• facebook
  • twitter
  • youtube
Thursday, 24 September, 2026

‘মামলা করব, বেআইনি নির্মাণ ভাঙব’ভয় দেখিয়ে তোলাবাজি? কলকাতা জুড়ে এমন কিছু আইনজীবীদের বিরুদ্ধে মারাত্মক অভিযোগ

একবালপুরের দুই বেআইনি বহুতল ঘিরে মামলা, সামনে এল ‘মামলা করে প্রত্যাহার’সোলাবাজি রহস্য আরও ঘনীভূত হচ্ছে। একের পর এক নজির

‘মামলা করব, বেআইনি নির্মাণ ভাঙব’ভয় দেখিয়ে তোলাবাজি? কলকাতা জুড়ে এমন কিছু আইনজীবীদের বিরুদ্ধে মারাত্মক অভিযোগ

বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে মামলা, আদালতের নির্দেশে নির্মাণ ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা, আর সেই ‘ভয়’ দেখিয়েই কি চলছিল তোলাবাজি? একবালপুরের দুটি বেআইনি বহুতল ভাঙার দাবিতে দায়ের হওয়া মামলাকে ঘিরে এমনই বিস্ফোরক অভিযোগ সামনে এসেছে। অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন একদল আইনজীবী। বৃহস্পতিবার মামলার শুনানিতে বিষয়টি নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেন কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি।

ঘটনার সূত্র ধরে উঠে এসেছে আরও একাধিক প্রশ্ন। অভিযোগ, গত দু’বছরে কলকাতা ও আশপাশের বিভিন্ন বেআইনি নির্মাণ সংক্রান্ত অন্তত আট থেকে দশটি মামলা দায়ের করা হয়েছিল। পরে সেই মামলাগুলির কয়েকটি প্রত্যাহারও করে নেওয়া হয়। ওই মামলাগুলির ধরন এবং দায়েরের পরবর্তী গতিপ্রকৃতি নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে।

শুধু একবালপুরের দুই বহুতল নয়, বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলা এবং তার আড়ালে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগও এখন কলকাতা হাইকোর্টের নজরে। বিষয়টি নিয়ে স্বতঃপ্রণোদিত মামলা গ্রহণ করেছে আদালত। এই মামলায় আইনজীবী জয়দীপ করকে আদালতবান্ধব হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে।

প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ এদিন রাজ্যের কাছে জানতে চেয়েছে, কলকাতা-সহ গোটা রাজ্যে কোথায় কত বেআইনি নির্মাণ চিহ্নিত হয়েছে। সেই সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য আদালতে পেশ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

একবালপুরের দুই বেআইনি বহুতল সংক্রান্ত মামলাতেও রাজ্য এবং কলকাতা পুরসভার অবস্থান জানতে চেয়েছে আদালত। আগামী ২৫ নভেম্বরের মধ্যে ওই দুই নির্মাণ নিয়ে বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে বেঞ্চ।

এর আগে, বেআইনি নির্মাণ সংক্রান্ত একটি মামলায় প্রাথমিক তদন্তের জন্য কেন্দ্রীয় তদন্ত ব্যুরোর ভূমিকার কথাও জানিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্ট। এবার মামলা দায়ের ও পরে প্রত্যাহারের ধরন নিয়ে ওঠা অভিযোগ সামনে আসায় বিষয়টি আরও গুরুত্ব পেল।

বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ের আড়ালে যদি সত্যিই অর্থ আদায়ের কোনও চক্র থেকে থাকে, তা হলে তার তদন্তের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। তবে অভিযোগের সত্যতা এখনও আদালতে প্রমাণিত হয়নি। আগামী শুনানিতে রাজ্য ও কলকাতা পুরসভার রিপোর্ট এবং অন্যান্য তথ্য সামনে এলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হতে পারে।