শহর থেকে গ্রামবাংলা-বাজারে গিয়ে এখন দামের ছ্যাঁকা খেতে শুরু করেছে রাজ্যবাসী। কারণ সবজি থেকে ডিম সবকিছুর দাম এমন পর্যায়ে বেড়ে গিয়েছে যার ফলে মধ্যবিত্তের নাভিশ্বাস উঠেছে। কাঁচালঙ্কা থেকে শুরু করে ঝিঙে, পটল, পেঁপে, করলা, টম্যাটো-সহ অন্যান্য সবজিরও দাম আকাশছোঁয়া হয়ে গিয়েছে। গৃহস্থরা বাজারে গিয়ে রীতিমতো দামের ছ্যাঁকা খাচ্ছেন। মধ্যবিত্তের পকেটে চাপ বেড়ে গিয়েছে। আর তা নিয়ে অভিযোগ জমা পড়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে। তারপরই রবিবাসরীয় বাজারে হানা দিল এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চের আধিকারিকরা। কলকাতা-সহ রাজ্যজুড়ে একাধিক বাজারে হানা দিল এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চ এবং পুলিশ।
কাঁচালঙ্কার দাম ১৬০ টাকা কেজি হয়ে গিয়েছে। বেগুন ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ফলে বাড়তি রেস্ত বেরিয়ে যাচ্ছে। এই নিয়ে আমজনতা রীতিমতো ক্ষুব্ধ। তাঁরা বাজার নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করতে শুরু করেছেন। এই বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে। আর এদিনই শ্যামবাজার, কোলে মার্কেট, গড়িয়া বাজার, যদুবাবুর বাজারে হানা দিল এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চের আধিকারিকরা। রাজ্যজুড়ে একাধিক বাজারে গিয়ে কথা বলেছেন আধিকারিকরা।
গ্রামবাংলাতেও ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনার বাজারগুলিতেও দাম খুব বেড়েছে সবজির। উত্তর ২৪ পরগনা, হাওড়া, হুগলিতেও আকাশছোঁয়া দাম নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন মানুষজন। এখানেই শেষ নয়, উত্তরবঙ্গে বাজারদর ভয়ানক জায়গায় পৌঁছে গিয়েছে। কাঁচালঙ্কা ১৪০-১৬০ টাকা কেজি। পটল ৭০-৮০, কাঁচা পেঁপে ৪০, করলা ৬০-৮০, ঢেঁড়স ৫০-৬০, পাহাড়ের মূলা ৭০, কোয়াশ ৪০, ফুলকপি ৮০-৯০, কাঁকরোল ৬০-৮০, ক্যাপসিকাম ১৫০, আলু ২০, পেঁয়াজ ৪০ এবং টম্যাটো ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। কলকাতা থেকে শুরু করে গ্রামবাংলার বাজারে বেগুন ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এই আবহে রবিবার সকালে এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চের এক আধিকারিক বলেন, ‘আমাদের কয়েকটি দল বেরিয়েছে। বাজারগুলিতে দাম এক রাখতে বলা হচ্ছে।’
তাছাড়া কাঁচালঙ্কার দাম ২০০ টাকা কিলো কলকাতার বাজারে। আদা ও রসুন ৫০০, শসা ৫০ এবং ঝিঙে ৭০ টাকা কেজি দরে বিকোচ্ছে। বেগুন ১২০, কাকরোল ৭০, ঢেঁড়স ৭০ এবং পটল ৯০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। শোলা কচু গোটা ২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। সেসব খতিয়ে দেখেন আধিকারিকরা। পূর্ব মেদিনীপুরের দেউলিয়া বাজার ও কোলাঘাট এলাকায় সবজি বাজার, বারুইপুরের কাছারি বাজার, নদিয়ার শান্তিপুর থেকে শুরু করে মানিকতলা, গড়িয়াহাট, শ্যামবাজার, যদুবাবুর বাজার, লেক মার্কেট-সহ বাজারগুলিতে হানা দিয়ে দাম কমানোর চেষ্টা করেন আধিকারিকরা।




