ক্যামাক স্ট্রিট অফিসের বিলবোর্ড কাণ্ডে বুধবার শেক্সপিয়ার থানায় হাজিরা দেন মমতা তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ তথা সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। টানা ৫ ঘণ্টা পর হাজিরা দিয়ে বেরিয়ে অভিষেক তীব্র আক্রমণ করেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে। একইসঙ্গে ভুল তথ্য ছড়ানোর জন্যও বিজেপিকে নিশানা করেন তিনি। এমনকী কলকাতা পুরসভা এবং কলকাতা পুলিশকে হুঁশিয়ারি দেন ডায়মন্ডহারবারের সাংসদ। এখান থেকেই তিনি একের পর এক তোপ দাগেন। কলকাতা হাইকোর্ট এবং সুপ্রিম কোর্টে এই মামলা নিয়ে যাবেন বলেও স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন তিনি।
এদিকে অভিষেকের দাবি, যে সংস্থা যখন ডেকেছে তখন সহযোগিতা করেছেন তিনি। পালিয়ে বাঁচার চেষ্টা করেননি। এমনকী রাষ্ট্রশক্তিকে কাজে লাগিয়ে বিজেপি রাজ্যের ক্ষমতায় এসেছে। তাই এই মন্ত্রিসভা থেকে শুরু করে মুখ্যমন্ত্রী সবটাই অবৈধ। বুধবার হাজিরা থেকে বেরিয়ে রাস্তায় দাঁড়িয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অভিষেকের তোপ, ‘অবৈধ নির্মাণ নিয়ে কমপ্লেন করলে হবে না। প্রমাণ দিতে হবে। প্রত্যেকটা তদন্তে, যে কোনও মামলায় আমি যতটা পেরেছি সহযোগিতা করেছি। কোনওদিন কোনও প্রশ্ন এড়িয়ে যাইনি। সারদা, নারদা চোরটা একবার সিবিআইয়ের নোটিস পেয়েই বিজেপিতে ছুটে পালিয়ে গেছে।’ এভাবেই নাম না করে মুখ্যমন্ত্রীকে আক্রমণ করেন তৃণমূল সাংসদ।
অন্যদিকে গত ২৭ আগস্ট অভিষেকের অফিসের বিলবোর্ড সরানো নিয়ে অশান্তি শুরু হয়। পুলিশের সঙ্গে হাতাহাতি, বচসা হয়েছিল। কলকাতা পুরসভার কর্মীদের মারধরের অভিযোগ ওঠে। পুরসভার কর্মীদের সরকারি জিনিসপত্র চুরির অভিযোগে মামলা হয়। এই অভিযোগ নিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হুঁশিয়ারি, ‘পুরো ঘটনা ফেসবুক লাইভ হয়েছে। অভিযোগ করলেই তো হল না। নোটিস না দিয়ে কোনও ডিমোলিশন হয় না, এটা পুরসভার নিজের আইনে রয়েছে। আর পুরসভা আমাকে নোটিস দেয়নি। আমি একটা অভিযোগ করব, সেই অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত হবে। তদন্ত হয়েছে, পুলিশ আমায় ডেকেছে, যা যা প্রশ্ন করেছে, আমি উত্তর দিয়েছি। বাকি আইনি লড়াই লড়া হবে। এই সব নিয়ে আমি হাইকোর্ট, সুপ্রিম কোর্টে যাব।’
তাছাড়া একদিন আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর হামলা হয়েছে। ছুরি নিয়ে হামলা করা হয়। তা নিয়ে অভিষেকের অভিযোগ, ‘অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলে নয়, উনি রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বলে নয়, উনি একজন মহিলা। যেভাবে গতকাল ঘটনাটি ঘটেছে। আমি কালীঘাট কার্যালয়ে উপস্থিত ছিলাম যখন এই ঘটনা ঘটে। আমি যতটুকু শুনেছি বা সংবাদমাধ্যমে দেখেছি, যেভাবে ছুরি নিয়ে এগিয়ে আসা হয়েছে, মুখ্যমন্ত্রী কথায় কথায় বলেন যে, উনি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে জেড প্লাস নিরাপত্তা দেন। এই যদি জেড প্লাস নিরাপত্তার নিদর্শন হয়, তাহলে সাধারণ মানুষ বা নারীদের নিরাপত্তা কোথায়? সেটা আপনারাই বুঝে নিন।’ এখানেই শেষ নয়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যের বিজেপি সরকার এবং মুখ্যমন্ত্রীকে তুলোধনা করে বলেন, ‘রাষ্ট্রশক্তিকে ব্যবহার করে বাংলা দখল করা হয়েছে। তাই এই সরকার অবৈধ, মুখ্যমন্ত্রী, মন্ত্রিসভা সবই অবৈধ। একইরকমভাবে প্রধানমন্ত্রী, কেন্দ্রের সরকারও অবৈধ। খালি তৃণমূল কংগ্রেসের বিলবোর্ড খোলা হবে? তৃণমূল কংগ্রেসের যদি কিছু না থাকে, তাহলে এত ভয় কেন পাচ্ছেন শুভেন্দু অধিকারী? ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে শুরু করে তৃণমূলের সিম্বল ফ্রিজ, পার্টি অফিস ভাঙা, বিলবোর্ড খোলা, দলের নেতা-কর্মীদের জেলে ঢোকানোর পরও এঁদের রাতে ঘুম আসছে না কেন?’




