানো হয়েছে তাকে।

ইয়োর পেশেন্স, ইয়োর কুললিনেশ, দ্য ওয়ে ইউ টক উইথ ইয়োর কলিগস্। অ্যান্ড মোর ওভার ইয়োর ক্যাপাসিটি টু হ্যান্ডল দ্য আনফরসিনস। এইসব কারণেই বাছা হয়েছে তোমায়।

প্রজেক্ট নয় যেন হাতে স্পেসশিপ পেয়েছে আরিন। সোজা উড়ে যেতে পারবে মহাকাশে। প্রতিদ্বন্দ্বীদের পেছনে ফেলে। ফাকিং অ্যাশ বলে উত্তেজনায় সে ঘুসি মেরে উঠেছিল টেবিলে, কারও কারও মুখ মনে করে। তারপর সতর্ক হয়ে উঠেছিল হঠাৎ-ই। এই ধরণের প্রজেক্টে কমপ্যাটেবিলিটি একটা বড় ফ্যাক্টর। কনস্ট্যান্ট স্ক্যানিং অ্যান্ড অবজারভেশন। আর তার অর্থ এই দাঁড়ায় কাজ শুরু করে দিয়েছে রম্ভা, সেই রহস্যময় যন্ত্র অথবা নারী কিম্বা যন্ত্র-নারী যার সম্পর্কে সামান্যই ব্রিফ করা হয়েছে আরিনকে। মাত্র কিছু দিন হল এই অফিসে আনা হয়েছে রম্ভাকে। আর এর মধ্যেই দে অল আর আন্ডার স্ক্যানিং, ভাবে আরিন। তার এই ক’দিনের প্রযুক্ত কৌশল, প্রত্যুৎপন্নমতিত্ব, এমনকী কাজ সংক্রান্ত যাবতীয় সিদ্ধান্ত হয়ত রম্ভার মগজে। প্রক্রিয়াকরণে, বিশ্লেষণে এবং উপনিত সিদ্ধান্তে। নিজেকে জাস্টিফাই করার কারণ খোঁজে সে।

আরিন সোমের চেম্বারে ঢুকতেই যান্ত্রিক হাসি হাসল রম্ভা। তার মুখের নির্বাচিত কয়েকটা পেশি কেঁপে উঠল যেন নির্দিষ্ট পরিমাণে। ঠিক যতটুকু কাঁপলে হৃৎপিণ্ডে রক্ত চলকে ওঠে পুরুষের। তার মনে পড়ে যায় মোনালিসার কথা কিম্বা মেরিলিন মনরো। ঘাড় গর্দানের চাপ চাপ ঘামটা আরও একবার অনুভব করল আরিন। যেন সে এক চৌম্বক ক্ষেত্রের মধ্যে রয়েছে। এক অদৃশ্য আকর্ষণ ভেতরে ভেতরে অস্থির করে তুলছিল তাকে। কর্মক্ষেত্রে সুন্দরী সহকর্মীর অভাব নেই। হয়তো অভাব নেই গোপন নারীসঙ্গেরও। কিন্তু এ এক অচেনা জগৎ। আর কে না জানে অচেনার প্রতি মানুষের এক দুর্বার আকর্ষণ সেই আদম আর ইভের সময় থেকেই।

আরিন বুঝতে পারে না কী বলে সম্বোধন করবে রম্ভাকে! ম্যাডাম! নাকি রম্ভা! এই কর্পোরেট ওয়ার্ল্ডে মিস, মিসেস-এর কোনও জায়গা নেই। তার ওপর একটু তলিয়ে ভাবলে আরিন আর রম্ভার সম্পর্কটা শুরু হতে চলেছে খানিকটা জটিলতার মধ্যেই। রম্ভা ম্যানেজমেন্টের প্রতিনিধি। স্বাভাবিকভাবেই হায়ারার্কিতে সে আরিনের উঁচুতে। আবার উলটো দিকে আরিনের বিদ্যা বুদ্ধি পেশাগত যোগ্যতা ছাড়া রম্ভার অফিসিয়াল কোনও গুরুত্ব নেই। জাস্ট একটা ফাঁকা বাক্স।
কোনও রকমে একটা সৌজন্য বিনিময় করল আরিন। রম্ভাকে দেখিয়ে সোম বলল, ফর নেক্সট সিক্স মান্থস শী উইল বী ইওর শ্যাডো। ফিগার ইট আউট অ্যামাঙ্গ ইয়োরশেলফ। আরিন উঠে দাঁড়াল থ্যাংকিউ বলে।

