• facebook
  • twitter
  • youtube
Saturday, 3 October, 2026

শরৎ এল রে: প্যাঁচা কেন লক্ষ্মীর বাহন? আর রাজহাঁস সরস্বতীর?

হিন্দু ধর্মে দেবদেবীদের বাহনের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে কোনও না কোনও প্রতীকী অর্থ। দেবতার শক্তি, স্বভাব কিংবা তাঁর দেওয়া বার্তাকে বাহনের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়

শরৎ এল রে:  প্যাঁচা কেন লক্ষ্মীর বাহন?  আর রাজহাঁস সরস্বতীর?

Image: IANS

পুরাণের দেবী দুর্গা, বাঙালির কাছে মেয়ে উমা। তিনি বাপের বাড়িতে আসেন চারদিনের জন্য। বাড়িতে এলে আদর-যত্নে তাঁকে ভরিয়ে দেওয়া হয়। চারদিন পর আবার নিজের বাড়ি ফিরে যান। মেয়ে বাপের বাড়িতে এলে একা আসে না, সঙ্গে থাকে তার ছানা-পোনা। ঠিক তেমনি মা দুর্গাও মর্ত্যে অর্থাৎ বাপের বাড়িতে একা আসেন না।

সঙ্গে থাকে তাঁর সন্তানেরা। দুই মেয়ে লক্ষ্মী-সরস্বতী এবং দুই ছেলে কার্তিক-গণেশ। তাঁরাও আবার একা আসেন না। তাঁদের সঙ্গে থাকে বাহন। দেবী দুর্গা সিংহকে সঙ্গে নিয়ে এলে লক্ষ্মীর সঙ্গে থাকে প্যাঁচা আর সরস্বতীর সঙ্গে হাঁস। গণেশ সঙ্গে নিয়ে আসে ইঁদুরকে। কার্তিকের সঙ্গে থাকে ময়ূর।

হিন্দু ধর্মে দেবদেবীদের বাহনের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে কোনও না কোনও প্রতীকী অর্থ। দেবতার শক্তি, স্বভাব কিংবা তাঁর দেওয়া বার্তাকে বাহনের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়। সম্পদ, সৌন্দর্য ও সমৃদ্ধির দেবী লক্ষ্মীর বাহনও তেমনই এক বিশেষ প্রতীক। কিন্তু প্যাঁচাকেই বাহন হিসেবে কেন বেছে নিলেন দেবী লক্ষ্মী? এর পিছনে রয়েছে একাধিক পুরাণকথা ও লোকবিশ্বাস।

আরও পড়ুন: শরৎ এল রে: ‘হুদুড় দুর্গা’, এক ভিন্ন দুর্গার কাহিনি

পুরাণকাহিনি অনুযায়ী, পৃথিবীতে যখন পশুপাখি ও অন্যান্য প্রাণীর সৃষ্টি হয়, তখন দেবদেবীরা নিজেদের বাহন বেছে নিতে শুরু করেন। সেই সময় দেবী লক্ষ্মীও নিজের বাহন নির্বাচন করতে মর্ত্যে আসেন। পৃথিবীর বিভিন্ন পশু-পাখি দেবীর বাহন হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করে।

Image: AI নির্মিত

দেবী ঘোষণা করেন, কার্তিক মাসের অমাবস্যার রাতে তিনি মর্ত্যে আসবেন। যে পশু বা পাখি সবার আগে তাঁর কাছে হাজির হবে, তাকেই তিনি নিজের বাহন হিসেবে বেছে নেবেন। দেবীর এই শর্তে সকলে সম্মতি জানালেও বিপত্তি দেখা দেয় অমাবস্যার ঘন অন্ধকার। রাতের ঘন অন্ধকারে প্যাঁচা ছাড়া কোনও পশু-পাখিই দেবীর কাছে পৌঁছতে পারেনি। তাই দেবী লক্ষ্মী প্যাঁচাকেই নিজের বাহন হিসেবে বেছে নেন বলে বিশ্বাস।

আরও পড়ুন: শরৎ এল রে: ডাকের সাজে সাবেকিয়ানার প্রতিফলন মা দুর্গার মুর্তিতে

তবে অন্যমতে, সমুদ্র মন্থনের সময় দেবী লক্ষ্মীর আবির্ভাবের সঙ্গে প্যাঁচারও উদ্ভব ঘটে। পরে সে দেবীর সঙ্গী হয়ে ওঠে এবং ধীরে ধীরে তাঁর বাহন হিসেবে পরিচিতি পায়। প্যাঁচা অন্ধকারেও দেখতে পায়। সেই কারণে তাকে দূরদৃষ্টি, জ্ঞান, বিচক্ষণতা এবং সতর্কতার প্রতীক হিসেবে দেখা হয়।

সম্পদ অর্জন করার সঙ্গে সঙ্গে তা ধরেও রাখতে হয়। প্যাঁচার সতর্ক ও নিঃশব্দ চলাফেরার মধ্যে সেই বার্তাই খুঁজে পান অনেকে। অর্থাৎ সম্পদ যে অহংকার বা প্রদর্শনের কারণ না হয়ে ওঠে। সংযম ও বিচক্ষণতার সঙ্গে তা ব্যবহার করা দরকার। লক্ষ্মীর বাহন প্যাঁচার মধ্যে তাই ফুটে ওঠে।

লক্ষ্মীর সঙ্গে সরস্বতীও মায়ের সঙ্গে মর্ত্যে থাকেন। লক্ষ্মী ঐশ্বর্যের দেবী হলে সরস্বতী জ্ঞানের দেবী। আর তার সঙ্গে থাকে শ্বেত শুভ্র রাজহাঁস। অসারকে ফেলে সার গ্রহণ করতে হয়। এই অর্থই বহন করে রাজহাঁস। দুধ ও জলের মিশ্রণ থেকে জল ফেলে শুধু দুধটুকু গ্রহণ করে সে। কাদা থেকে নিজের খাদ্য খুঁজে নেয়। দেবী সরস্বতীর সঙ্গে হাঁস, এই বার্তাই দেয় সবাই যেন অসার বা ভেজাল বা অকল্যাণকরকে ত্যাগ করে নিত্য পরমাত্মাকে গ্রহণ করে এবং জ্ঞান অর্জন করে।

দেখুন: