কলকাতা পুরসভার নির্বাচন (Kolkata Municipal Corporation Election) ঘিরে ফের আইনি জটিলতা। ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পুরভোটের কোনও বিজ্ঞপ্তি জারি করতে পারবে না রাজ্য নির্বাচন কমিশন। শুক্রবার অন্তর্বর্তী নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্টের (Calcutta High Court) পূজাবকাশকালীন ডিভিশন বেঞ্চ। বিচারপতি সব্যসাচী ভট্টাচার্য এবং বিচারপতি অর্জুন রায় মুখোপাধ্যায়ের বেঞ্চের এই নির্দেশের ফলে কলকাতা পুরসভার নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বাড়ল।
কলকাতা পুরসভার ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তিকে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টের (Calcutta High Court) দ্বারস্থ হয়েছিল সিপিএম। সেই মামলায় একক বেঞ্চের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে ডিভিশন বেঞ্চে আবেদন করেন মামলাকারী। বুধবার মামলাটির দ্রুত শুনানির আর্জি জানানো হলে তাতে সাড়া দেয় ডিভিশন বেঞ্চ। পাশাপাশি, ৬ নভেম্বর পর্যন্ত কলকাতা পুরসভার নির্বাচনী নির্ঘণ্ট প্রকাশের উপর অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়েছিল। শুক্রবার নির্বাচনী বিজ্ঞপ্তি জারি না করার নির্দেশ বহাল রাখল আদালত।
উল্লেখ্য, গত ১১ সেপ্টেম্বর কলকাতা পুরসভার ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস নিয়ে বিজ্ঞপ্তি জারি করে রাজ্য সরকার। আগে কলকাতা পুরসভায় ওয়ার্ডের সংখ্যা ছিল ১৪৪। পুনর্বিন্যাসের পর তা বেড়ে হয়েছে ২০৯। এই সিদ্ধান্তের বৈধতা নিয়েই আদালতের দ্বারস্থ হন কসবার বাসিন্দা তথা সিপিএম নেতা দীপ দাস।
মামলাকারীর অভিযোগ, ওয়ার্ডগুলির সীমানা পুনর্নির্ধারণের ক্ষেত্রে জনসংখ্যা, ভৌগোলিক অবস্থান এবং প্রশাসনিক সামঞ্জস্যের বিষয়গুলি যথাযথভাবে বিবেচনা করা হয়নি। কোনও একটি রাজনৈতিক দলকে সুবিধা পাইয়ে দিতেই এই পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়। পাশাপাশি, ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসের সুপারিশ করার ক্ষেত্রে পুর কমিশনারের আইনগত ক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন মামলাকারী।
আরও পড়ুন: মধ্যরাতে দিল্লির করোলবাগে আগুন, ঘটনাস্থলে ২২টি ইঞ্জিন
মামলাকারীর আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের বক্তব্য, গত ৫ আগস্ট ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসের প্রস্তাব দেওয়া হয়। ৭ আগস্ট ওয়ার্ডের সংখ্যা ১৪৪ থেকে বাড়িয়ে ২০৯ করার কথা জানানো হয়। এরপর ২১ সেপ্টেম্বর চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হয়। এত দ্রুততার সঙ্গে গোটা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার বিষয়টি নিয়েই তাঁদের আপত্তি।
তাঁর আরও বক্তব্য, রাজ্য সরকার পুরসভার সুপারিশ অনুযায়ী ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসের সিদ্ধান্ত নিতে পারে। কিন্তু রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর কলকাতা পুরসভায় নির্বাচিত বোর্ডের পরিবর্তে প্রশাসক নিয়োগ করা হয়েছিল। সেই প্রশাসকের তরফেই পুনর্বিন্যাসের প্রস্তাব দেওয়া হয়। ফলে নির্বাচিত পুরবোর্ডের পরিবর্তে প্রশাসনিক স্তরে নেওয়া সিদ্ধান্তের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। পুরসভার কোনও কর্মচারী বা প্রশাসক এ ধরনের সিদ্ধান্ত নিতে পারেন কি না, তা খতিয়ে দেখার আবেদন জানিয়েছেন তিনি।
অন্যদিকে, রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল সুরজিৎ নাথ মিত্র এই আবেদনের তীব্র বিরোধিতা করেন। তাঁর বক্তব্য, সরকারি নির্দেশ মেনেই কলকাতা পুরসভায় প্রশাসক নিয়োগ করা হয়েছিল। পুরসভা সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার সম্পূর্ণ অধিকার তাঁর ছিল। পুর আইনের মেনেই এই পদক্ষেপ করা হয়েছে। পাশাপাশি, মামলাটির গ্রহণযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
উল্লেখ্য, প্রথমে মামলাটি ওঠে হাইকোর্টের বিচারপতি হিরণ্ময় ভট্টাচার্যের একক বেঞ্চে। ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসের বিজ্ঞপ্তির উপর স্থগিতাদেশ চেয়েছিলেন মামলাকারী। তবে সেই আবেদন খারিজ করে দেয় একক বেঞ্চ। আদালতের (Calcutta High Court) পর্যবেক্ষণ ছিল, ওয়ার্ডের খসড়া তালিকা প্রকাশের সময় মামলাকারী কোনও আপত্তি জানাননি। তাই ওই পর্যায়ে অন্তবর্তী নির্দেশ প্রয়োজন নেই। গত ২৯ অক্টোবর মামলায় সব পক্ষের কাছে হলফনামা তলব করে আদালত।
একক বেঞ্চে অন্তর্বর্তী নির্দেশ না মেলায় ডিভিশন বেঞ্চের দ্বারস্থ হন মামলাকারী। আইনজীবী শামিম আহমেদ আদালতে জানান, যে কোনও সময় কলকাতা পুরসভার নির্বাচনী নির্ঘণ্ট ঘোষণা যেতে পারে। একবার নির্বাচন ঘোষণা হয়ে গেলে ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত মামলার গুরুত্ব অনেকটাই কমে যেতে পারে। তাই দ্রুত শুনানির প্রয়োজন রয়েছে।
এবার ডিভিশন বেঞ্চের অন্তর্বর্তী নির্দেশে স্পষ্ট হয়ে গেল, ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত কলকাতা পুরসভার নির্বাচন (Kolkata Municipal Corporation Election) নিয়ে কোনও বিজ্ঞপ্তি জারি করতে পারবে না রাজ্য নির্বাচন কমিশন। ফলে পুরভোটের নির্ঘণ্ট প্রকাশের ক্ষেত্রে আপাতত আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকেই তাকিয়ে থাকতে হবে।
দেখুন:




