মনোরঞ্জনের বিকল্প মাধ্যম বৃদ্ধি এবং আধুনিক জীবনযাত্রার পরিবর্তনের কারণে ইদানীং নাটক দেখার প্রবণতা কমেছে। তবে রায়গঞ্জ তার সমৃদ্ধ নাট্যচর্চা ও দীর্ঘদিনের নাট্যঐতিহ্যের জন্য বিশেষভাবে পরিচিত। এই প্রসঙ্গে রাজ্যের মন্ত্রী কৌশিক চৌধুরীকে প্রশ্ন করেছিল দ্য স্টেটসম্যান।
মন্ত্রী জানান, তিনিও ‘ঋষি’ নামে একটি নাট্যদলের সঙ্গে যুক্ত। তাঁর কথায়, “রায়গঞ্জ শিল্প-সংস্কৃতির শহর। বিভিন্ন নাট্যদলের জন্য রায়গঞ্জের আলাদা ঐতিহ্য রয়েছে। বেশ কয়েকটি পুরনো নাট্যদল পারফর্ম করা বন্ধ করে দিয়েছে। তবে আশার কথা, নতুন প্রজন্মের কিছু ছেলে-মেয়ে নতুন করে নাট্যদল গড়ে পারফর্ম করছে। কিন্তু রায়গঞ্জ শহরের গরিমাই হল নাটক। সেই হারিয়ে যাওয়া গৌরব ফিরিয়ে আনতে হবে।”
তিনি বলেন, রায়গঞ্জে নাটক মঞ্চস্থ করার জন্য পর্যাপ্ত হল নেই। যে ক’টি হল রয়েছে, সেগুলির ভাড়াও যথেষ্ট বেশি। ফলে অনেক নাট্যদল পিছিয়ে আসে। রবীন্দ্র ভবনের অবস্থাও ভালো নয়। “আমি এ নিয়ে বৈঠক করেছি। যত দ্রুত সম্ভব সেটিকে ব্যবহারযোগ্য করে তুলতে হবে,” বলেন তিনি।
কৌশিক চৌধুরীর কথায়, “এটা শুধু আমার দায়িত্ব নয়, গোটা রায়গঞ্জবাসীরও দায়িত্ব। যে ঐতিহ্য ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে, তাকে ফিরিয়ে আনতে হবে। আর তার জন্য সরকারি সাহায্যের যা যা প্রয়োজন, সবই আমি করব।”
তিনি আরও বলেন, ছোটবেলা থেকে নাটক দেখে বড় হয়েছেন তিনি। তাঁর মতে, শিল্প-সাহিত্যের চর্চা ছাড়া নাটকের বিকাশ সম্ভব নয়। বর্তমান প্রজন্ম মোবাইল ফোনের প্রতি অতিরিক্ত আসক্ত। যদি নাটক ও থিয়েটারের চর্চা হারিয়ে যায়, তাহলে সেই আসক্তি আরও বাড়বে। তাই নতুন প্রজন্মের নাট্যদলগুলিকে নিয়মিত পারফর্ম করার আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি আশ্বাস দেন, পশ্চিমবঙ্গ সরকার তাদের পাশে রয়েছে।




