• facebook
  • twitter
  • youtube
Friday, 2 October, 2026

জোকার জলাভূমি ভরাট মামলায় হাইকোর্টের কড়া বার্তা, ২০১৭-র নির্দেশ প্রত্যাহারের আবেদন খারিজ

জোকার জলাভূমি ভরাটের অভিযোগ সংক্রান্ত মামলায় ২০১৭ সালে দেওয়া নির্দেশ প্রত্যাহারের আবেদন খারিজ করে দিল কলকাতা হাইকোর্ট। ডিভিশন

জোকার জলাভূমি ভরাট মামলায় হাইকোর্টের কড়া বার্তা, ২০১৭-র নির্দেশ প্রত্যাহারের আবেদন খারিজ

জোকার জলাভূমি ভরাটের অভিযোগ সংক্রান্ত মামলায় ২০১৭ সালে দেওয়া নির্দেশ প্রত্যাহারের আবেদন খারিজ করে দিল কলকাতা হাইকোর্ট। ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়েছে, শুধু জমির শ্রেণি পরিবর্তনের সরকারি মেমো থাকলেই জলাশয় পুনরুদ্ধারের নির্দেশ অকার্যকর হয়ে যায় না।

বিচারপতি পার্থসারথি চট্টোপাধ্যায় ও বিচারপতি তপব্রত চক্রবর্তীর ডিভিশন বেঞ্চ এই আবেদন খারিজ করে জানায়, জমির শ্রেণি পরিবর্তনের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট আইনি শর্ত পূরণ করা হয়েছিল কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।

মামলাকারী পক্ষের আইনজীবী কল্লোল বসু আদালতে জানান, জোকার মৌজা এলাকায় একটি জমি জলাভূমি ভরাট করে ব্যবহার করা হয়েছে—এই অভিযোগে দীর্ঘদিন ধরে সংশ্লিষ্ট দফতরে অভিযোগ জানানো হয়েছিল। অভিযোগের ভিত্তিতে মৎস্য দফতর জমিটি পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ নেয়। সেই পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৭ সালের ১৬ জুন হাইকোর্ট পুলিশকে মৎস্য দফতরের সহকারী অধিকর্তাকে জলাশয় পুনরুদ্ধারের কাজে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করার নির্দেশ দেয়।

ওই নির্দেশ প্রত্যাহারের আবেদন করেন সংশ্লিষ্ট জমির মালিকপক্ষ। তাঁদের দাবি, ০.৭৫ একর জমির মধ্যে ০.১১ একর জমি ২০১২ সালে পশ্চিমবঙ্গ ভূমি সংস্কার আইনের ৪সি ধারায় ‘শালি’ থেকে ‘বাস্তু’ হিসেবে শ্রেণি পরিবর্তন করা হয়েছিল। ওই সরকারি মেমোর বিরুদ্ধে কোনও আপিলও হয়নি। ফলে সংশ্লিষ্ট জমিকে জলাশয় হিসেবে বিবেচনা করে তা পুনরুদ্ধারের নির্দেশ দেওয়া যায় না বলে যুক্তি দেন তাঁরা।

তবে সেই যুক্তি গ্রহণ করেনি আদালত। রায়ে বলা হয়েছে, জমির শ্রেণি পরিবর্তনের মেমো থাকলেও সংশ্লিষ্ট বিধান অনুযায়ী ৯০ দিনের মধ্যে ক্ষতিপূরণমূলক জলাশয় তৈরির শর্ত ছিল। সেই শর্ত পূরণ করা হয়নি। ফলে শুধুমাত্র ২০১২ সালের ওই মেমোর ভিত্তিতে আবেদনকারীরা সুবিধা দাবি করতে পারেন না বলে পর্যবেক্ষণ করেছে আদালত।

আদালতের নথিতে আরও উঠে এসেছে, ২০১১ সালে মৎস্য দফতরের তদন্তে অভিযোগের জায়গাটি ভরাট অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল। পরে জমির রেকর্ড সংশোধন এবং জলাশয় পুনরুদ্ধারের জন্য সংশ্লিষ্ট ভূমি আধিকারিকের কাছে আবেদন করা হয়। জলাশয় খননের প্রতিশ্রুতি দিয়ে আবেদনকারীদের পক্ষ থেকে দেওয়া হলফনামার বিষয়টিও আদালতের নজরে আসে। এই ঘটনায় থানায় অভিযোগ দায়ের হয়ে এফআইআর-ও হয়েছিল।

ডিভিশন বেঞ্চ আরও জানায়, কোনও নির্দেশ পুনর্বিবেচনা বা প্রত্যাহারের আবেদনের মাধ্যমে মূল মামলার সম্পূর্ণ শুনানি নতুন করে করা যায় না। সংশ্লিষ্ট আবেদনে আদালতকে ভুল তথ্য দেওয়া বা কোনও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করার অভিযোগও স্পষ্টভাবে তোলা হয়নি।

এই সমস্ত বিষয় বিবেচনা করে ২০১৭ সালের ১৬ জুন দেওয়া নির্দেশ প্রত্যাহারের আবেদন খারিজ করে দেয় কলকাতা হাইকোর্ট।