পুজোয় (Durga Puja) ট্রেন্ডি থাকতে গেলে লাগবেই ফ্যাশনেবল ড্রেস। পুজোর চারটে দিনই নিজেকে সুন্দর করে সাজিয়ে তুলতে হবে। আর তার জন্যই চলে এক বছরের দীর্ঘ অপেক্ষা। শুধু ড্রেস নয়, জুয়েলারি, ব্যাগ থেকে জুতো সবেতেই তাই চাই নতুনের ছোঁয়া। আর তা খুঁজতেই পুজোর ক’টা দিন মানুষ ভিড় জমায় নিউমার্কেট থেকে গড়িয়াহাট। আর যাঁদের পকেটে একটু জোর আছে, তাঁরা ঢুঁ মারেন শপিং মলে।
পুজোর (Durga Puja) আর বেশি দিন বাকি নেই। হাতে গোনা মাত্র ক’দিন। তার আগে চলছে শেষ মুহূর্তের শপিং। প্রতি বারের মতো এবারও পুজোয় (Durga Puja) থাকছে শাড়ি ও পাঞ্জাবির সম্ভার। তা কিনতে মানুষ ভিড় করছেন হাতিবাগান, নিউ মার্কেট এবং গড়িয়াহাটে। আর তা সামলাতে রীতিমতো নাজেহাল দোকানিরা। পুজো এসে গিয়েছে, তাই ব্যস্ততাও তুঙ্গে। সকাল থেকে রাত, দোকানের সামনে শুধুই কালো মাথার সারি।
গড়িয়াহাট দোকানগুলি বরাবরই শাড়ির কালেকশনের জন্য নজর কাড়ে। এবারও থাকছে নতুনত্বের চমক। শাড়ির ডিজাইনে থাকছে নতুন ধরনের নকশা। জামদানি, তাঁত, আজরখ এবং কাঁথার স্টিচের কাজ তো থাকছেই। তার পাশাপাশি থাকছে হালকা ও আধুনিক শাড়ি। শুধু শাড়ি নয়, ব্লাউজেও এসেছে বদল।
বিশেষ হাতা, কাটওয়ার্ক, কোরসেট ধাঁচের নকশা কিংবা ভিন্ন গলার কাট এখন ক্রেতাদের কাছে হট আইটেম। শাড়ির পাশাপাশি কুর্তি, পালাজো, থ্রি-পিস কিংবা ফিউশনেরও রয়েছে চাহিদা। এবারের পুজোয় নজর কেড়েছে ফ্যান্সি গয়না এবং জুতোর কালেকশন।
আরও পড়ুন: শরৎ এল রে: ‘হুদুড় দুর্গা’, এক ভিন্ন দুর্গার কাহিনি
হাতিবাগান বাঙালির কাছে নস্টালজিয়া। পুজোয় কেনাকাটা করতে যেতেই হবে সেখানে। পুরনো দোকানের ঐতিহ্য, সাধ্যের মধ্যে সাধ পূরণ হাতিবাগানেই সম্ভব। আর হাতিবাগানে যাব কিন্তু দরদাম করব না, তা আবার হয় না কি।
হাতিবাগানে যদি থাকে সাবেকিয়ানার ছোঁয়া তাহলে নিউ মার্কেটে রয়েছে সাহেবিয়ানা। শাড়ি, পাঞ্জাবি, জুতোর পাশাপাশি রয়েছে ফিউশন, ব্যাগি জিনস, প্রিন্টেড পোশাক, লং স্কার্ট ও আরামদায়ক পোশাকের সম্ভার। যার চাহিদাও রয়েছে। অনলাইনে দেখা ডিজাইন দোকানে এসে খুঁজছেন ক্রেতারা।
আরও পড়ুন: শরৎ এল রে: ডাকের সাজে সাবেকিয়ানার প্রতিফলন মা দুর্গার মুর্তিতে
তবে ভিড় হলেও দোকানিদের মধ্যে রয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। কোনও দোকানির মতে, ‘এ বার বিক্রি ভালোই হয়েছে। পুরনো কাস্টমার এসেছেন, নতুন কাস্টমারও এসেছেন।’ আবার অন্য দোকানির মুখে শোনা যাচ্ছে ভিন্ন সুর, ‘ভিড় হচ্ছে, কিন্তু সেই অনুপাতে বিক্রি হচ্ছে না। অনেকে দেখছেন, দাম জিজ্ঞাসা করছেন, তার পরে চলে যাচ্ছেন।’
এক ক্রেতা জানিয়েছেন, ‘হাতিবাগানে বাজেটের মধ্যে অনেক কিছু পাওয়া যায়। পছন্দ হলে একটু দরদামও করা যায়। তাই পুজোর শপিংয়ের জন্য অন্তত একবার এখানে আমার আসা চাই।’
পুজোর (Durga Puja) কেনাকাটায় দরদামের প্রসঙ্গ উঠলে এক বিক্রেতা হেসে বলেন, ‘দরদাম তো হবেই। গড়িয়াহাট, হাতিবাগানে দরদাম ছাড়া বাজার হয় নাকি! তবে আমরা যে দাম বলছি, তারও একটা হিসাব আছে।’
এক ক্রেতার মতে, ‘পরিবারের সবার জন্য কেনাকাটা করতে হলে নিউ মার্কেট খুব সুবিধার। এক জায়গায় অনেক কিছু পাওয়া যায়। একটা জিনিস পছন্দ না হলে পাশের দোকানে চলে যাওয়া যায়।’
ব্যবসায়ী থেকে ক্রেতা, বলা ভালো সমস্ত বাঙালির কাছেই পুজোর (Durga Puja) চারটে দিন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। নতুন ফ্যাশান ট্রেন্ড কি চলছে তা যেমন পুজোর এই ক’টা দিনই বোঝা যায়, ঠিক তেমনি এই চারদিনের অপেক্ষায় থাকেন ব্যবসায়ীরা। তাই হাতিবাগান, নিউ মার্কেট আর গড়িয়াহাটের ভিড় জানান দিচ্ছে— পুজোর (Durga Puja) আর বেশি দিন নেই।
দেখুন:<iframe width=”560″ height=”315″ src=”https://www.youtube.com/embed/t9o69VyKXPI?si=VGGacafXiM5NRvZ9″ title=”YouTube video player” frameborder=”0″ allow=”accelerometer; autoplay; clipboard-write; encrypted-media; gyroscope; picture-in-picture; web-share” referrerpolicy=”strict-origin-when-cross-origin” allowfullscreen></iframe>