• facebook
  • twitter
  • youtube
Wednesday, 7 October, 2026

ফল প্রকাশের আগেই রেজিনগরে হার মানলেন হুমায়ুন, রাজনীতি ছাড়ার ঘোষণা ‘অভিমানী’ বিধায়কের

ভোটের ফল প্রকাশের আগেই রেজিনগরে হার স্বীকার করলেন হুমায়ুন কবীর। শুধু তাই নয়, রেজিনগরে ভোটের নামে প্রহসন হয়েছে

ফল প্রকাশের আগেই রেজিনগরে হার মানলেন হুমায়ুন, রাজনীতি ছাড়ার ঘোষণা ‘অভিমানী’ বিধায়কের

Image: IANS

ভোটের ফল প্রকাশের আগেই রেজিনগরে হার স্বীকার করলেন হুমায়ুন কবীর। শুধু তাই নয়, রেজিনগরে ভোটের নামে প্রহসন হয়েছে বলে অভিযোগ তুলে রাজনীতি ছাড়ার ঘোষণা করলেন নওদার বিধায়ক তথা আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রধান। রাজ্য সরকার এবং প্রশাসনের বিরুদ্ধে তোপ দেগে ‘অভিমানী’ হুমায়ুন জানিয়ে দিলেন, শুভেন্দু অধিকারী যত দিন মুখ্যমন্ত্রী থাকবেন, তত দিন বিধানসভায় যাবেন না তিনি।

মঙ্গলবার রেজিনগর উপনির্বাচনের দিন সকালেই পুলিশ হুমায়ুনকে গ্রেফতার করে। প্রায় ১২ ঘণ্টা পর সন্ধ্যায় তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়। হুমায়ুনের ছেড়ে দেওয়া রেজিনগর আসনে উপনির্বাচনে তাঁর দলের প্রার্থী তাঁরই ছেলে গোলাম নবি আজ়াদ। ভোট শেষ হওয়ার পর তাঁর ছেলের দাবি ছিল, নির্বাচনের ফল কী হতে চলেছে, তা ভোটের দিনই স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে। বিজেপির বিরুদ্ধে ভোটলুটের অভিযোগও করেছিলেন তিনি।

কিন্তু বুধবার সকালে রেজিনগর প্রসঙ্গে সম্পূর্ণ ভিন্ন সুরে দেখা যায় হুমায়ুনকে। যে হুমায়ুনকে এত দিন প্রকাশ্যে একের পর এক হুঁশিয়ারি দিতে দেখা গিয়েছে, এ দিন কথা বলতে গিয়ে তাঁকে কাঁদতেও দেখা যায়। তাঁর দাবি, রেজিনগরে বিপুল ভোটে বিজেপি জিতবে। তবে সেই জয় কোনও ভাবেই জনমতের প্রতিফলন হবে না বলে দাবি তাঁর। রাজ্য পুলিশ এবং প্রশাসনকে কাজে লাগিয়ে শাসকদল ভোট ‘চুরি’ করেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

এই ‘অভিমানে’ বিধানসভার চৌকাঠ আর মাড়াবেন না বলে ঘোষণা করেন নওদার বিধায়ক। একই সঙ্গে তাঁর এই সিদ্ধান্তের জন্য নওদার সাধারণ মানুষের কাছেও ক্ষমা চেয়ে নেন তিনি। হুমায়ুনের কথায়, ‘‘রাজনীতি থেকে স্বেচ্ছাবসর নেব। এমন গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে লড়াই করা যায় না।’’

তবে রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা করলেও মুর্শিদাবাদে বাবরি মসজিদ নির্মাণের প্রতিশ্রুতি থেকে তিনি সরছেন না বলেও জানান। একটি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে হুমায়ুনের দাবি, নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী তাঁকে কথা দিয়েছিলেন যে তাঁর ছেলে অন্তত ৩০ হাজার ভোটে জিতবেন। তাঁর অভিযোগ, ‘‘মুখ্যমন্ত্রী কথা রাখেননি।’’

মঙ্গলবার ভোটকেন্দ্র থেকে বেরোনোর সময় পুলিশের উদ্দেশে অশালীন মন্তব্য করা এবং ভোটারদের উস্কানি ও প্রভাবিত করার অভিযোগ ওঠে হুমায়ুনের বিরুদ্ধে। এর পরই তাঁকে আটক করে পুলিশ। প্রায় ১২ ঘণ্টা পর মুক্তি পান তিনি।

বুধবার সেই প্রসঙ্গে হুমায়ুন বলেন, ‘‘যে গণতান্ত্রিক কাঠামোয় বিনা কারণে একজন সাব-ইনস্পেক্টর পদে থাকা পুলিশ নির্বাচিত বিধায়ককে জোর করে তুলে নিয়ে গিয়ে ১২ ঘণ্টা আটকে রাখতে পারে, সেই গণতন্ত্রকে আমি ঘৃণা করি। এই পুলিশমন্ত্রীকেও আমি এড়িয়ে চলব।’’

তবে বিধানসভার কার্যক্রম থেকে দূরে থাকার ঘোষণা করলেও নিজের বিধানসভা এলাকার সাধারণ মানুষের জন্য কাজ চালিয়ে যাবেন বলে জানিয়েছেন হুমায়ুন। তাঁর বক্তব্য, তাঁকে নির্বাচিত করে বিধানসভায় পাঠানো মানুষের স্বার্থে এলাকায় সমস্ত পরিষেবা সচল রাখবেন তিনি। তবে বিধানসভার কোনও কার্যক্রমে আর অংশ নেবেন না।