নিউ মার্কেটের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের তদন্ত শুরু করল কলকাতা পুলিশের স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিম (সিট)। ঘটনার তদন্তে সাত সদস্যের একটি দল গঠন করা হয়েছে। দলের নেতৃত্বে রয়েছেন কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার ভগীরথ ঘোষ।
কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা প্রধান কুণাল আগরওয়ালের নির্দেশ অনুযায়ী, তদন্তকারী দলকে প্রতিদিনের তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে রিপোর্ট দিতে হবে ডেপুটি কমিশনার (ডিটেকটিভ ডিপার্টমেন্ট)-কে। সেই রিপোর্ট গোয়েন্দা প্রধানের কাছে পাঠাবেন ডিসি ডিডি। তদন্তকারী দলে রয়েছেন পৃথ্বীরাজ ভট্টাচার্য, সরফরাজ আহমেদ, শুভদীপ চক্রবর্তী, উৎপল ঘোষ এবং সোমনাথ কর-সহ মোট সাত জন আধিকারিক।
কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা প্রধান জানিয়েছেন, অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত হোটেলের মালিক বিরেশ্বর মিত্র। তাঁর বাড়ি বেহালায়। তাঁর বাড়িতে তল্লাশি চালিয়েও এখনও তাঁর সন্ধান মেলেনি। বিরেশ্বরের দুই কর্মচারীকে আটক করেছে পুলিশ।
নিউ মার্কেটের এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে এখনও পর্যন্ত ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের মধ্যে বাংলাদেশের নাগরিক পাঁচ জন। জানা গিয়েছে, ওই পাঁচ জন একই পরিবারের সদস্য। এছাড়া মৃতদের মধ্যে দু’জনের বাড়ি বিহার এবং শিলিগুড়িতে। বাকি দু’জনের পরিচয় এখনও নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
বুধবার সকাল থেকেই ঘটনাস্থল ঘিরে রেখেছে কলকাতা পুলিশ। দফায় দফায় ঘটনাস্থলে তদন্ত চালাচ্ছে কলকাতা পুলিশের হোমিসাইড, ফরেন্সিক এবং ডগ স্কোয়াডের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ। ফরেন্সিক আধিকারিকেরা ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। বৈদ্যুতিক সংযোগ থেকেও প্রয়োজনীয় নমুনা ও প্রমাণ সংগ্রহ করা হয়েছে।
কলকাতা পুলিশের এক আধিকারিকের কথায়, প্রাথমিক তদন্তে শর্ট সার্কিট থেকেই আগুন লেগেছে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে কী কারণে শর্ট সার্কিট হল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি, কেন শুধুমাত্র ওই বহুতলের তৃতীয় তলাতেই আগুন ছড়াল, সেই বিষয়টিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। আপাতত গোটা ভবনে সাধারণের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
পুলিশ ও দমকলের সঙ্গে সমন্বয় রেখে তদন্তে সহযোগিতা করছে কলকাতা পুরসভাও। জানা গিয়েছে, দুর্ঘটনাকবলিত হোটেলটিতে মোট ন’টি ঘর ছিল। এর মধ্যে চারটি ঘর থেকে উদ্ধার হয়েছে ন’টি দেহ।
দমকল দফতরের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, তিনতলার একটি হোটেল থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়। পরে দ্রুত ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে গোটা তলায়। মুহূর্তের মধ্যে হোটেল ধোঁয়ায় ভরে যাওয়ায় আবাসিকরা কোন পথে বেরোবেন, তা বুঝতে পারেননি। প্রাথমিকভাবে তদন্তকারীদের অনুমান, হোটেলে অগ্নিনিরাপত্তা সংক্রান্ত একাধিক নিয়ম মানা হয়নি।
পুলিশের একাংশের দাবি, বড় হোটেল পরিচালনার ক্ষেত্রে শুধুমাত্র দমকলের অনুমতিই যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন পুলিশি অনুমতিও। অভিযোগ, নিউ মার্কেটের এই হোটেলের ক্ষেত্রে সেই অনুমতি ছিল না। হোটেলের ভিতরে একটি লোহার সিঁড়ি কেন ছিল, সেই বিষয়টিও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
হোটেলে পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ছিল কি না, থাকলে তা কার্যকর ছিল কি না, সেই বিষয়টিও তদন্তের আওতায় রয়েছে। পাশাপাশি, আগুন লাগার পিছনে কোনও নাশকতার পরিকল্পনা ছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
হোটেল মালিক বিরেশ্বর মিত্রের সন্ধানে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ। পুরো ঘটনার তদন্তে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে মামলা দায়ের করেছে কলকাতা পুলিশ।




