ঝাড়খন্ডে হোটেল ব্যবসায়ীকে খুনের ঘটনায় গ্রেফতার করা হল কলকাতা পুলিশের সার্জেন্ট অয়ন গুপ্তকে। তার সাথে পিঙ্কল দাস নামে এক মহিলা সিভিক ভলান্টিয়ারকে ঝাড়খন্ডের পুলিশ হেফাজতে নিয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে তাঁকে জেরা করার পরে গভীর রাতে হেফাজতে নিয়েছে। তাঁকে হেফাজতে নিতে আগামীকাল ট্রানজিট রিমান্ডের আবেদন জানানো হবে। তার পরেই ঝাড়খন্ডে নিয়ে যাওয়া হবে।
পুলিশ সূত্রের খবর, নিখিল সবলোক হত্যা মামলার মূলচক্রী অশোক সিংহ রাঘবের ঘনিষ্ঠ ছিল এই কলকাতা পুলিশের সার্জেন্ট অয়ন গুপ্ত। তাঁর মোবাইলের টাওয়ার লোকেশন কলকাতায় মেলে। সেই সূত্র ধরেই ঝাড়খণ্ড পুলিশের বিশেষ তদন্তকারী দলের সদস্যরা অভিযান চালান। সার্জেন্ট অয়ন গুপ্তের সঙ্গে অশোকের সঙ্গে কথপকথন মেলে। সেই সূত্র ধরেই বৃহস্পতিবার সকাল থেকে জেরায় পরে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। সেই সঙ্গে পিঙ্কল দাস নামে এক মহিলা সিভিক ভলান্টিয়ারকে ঝাড়খন্ড পুলিশ গ্রেফতার করেছ। তবে এই সংঘটিত অপরাধের ঘটনায় অয়ন এবং পিঙ্কলের কী ভূমিকা রয়েছে, তা স্পষ্ট করেনি কোনও পক্ষই।
এই বিষয়ে সরাইকেল্লা-খারসাওয়ান জেলার সুপারকে ফোন করা হলে তিনি ফোন ধরেননি। অন্য দিকে, কলকাতা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ) কুনাল আগরওয়ালও কিছু বলেননি। লালবাজার সূত্রের খবর, অয়নকে চাকরি থেকে সাসপেন্ড করা হবে। তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরু হবে। অন্য দিকে, সিভিক ভলান্টিয়ার পিঙ্কল দাসকে কাজ থেকে অব্যাহতি দিয়ে দেওয়া হবে।
কলকাতা পুলিশ সূত্রের খবর, সার্জেন্ট অয়ন গুপ্ত ২০১৪ সালে কলকাতা পুলিশের যোগ দেন। তৃণমূল জমানার তাঁর যথেষ্ট প্রভাবশালী ছিলেন। পুলিশ মহলের একাংশের মতে, সেই সূত্রেই জমি দখল মামলায় ইডির হাতে গ্রেফতার হওয়া কলকাতা পুলিশের প্রাক্তন ডেপুটি কমিশনার শান্তনু সিংহ বিশ্বাসের ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠেন। ধীরে ধীরে প্রভাব-প্রতিপত্তি বাড়তে থাকে। বর্তমানে অয়ন বেলেঘাটা ট্রাফিক গার্ডে সার্জেন্ট হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এই মামলায় ধৃত মহিলা সিভিক ভলান্টিয়ার পিঙ্কল দাসও বেলেঘাটা ট্রাফিক গার্ডেই কর্মরত ছিলেন।
উল্লেখ্য, গত মাসে ঝাড়খন্ডের সরাইকেল্লা-খারসাওয়ান জেলায় নিজের হোটেলের সামনে গুলিবিদ্ধ হন ব্যবসায়ী নিখিল সবলোক। তাঁকে লক্ষ্য করে আট রাউন্ড গুলি চালানো হয়। ওই দিন চন্দিল থানার অধীনে দুপুর ৩টে থেকে সাড়ে ৩টের মধ্যে ঘটনাটি ঘটে। তাঁকে হাসপাতালের নিয়ে যাওয়া হলে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়।
ঘটনার পরে ঝাড়খন্ড পুলিশের বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করে। তদন্তে নেমে পুলিশ ছ’জনকে গ্রেফতার করে। প্রথমে অশোককুমার সিংহ ওরফে রাঘব, সুনীল রজক, ঋত্বিক সিংহ, সুশীল কেরাইকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করে উত্তরপ্রদেশ যোগ সামনে আসে। উত্তরপ্রদেশের সুলতানপুরের অভিযান চালিয়ে রাজকুমার সিংহ ওরফে প্রিন্স এবং অঙ্কিত সিংহকে গ্রেফতার করা হয়। খুনের ঘটনায় এই দু’জনকে গ্রেফতার করায় সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে আট জনে।
তবে নিখিলকে হত্যা করতে শ্যুটার ভাড়া করা হয়েছিল বলে পুলিশ জানতে পারে। ১৫ লক্ষ টাকা সুপারি দেওয়া হয়েছিল। খুনের ষড়যন্ত্রে প্রত্যেক অভিযুক্তের ভূমিকা আলাদা ভাবে খতিয়ে দেখা হয়। ব্যবসায়ীক শত্রুতা জেরেই নিখিলকে হত্যা করতে কেউ সুপারি দিয়েছিল বলে পুলিশ জানতে পারে। তবে খুনের পরে সুপারির পুরো টাকা না মেলায় গ্যাংয়ের সদস্যদের মধ্যে মতবিরোধ হয়েছিল। সেই লেনদেনের সূত্রে ধরেই গ্রেফতারি হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছিল।
তবে কে খুনের পরিকল্পনা করেছিল, কারা শ্যুটারদের ভাড়া করেছিল, অপরাধ সংঘটিত করতে কারা সাহায্য করেছিল এবং গুলি চালানোর পর অভিযুক্তদের পালিয়ে যেতে কারা সহায়তা করেছিল, কে মধ্যস্থতা করিয়েছিল— এই সমস্ত বিষয় তদন্তের আওতায় রয়েছে। সেই মামলার তদন্তেই কলকাতা পুলিশের সার্জেন্ট এবং এক মহিলা সিভিক ভলান্টিয়ারকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে ঝাড়খন্ড পুলিশ।




