• facebook
  • twitter
  • youtube
Friday, 30 October, 2026

আরজি করের আর্থিক কেলেঙ্কারিতে অবশেষে জামিন সুমন হাজরার

আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের আর্থিক দুর্নীতি মামলায় অবশেষে জামিন পেলেন সুমন হাজরা। প্রায় দুই বছর আগে যে দুর্নীতির

আরজি করের আর্থিক কেলেঙ্কারিতে অবশেষে জামিন সুমন হাজরার

প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র

আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের আর্থিক দুর্নীতি মামলায় অবশেষে জামিন পেলেন সুমন হাজরা। প্রায় দুই বছর আগে যে দুর্নীতির অভিযোগ ঘিরে তোলপাড় হয়েছিল রাজ্য, সেই মামলাতেই এবার বড় আইনি স্বস্তি পেলেন অন্যতম অভিযুক্ত। ২০ হাজার টাকার বন্ডে তাঁর জামিন মঞ্জুর করেছেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ।

তবে জামিন মিললেও একাধিক কঠোর শর্ত আরোপ করেছে আদালত।আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, বিচারপ্রক্রিয়া চলাকালীন নিয়মিত মামলার শুনানিতে হাজিরা দিতে হবে সুমন হাজরাকে। কলকাতা, হাওড়া ও বিধাননগর এলাকার বাইরে যেতে পারবেন না তিনি। জমা রাখতে হবে নিজের পাসপোর্ট। পাশাপাশি, নির্দিষ্ট একটি মোবাইল নম্বর সিবিআইয়ের তদন্তকারী আধিকারিকের কাছে জমা দিতে হবে। কোনওভাবেই সাক্ষীদের প্রভাবিত করা যাবে না বলেও স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ২ সেপ্টেম্বর আরজি করের আর্থিক দুর্নীতি মামলায় সুমন হাজরাকে গ্রেফতার করেছিল সিবিআই। তিনি ‘হাজরা মেডিক্যাল শপ’-এর মালিক। হাসপাতালের চিকিৎসার সরঞ্জাম সরবরাহের ব্যবসার সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন তিনি। তদন্তকারীদের অভিযোগ, আরজি করের প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে হাসপাতালের কেনাকাটা ও টেন্ডার প্রক্রিয়ায় প্রভাব খাটানোর অভিযোগ ছিল তাঁর বিরুদ্ধে।

সিবিআইয়ের অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২১ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে হাসপাতালের চিকিৎসা সরঞ্জাম ও ওষুধ কেনাকাটায় অনিয়মের মাধ্যমে একটি গোষ্ঠী বা কার্টেল তৈরি হয়েছিল। অভিযোগের কেন্দ্রে ছিলেন সন্দীপ ঘোষ। সেই গোষ্ঠীর অন্যতম সদস্য হিসেবে উঠে আসে সুমন হাজরা ও ব্যবসায়ী বিপ্লব সিংহের নাম। অভিযোগ, অন্য ব্যবসায়ীদের টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের সুযোগ না দিয়ে নিজেদের পছন্দের সংস্থাকে বরাত পাইয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছিল।

তদন্তকারী সংস্থার দাবি, ভুয়ো নথি ব্যবহার, প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র এড়িয়ে যাওয়া এবং বাজারদরের তুলনায় বেশি দামে চিকিৎসার সরঞ্জাম সরবরাহের মাধ্যমে সরকারি কোষাগারের কয়েক কোটি টাকার ক্ষতি করা হয়েছিল। সিবিআইয়ের অভিযোগে সেই ক্ষতির পরিমাণ প্রায় সাত কোটি টাকা।

পরবর্তী সময়ে আর্থিক লেনদেনের সূত্র ধরে তদন্তে নামে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটও। এই মামলায় সন্দীপ ঘোষ-সহ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তদন্ত চালিয়ে চার্জশিটও জমা দেয় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।

আরজি করের আর্থিক দুর্নীতি মামলায় দীর্ঘদিন ধরে জেলবন্দি থাকার পর অবশেষে জামিন পেলেন সুমন হাজরা। তবে জামিন মানেই অভিযোগ থেকে অব্যাহতি নয়। তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগের বিচার এখনও বাকি। আদালতের নির্ধারিত শর্ত মেনেই আপাতত চলবে তাঁর মুক্ত জীবন।