ভোটের মুখে ইভিএমের সঙ্কট। আগামী নভেম্বর-ডিসেম্বরে নির্বাচন। অথচ প্রয়োজনীয় সংখ্যক ইভিএম জোগাড় করা নিয়ে সমস্যায় পড়েছে রাজ্য নির্বাচন কমিশন। অন্য রাজ্য থেকেও ইভিএম সরবরাহ করা সম্ভব নয় বলে জানানো হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ইভিএম ফের ব্যবহার করার ক্ষেত্রে তথ্য মুছে ফেলা এবং কন্ট্রোল ইউনিটের গঠন নিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হল রাজ্য নির্বাচন কমিশন।
সিসিটিভি সংরক্ষণ ও ফরেন্সিক অডিট সংক্রান্ত একটি মামলায় সুপ্রিম কোর্টের দেওয়া নির্দেশের উপর স্থগিতাদেশ রয়েছে। তবে সেই স্থগিতাদেশ শুধুমাত্র একটি মামলার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য বলে আদালতে জানানো হয়। মামলাটি শুভেন্দু অধিকারীর দায়ের করা জনস্বার্থ মামলার সঙ্গে সম্পর্কিত বলেও উল্লেখ করা হয়।
শুনানিতে সওয়াল করতে গিয়ে মামলাকারীর পক্ষের আইনজীবী সব্যসাচী চট্টোপাধ্যায় জানান, তাঁর মক্কেলের ইভিএম ফেরত দেওয়ার বিষয়ে কোনও আপত্তি নেই। তাঁর বক্তব্য, তিনি চান নির্বাচন হোক। অন্যদিকে, রাজ্যের অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল বিল্বদল ভট্টাচার্য জানান, সুপ্রিম কোর্টের স্থগিতাদেশ শুধুমাত্র কাঁথি পুরসভার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। অন্য পুরসভাগুলির বিষয়টি এই আদালতের বিবেচনার জন্য রয়েছে।
এরপরেই রাজ্য নির্বাচন কমিশনের তরফে আইনজীবী সপ্তাংশু বসু জানান, সংশ্লিষ্ট নির্দেশটি ১০৮টি পুরসভাকেই প্রভাবিত করছে। কমিশনের বক্তব্য, ইভিএমের কন্ট্রোল ইউনিট আলাদা করা যায় না। নতুন করে ব্যবহার করতে গেলে আগের তথ্য মুছে ফেলতে হয়। এমনকী, ওই তথ্য অন্য কোনও ইলেকট্রনিক যন্ত্রে ডাউনলোড করাও সম্ভব নয় বলে দাবি কমিশনের।
কমিশনের বক্তব্য শোনার পর প্রধান বিচারপতি রবীন্দ্র ভি ঘুগে রাজ্য নির্বাচন কমিশনকে একটি সংক্ষিপ্ত হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন। কন্ট্রোল ইউনিট আলাদা করা যায় না কেন? কেন তথ্য মুছে ফেলতে হয়? অন্য কোনও ইলেকট্রনিক যন্ত্রে সেই তথ্য ডাউনলোড করা সম্ভব নয় কেন? হলফনামায় তা স্পষ্ট করে জানাতে হবে।
আগামী ১৪ অক্টোবর মামলার পরবর্তী শুনানি। নির্বাচনের আগে ইভিএমের জোগান এবং পুরনো যন্ত্রের তথ্য সংরক্ষণ নিয়ে আদালতের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে নজর রাজনৈতিক মহলের।




