একবালপুরে প্রায় ৩৫ লক্ষ টাকার সোনার গয়না ও নগদ অর্থ চুরির ঘটনায় অভিযুক্ত ২১ বছরের আসিফ হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের চুরি দমন শাখা। রাজারহাটের একটি বিলাসবহুল রিসর্ট থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযুক্তের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে চোরাকুঠুরি থেকে উদ্ধার হয়েছে অধিকাংশ সোনার গয়না। পাশাপাশি উদ্ধার হয়েছে একগোছা চাবি, যা ব্যবহার করেই সে বিভিন্ন বাড়িতে চুরি করত বলে পুলিশের দাবি।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, একবালপুরের এম এম আলি রোডের এক দম্পতি বাড়িতে তালা দিয়ে কাজে বেরিয়েছিলেন। সন্ধ্যায় ফিরে তাঁরা দেখেন, বাইরের তালা অক্ষত থাকলেও আলমারি খোলা। সেখান থেকে ২০১ গ্রাম সোনার গয়না এবং নগদ চার লক্ষ টাকা উধাও। চুরি যাওয়া গয়না ও টাকা তাঁদের সদ্যবিবাহিত মেয়ের, যিনি বিয়ের পর স্বামীর সঙ্গে কানাডায় চলে গিয়েছিলেন।
চুরির খবর বিদেশে পৌঁছতেই পারিবারিক অশান্তির সৃষ্টি হয়। নববধূর স্বামী শ্বশুর-শাশুড়ির উপরই সন্দেহ প্রকাশ করেন। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, নববধূকে কানাডা থেকে কলকাতায় ফিরে আসতে হয়। এরপর পরিবারের পক্ষ থেকে একবালপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়।
তদন্তে এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে এন্টালির বিবিবাগানের বাসিন্দা আসিফ হোসেনকে শনাক্ত করেন গোয়েন্দারা। পরে খবর মেলে, ব্যবসায়ী পরিচয় দিয়ে রাজারহাটের একটি নামী রিসর্টে একাধিক বান্ধবীকে নিয়ে অবস্থান করছে সে। পুলিশের দাবি, চুরি করা নগদ অর্থের প্রায় চার লক্ষ টাকা কয়েক দিনের মধ্যেই রিসর্টে বিলাসী জীবনযাপনে খরচ করে ফেলে অভিযুক্ত।
গোয়েন্দারা রিসর্টে অভিযান চালালে এক ভিলা থেকে অন্য ভিলায় পালানোর চেষ্টা করে আসিফ। শেষ পর্যন্ত তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। জেরায় সে নগদ অর্থ খরচ করে ফেলার কথা স্বীকার করে। পরে তার বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে একটি চোরাকুঠুরি থেকে ১৭২ গ্রাম সোনার গয়না উদ্ধার হয়। পুলিশ জানিয়েছে, বাকি গয়না উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আরও কোনও চুরির অভিযোগ রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।