এরকম এক অদ্ভুত পরিস্থিতি আরিনের জীবনে আগে কখনও আসেনি। শুধু আরিন কেন! আর কারও জীবনেও এসেছে বলে শোনেনি সে। কর্পোরেট ইতিহাসেই তো প্রিভিয়াস কোনও ইনস্টান্স নেই। একজন কলিগ, তাকে মানুষ ভাববে নাকি যন্ত্র! এই ভাবনাই ভেতরে ভেতরে তাকে অস্থির করে তুলেছে, বুঝতে পারে আরিন। দখল করে রেখেছে তার সাব-কনসাস। আর মনের সঙ্গে এই প্রথমিক সমঝতার রফা সূত্র পাওয়া না গেলে রম্ভার সঙ্গে তার কমিউনিকেশনটাও গড়ে উঠবে না ঠিকঠাক। যে কোনও পরিকল্পনা সফল হতে সাকশেসফুল বোথওয়ে কমিউনিকেশন সবচেয়ে বেশি জরুরি। আর ঠিক এই জায়গাটাই আরিনকে ভাবাচ্ছে সব থেকে বেশি। মানুষ এবং যন্ত্রের সম্পর্ক সবচাইতে সহজ। শুধু কতকগুলো কম্যান্ড ঠিকঠাক চ্যানেলে পৌঁছে দেওয়া।

মানুষে মানুষে সম্পর্ক তুলনামূলক জটিল হলেও, তার কিছু রফাসূত্র আছে। অন্তত দীর্ঘ দিনের হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট-এর প্র্যাকটিস তাই বলছে। এসব নিয়ে পৃথিবী বিখ্যাত বেশ কিছু তত্ত্বও আছে। কলেজ, ইউনিভারসিটিতে পড়ানো হয়। কিন্তু মানুষে আর যন্ত্র-মানুষে! তার তো কোনও ফরমূলাই আবিস্কার হয়নি আজ পর্যন্ত। মেয়েটা যে কতটা যন্ত্র আর কতটা মানুষ! সেটা অনুমান করতে গিয়েই তো তল পাচ্ছে না আরিন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বোঝাপড়ার একটা উপায় বেরিয়ে আসবে ঠিকই, বার বার নিজেকে আত্মবিশ্বাস যোগাতে এ-কথাই বোঝাচ্ছে সে। আর আরিন জানে একবার বিষয়টা বুঝে নিলে তাকে আটকানোর ক্ষমতা নেই আর কারও। কোনও কোনও জার্নি শুরু হয় ভোরের কুয়াশার মধ্যে দিয়ে। বেলা বাড়লে রাস্তা স্পষ্ট হয়ে যায় এমনি এমনিই। এটাও ঠিক সেরকম।

ওদিকে রম্ভার বিষয়টা আলাদা। সে তো প্রকৃতি আর প্রজ্ঞার এক আশ্চর্য মিশ্রণ, তার শরীর আছে কিন্তু মন নেই। এক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আছে। অনুভূতি নেই, আছে শুধু এক ধরণের সংশ্লেষ। তাই আরিনের মতো কোনও সংশয় জমা হয়ে ওঠা সম্ভব নয় তার ভেতর। তবে আরিন কী ভাবছে! কোথায় অস্বস্তিতে ভুগছে সবকিছুই এক অদৃশ্য সিগন্যালের মতো পৌঁছে যাচ্ছে তার কাছে। আর সেইসব চিন্তা ভাবনা নিজের ভেতর প্রসেস করে এক ধরনের মানুষের মতো আচরণ করতে সচেষ্ট হচ্ছে সে। প্রচন্ড আলোর মধ্যে একটু একটু পথ খুঁজে চলেছে যেন এক অন্ধ যুবতীর মতো।

কোথায় পৌঁছানোর আছে, কার আদেশে চলেছে, তা ঠিক নিজেও জানে না সে। শুধু আরিনের প্রতিটা অনুভূতি এক নতুন অভিজ্ঞতা হিসাবে জমা করে চলেছে তার ভেতর। মাথার মাইক্র চিপে ঘটে চলেছে সেসবের অবিরাম যান্ত্রিকীকরণ। যেন এক নিঃশব্দ গ্যালভানাইসিং প্রসেস। আরিনের নিউরোনে নিউরোনে প্রবাহিত হচ্ছে যে স্নায়বিক আন্দোলন রম্ভা যেন প্রস্তুত করছে তারই এক সাধারণ যান্ত্রিক রূপ, যা তাকে পথ দেখাবে আগামী দিনে সমস্যা চিহ্নিতকরণে ও স্বতঃস্ফূর্ত সমাধানে। আপাতত এটুকুই তার কাজ।

