• facebook
  • twitter
  • youtube
Thursday, 27 August, 2026

সন্দীপের জামিন নিয়ে সিবিআইয়ের বক্তব্য জানতে চাইল সুপ্রিম কোর্ট 

ঠিকাদারদের ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের নামে চেক দিয়ে টাকা তোলা অথবা অন্য সহযোগী সংস্থার অ্যাকাউন্টে পাঠিয়ে পরে তা তুলে নেওয়া হত বলে অভিযোগ। এইভাবেই সরকারি অর্থ আত্মসাৎ ও অনিয়মের প্রমাণ আড়াল করা হয়েছিল বলে তদন্তকারীদের দাবি। এই আর্থিক দুর্নীতির মামলাতেই সন্দীপ ঘোষের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে।

সন্দীপের জামিন নিয়ে সিবিআইয়ের বক্তব্য জানতে চাইল সুপ্রিম কোর্ট 

Photo-SNS

আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের আর্থিক দুর্নীতি মামলায় অভিযুক্ত প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষের জামিনের আর্জি নিয়ে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআইয়ের বক্তব্য জানতে চাইল সুপ্রিম কোর্ট। বৃহস্পতিবার বিচারপতি এম এম সুন্দ্রেশ এবং বিচারপতি প্রশান্ত বি বরলের বেঞ্চ সিবিআইকে এই বিষয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করতে বলেছে। আগামী সপ্তাহে মামলাটির পরবর্তী শুনানি হওয়ার কথা।

এর আগে কলকাতা হাইকোর্টে জামিন চেয়ে স্বস্তি পাননি সন্দীপ। বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের পর্যবেক্ষণ ছিল, তাঁর বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য পরিষেবার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত সরকারি অর্থ আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি সন্দীপ ‘প্রভাবশালী’ ব্যক্তি হওয়ায় জামিনে মুক্তি পেলে সাক্ষীদের প্রভাবিত করার আশঙ্কাও রয়েছে। সেই কারণেই তাঁর আবেদন খারিজ করে দেয় আদালত। হাইকোর্টের ওই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে গত ১৮ আগস্ট সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেন সন্দীপ।

২০২৪ সালের ৯ আগস্ট আরজি কর হাসপাতালে তরুণী চিকিৎসক-ছাত্রীর ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার পরই হাসপাতালের প্রশাসনিক গাফিলতি ও আর্থিক অনিয়মের একাধিক অভিযোগ সামনে আসে। আর্থিক দুর্নীতির তদন্তে নামে সিবিআই ও ইডি। আরজি করের প্রাক্তন ডেপুটি সুপার আখতার আলিও সন্দীপের বিরুদ্ধে মৃতদেহ নিয়ে অব্যবস্থা, বায়ো-বর্জ্য বিক্রি এবং সরকারি অর্থের অপব্যবহার-সহ একাধিক অভিযোগ তুলেছিলেন।

তদন্তকারীদের অভিযোগ, হাসপাতালের অ্যাকাউন্ট থেকে ঠিকাদারদের অ্যাকাউন্টে বিপুল পরিমাণ টাকা পরিকল্পিতভাবে সরানো হয়েছিল। ঠিকাদারদের ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের নামে চেক দিয়ে টাকা তোলা অথবা অন্য সহযোগী সংস্থার অ্যাকাউন্টে পাঠিয়ে পরে তা তুলে নেওয়া হত বলে অভিযোগ। এইভাবেই সরকারি অর্থ আত্মসাৎ ও অনিয়মের প্রমাণ আড়াল করা হয়েছিল বলে তদন্তকারীদের দাবি। এই আর্থিক দুর্নীতির মামলাতেই সন্দীপ ঘোষের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে।

আরও পড়ুন: ভয়াবহ হড়পা বানে নিখোঁজ ৩০০-র বেশি ভারতীয়, কী জানাচ্ছেন নেপালের বিদেশমন্ত্রী?

আরজি করের আর্থিক অনিয়মের মামলায় সন্দীপকে গ্রেপ্তার করেছিল সিবিআই। অন্যদিকে, ধর্ষণ-খুনের ঘটনায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে চার্জশিট জমা না পড়ায় ওই মামলায় তিনি জামিন পেয়েছেন। তবে আর্থিক দুর্নীতির মামলায় এখনও জেল হেফাজতেই রয়েছেন। এবার সিবিআইয়ের জবাবের পরই তাঁর জামিনের আর্জি নিয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে শীর্ষ আদালত।