ছাত্র-যুবদের আস্থা অর্জন করতে চায় কেন্দ্রীয় সরকার। আর তাই এবার নতুন কর্মসূচি চালু করতে চলেছে নরেন্দ্র মোদীর সরকার। যার পোশাকি নাম দেওয়া হয়েছে, ‘এক দিন, এক বিশ্ববিদ্যালয়’। এই কর্মসূচিতে এক দিনে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের পাঠাবে নরেন্দ্র মোদীর সরকার। সেখানে ছাত্র-যুবদের সঙ্গে কথা বলবেন মন্ত্রীরা এবং শুনবেন তাঁদের কথা। পড়ুয়াদের সমস্যা, উদ্বেগ এবং নানা বিষয়ে দৃষ্টিভঙ্গি বোঝার চেষ্টা করবেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরা। এই কর্মসূচির কথা যখন ভাবা হচ্ছে তখন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে জিবি মিটিংকে কেন্দ্র করে এভিবিপি এবং বাম ছাত্র সংগঠনের সংঘর্ষে রণক্ষেত্রের চেহারা নিল।
এদিকে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে জেনারেল বডি মিটিংকে ঘিরে এবিভিপি এবং একাধিক বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলির মধ্যে ব্যাপক অশান্তি শুরু হয় বলে অভিযোগ। ছাত্র সংসদ না থাকা সত্ত্বেও কেন জিবি মিটিং ডাকা হলো? এই প্রশ্নকে কেন্দ্র করেই উত্তেজনার দেখা দেয় বলে দাবি বিজেপির ছাত্র সংগঠন এবিভিপির। তারপর দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের জেরে রাতভর উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় চত্বর। দু’পক্ষের হাতাহাতিতে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। রাতেই আহতদের হাসপাতালে দেখতে যান যাদবপুরের বিধায়ক শর্বরী মুখোপাধ্যায়। এই ঘটনার প্রতিবাদে যাদবপুর থানার সামনেও বিক্ষোভ দেখায় এবিভিপি।
অন্যদিকে এবিভিপির দাবি, ছাত্র সংসদ না থাকায় এই ধরনের জিবি মিটিং করার বৈধতা নিয়েই প্রশ্ন আছে। পাল্টা বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলির বক্তব্য, সাংগঠনিক প্রয়োজনেই ওই বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছিল। এবিভিপি-র দাবি, জিবি মিটিং ডাকার প্রতিবাদ করলে প্রায় ৭০ থেকে ৮০ জন তাঁদের উপর চড়াও হন। তার জেরে এবিভিপির যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি নিখিল দাস-সহ একাধিক পড়ুয়া আহত হন বলেও অভিযোগ। আর বাম ছাত্র সংগঠনগুলির দাবি, প্রথমে এভিপির পক্ষ থেকেই প্রথম হামলা চালানো হয়। এমনকী বাইরে থেকে লোকজন নিয়ে এসে এই হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি। অশান্তির রেশ ছড়িয়ে পড়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের নানা প্রান্তে। অরবিন্দ ভবনের সামনে এসএফআইয়ের পোস্টারে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার ঘটনাও ঘটে। তার জেরে রাতভর উত্তেজনা বজায় থাকে যাদবপুর চত্বরে। বৃহস্পতিবার দফায় দফায় সংঘর্ষ চলে দু’পক্ষের মধ্যে।
তাছাড়া এবিভিপির কেন্দ্রীয় কর্মসমিতির এক সদস্যের দাবি, বাম, অতিবাম এবং দিমাগি নকশালরা এই হামলা চালিয়েছে শিক্ষার্থীদের উপর। এবিভিপির যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি নিখিল দাসের উপর হামলা চালিয়ে তাঁকে প্রাণে মেরে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছে। এই ঘটনায় একাধিকজনের বিরুদ্ধে যাদবপুর থানায় এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। যদিও এবিভিপির এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে বাম ছাত্র সংগঠনগুলি। সিপিএম নেতা সৃজন ভট্টাচার্যের দাবি, এই ঘটনায় এসএফআই কখনও যুক্ত নয়। এবিভিপি বাইরে থেকে লোকজন নিয়ে এসে এই হামলা ঘটিয়েছে। বৃহস্পতিবার এই ঘটনার প্রতিবাদে এবিভিপি এবং বাম ছাত্র সংগঠনের পক্ষ থেকে পৃথকভাবে প্রতিবাদ কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে কদিন আগে জেন-জিদের আন্দোলন নাড়িয়ে দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকারকে। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদে ইস্তফা দিতে হয়েছে ধর্মেন্দ্র প্রধানকে। আর তার জেরে এবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রীসভা সিদ্ধান্ত নিয়েছে, ‘এক দিন, এক বিশ্ববিদ্যালয়’ কর্মসূচি পালন করা হবে।