সে যাইহোক, আরিনের ডাকে সাড়া দেয় রম্ভা। বলে, লেটস গো। লেটস স্টার্ট দ্য ওয়ার্ক। আরিন লক্ষ্য করে রম্ভার চোখে কিছু একটা আছে যা হৃদস্পন্দন বাড়ায় পুরুষের। সঙ্গে ‘ফিল গুড’ হরমোনের ক্ষরণ। খানিকটা রিল্যাক্সড হয় সে। মানুষ বা যন্ত্র যাই হোক, রম্ভা তাকে স্টিম্যুলেশন দেবে। বোরডম থেকে মুক্তি। আকর্ষণ, উষ্ণতা, ভালোলাগা এইসব আর কী। এ কথা ভেবেই মনে মনে খুশি হয় আরিন। স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে সে টেনে নেয় চেয়ার। ইশারায় রম্ভাকে বলে, প্লিজ বী সিটেড। তারপর জিজ্ঞেস করে, চা না কফি!

রম্ভা ইতস্তত করে খানিক। আরিন বোঝে অপশন আসলে এক অবস্ট্রাকশন রম্ভার কাছে। যান্ত্রিক পদ্ধতিতে সে হয়তো শেষ পর্যন্ত বেছে নিতে সক্ষম হবে একটা কিছু। কিন্তু সেটাই যে তার জিভের স্বাদ কোরকের সিদ্ধান্ত তার কোনও নিশ্চয়তা থাকবে না। বিষয়টা অনুধাবন করে মনে মনে বেশ মজা পায় আরিন। বেয়ারাকে ডেকে দুটো কফি অর্ডার করে চিন্তা করে সে, আসলে তাকেই প্লে করতে হবে ডুয়েল রোল। একবার আরিন হয়ে করতে হবে প্রশ্ন। আর একবার রম্ভা হয়ে দিয়ে দিতে হবে উত্তর। আপাতত এই কাজই তাকে করে যেতে হবে বারংবার, অবিচ্ছেদ্য ভাবে।

তবে আশার কথা এই রম্ভা কোনও সাধারণ অ্যাপ্রেনটিস নয়। তাই এই প্রশ্ন উত্তর পর্বও নিছক কোনও ছকে বাঁধা জাগলারি হয়ে উঠবে না তার কাছে। রম্ভার এই প্রজেক্ট আসলে হতে চলেছে আরিনের সীমাহীন কল্পনারই এক যান্ত্রিক প্রতিরূপ। বিজ্ঞাপনের আকাশ ছোঁয়া হোর্ডিংয়ে একটা সাদা ওয়াইড স্পেসকে উদ্ভাবনী শক্তি দ্বারা ব্যবহার করার প্রচেষ্টার মতোই। আর এই অনুভূতিই বেশ একটা সুপিরিয়রিটি কমপ্লেক্স বয়ে আনে আরিনের মধ্যে। একটা ঈগল শ্যেন দৃষ্টি নিয়ে ওড়া-ফেরা করে তার ভাবনা চিন্তার ভেতর। কী যেন ছিনিয়ে নিতে হবে তাকে। ব্যবসার অংশীদারিত্ব! প্রফিট পারসেন্টেজ! নাকি আরও বেশি কিছু! এই মুহূর্তে যা সে কল্পনাও করতে পারছে না।
রম্ভা বসে থাকে তার ঠিক গা ঘেঁসে। ঝুঁকে থাকে কম্পিউটার টেবিলের ওপর। আরিন জিজ্ঞেস করে, ঠিক কতটুকু স্পেস ফাঁকা আছে তোমার ভেতর!

ঠিক যতটুকু এই মুহূর্তে তোমার দিতে বাকি আছে আমায়। প্রম্পট উত্তর দেয় রম্ভা।
আরিন মনে মনে হাসে। যেন প্রশ্নের ভেতর ঘূর্ণি ছিল কোনও, মিস করে গেছে রম্ভা। এ-ও যেন ঢিল ছুঁড়ে দেখা, বুদ্ধির কৃত্রিমতা কতটা গভীর, কতটা রূপ লাবণ্যের ছটায় ঢাকা। রম্ভা গভীরভাবে তাকিয়ে থাকে আরিনের দিকে। তাকিয়ে থাকাই তার কাজ। আরিনের মাথার ভেতর ঢুকে পড়া। তারপর শিকারি যেভাবে শিকার হয়, ঠিক সেই ভাবে নিঃশব্দে আরিনের শিকার করা। ধীরে ধীরে তার চিন্তা ভাবনাকে ক্লোন করে তোলা। আর তারপর এক ফুরিয়ে যাওয়া কনটেইনারের মতো সাইড করে দেওয়া চিরকালের জন্য।

রম্ভা আসলে এক হানি ট্র্যাপ। গোপনে মেধা পাচারের যন্ত্র। মানবিক আবেগ, অনুভূতির কালেক্টর। মানুষের সঙ্গে সে মিশবে। ঘনিষ্ঠ হবে। তার ভেতর থেকে বের করে আনবে অবচেতনের ভাবনা চিন্তা। তারপর ধীরে ধীরে হয়ে উঠবে মানুষের থেকেও বুদ্ধিমান এক ধরনের স্কিল্ড লেবার। কর্মক্ষেত্রে বিচরণ করবে অবাধে, একছত্রভাবে। ম্যানেজমেন্টকে দেবে হ্যাজার্ডস্ ফ্রি স্মুথ প্রোডাকশন।

আরিনের অবশ্য এত কিছু জানার কথা নয়। রম্ভা সম্পর্কে সামান্যই ব্রিফ করা হয়েছে তাকে। সে জানে রম্ভা শুধুমাত্র একটা প্রজেক্ট। শিক্ষানবিশ হিসাবে তাকে শেখাতে হবে ডিসিশন মেকিংয়ের বেশ কিছু স্তর। কিছু রশানাল চিন্তা ভাবনা ঠেসে ঠুসে ভরে দিতে হবে তার ভেতর। সঙ্গে নিজেও যদি ঢুকে পড়া যায় মন্দ কী! মানুষ তো আজকাল ডল পুতুল খোঁজে। আর এ তো আস্ত রক্ত-মাংসের শরীর। কম্যান্ড সম্পূর্ণ তার নিজেরই দখলে।

আরিন জিজ্ঞেস করে, গেম থিওরি বোঝ! যে পদ্ধতিতে দুই বা ততোধিক ব্যক্তি এমনভাবে সিদ্ধান্ত নেয় যাতে তারা সর্বোচ্চ লাভ অথবা সর্বনিম্ন ক্ষতিতে পৌঁছতে পারে! রম্ভা উত্তর দেয়, হুম। স্যার জন ন্যাশ। ন্যাশ ইক্যুলিব্রিয়াম। আরিন কথা বলতে বলতে হাল্কা স্পর্শ করে রম্ভাকে। রম্ভা যেন ইতস্তত করে। আরিনের মনে হয় চোখের ভুল। অনেকক্ষণ এলইডি লাইটের নীচে থাকলে এমনই হয়। সে বলে, এসো আমরা তাহলে সর্বোচ্চ সন্তুষ্টিবিধানের দিকে এগিয়ে যাই। রম্ভা সম্মতি জানায় এবার। এবারও তার জড়তা মনের ভুল মনে হয় আরিনের। রম্ভা শুধু মাত্র রক্তমাংসের নারী নয়। তার সংস্কার থাকা অসম্ভব। আরিন নিজেকে ডুবিয়ে দেয় রম্ভার ভেতর। ঠিক কতক্ষণ মনে থাকে না। রম্ভা হঠাৎ ঝটকা দিয়ে সরিয়ে দেয় আরিনকে। চিৎকার করে বলে, ডোন্ট গো এনি ফারদার। ইউ উইল বী ফিনিশড।

অবাক হয়ে যায় আরিন। চেয়ারের একদিকের চাকা যেন খুলে পড়ে হঠাৎ। রম্ভার এই আচরণ সিস্টেম অ্যাপ্রুভ করে না। তাহলে কি কোনও গ্লিচ! এক্সপার্টাইজ দৃষ্টিতে ভাবতে থাকে সে। কখন! ঠিক কোন পর্যায়ে এসে এক যন্ত্রের ভেতর সংস্কার জন্মায়! ঠিক কীভাবে!

রম্ভা উঠে যায় নিজে থেকে। আরিন জানে না মানুষ হোক বা যন্ত্র নারীমাত্রই প্রকৃতি। ধ্বংসের ঠিক আগে সতর্কবার্তা দিয়ে যায় সে।

Advertisement