• facebook
  • twitter
  • youtube
Tuesday, 13 October, 2026

শরৎ এল রে: কলম দিয়ে দেবী আরাধনা, ১৩ হাজার কলমে তৈরি দুর্গার মূর্তি

হাজার হাজার কলমকে এমনভাবে সাজানোর পদ্ধতি খুঁজে বার করতে হয়েছে, যাতে দেবী দুর্গার অবয়বের অনুপাত, কাঠামো এবং দৃশ্যগত বৈশিষ্ট্য অক্ষুণ্ণ থাকে

শরৎ এল রে: কলম দিয়ে দেবী আরাধনা, ১৩ হাজার কলমে তৈরি দুর্গার মূর্তি

Image: SNS

শিল্প, পরিবেশবান্ধব ভাবনা এবং ঐতিহ্যের মেলবন্ধনে এ বার দুর্গাপুজোয় অভিনব উদ্যোগ ত্রিধারা সম্মিলনীর।  প্লাস্টিক দিয়ে তৈরি প্রায় ১৩ হাজার কলম এবং সমসংখ্যক রিফিল ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে দুর্গা মূর্তি।

চন্দ্রনাথ সাহা ওরফে তিলক, তাঁর পরিকল্পনা ও উদ্যোগে তৈরি এই শিল্পকর্মটির উচ্চতা প্রায় সাড়ে ৫ ফুট, প্রস্থ সাড়ে ৪ ফুট এবং গভীরতা ৩ ফুট। মণ্ডপে মূল দুর্গাপ্রতিমার পাশাপাশি প্রদর্শিত হবে এই কলমের তৈরি দুর্গামূর্তি।

কী ভাবে এমন একটি ভাবনা তাঁর মাথায় এল, তা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে সাহা বলেন, ‘কলমের মতো এমন একটি পরিচিত ও দৈনন্দিন ব্যবহার্য জিনিসকে মা দুর্গার শিল্পিত রূপ দেওয়ার ভাবনাটিই আমাকে এই কাজের প্রতি আকৃষ্ট করেছিল। হাজার হাজার পৃথক বস্তুকে একত্র করে এমন একটি রূপ দেওয়া, যার সঙ্গে মানুষের সাংস্কৃতিক ও আবেগের গভীর সম্পর্ক রয়েছে, বিষয়টি আমার কাছে বেশ আকর্ষণীয় মনে হয়েছিল।‘

আরও পড়ুন: শরৎ এল রে: দেবী দুর্গার নয়টি রূপ কী জানেন?

এই শিল্পকর্মটি তৈরি করতে ২০ দিনেরও বেশি সময় লেগেছে। পরিকল্পনা, প্রস্তুতি এবং নির্মাণ— প্রতিটি ক্ষেত্রেই বিশেষ যত্ন নিতে হয়েছে। হাজার হাজার কলমকে এমনভাবে সাজানোর পদ্ধতি খুঁজে বার করতে হয়েছে, যাতে দেবী দুর্গার অবয়বের অনুপাত, কাঠামো এবং দৃশ্যগত বৈশিষ্ট্য অক্ষুণ্ণ থাকে।

শিল্পী চন্দ্রনাথ সাহা বলেন, ‘সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল উপকরণটির বৈশিষ্ট্য বোঝা এবং হাজার হাজার পৃথক কলমকে একত্র করে একটি সম্পূর্ণ ভাস্কর্যের রূপ দেওয়া। দেবীর মুখ তৈরি করাটা বেশ কঠিন ছিল। কারণ, এত অপ্রচলিত উপকরণ ব্যবহার করেও মা দুর্গার মুখের অভিব্যক্তি এবং উপস্থিতির বৈশিষ্ট্য বজায় রাখতে হয়েছে।‘

আরও পড়ুন: শরৎ এল রে: চন্দনগরের ঘোষ পরিবারের পুজো যেন প্রায় আড়াইশো বছরের ইতিহাস বয়ে নিয়ে চলেছে

শিল্পীর কথায়, কাজের প্রাথমিক পর্যায়ে বেশ কিছু অনিশ্চয়তা ছিল। কী ভাবে কলমগুলিকে একত্র করে একটি সুসংহত অবয়ব তৈরি করা সম্ভব হবে, তা নিয়ে ভাবতে হয়েছে। তবে কাঠামোটি ধীরে ধীরে স্পষ্ট হতে শুরু করলে এবং তার মধ্যে মা দুর্গার রূপ ফুটে উঠলে শিল্পী বুঝতে পারেন, এই উপকরণ দিয়েও স্বতন্ত্র একটি শিল্পকর্ম তৈরি করা সম্ভব।

 

 

এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে ত্রিধারা সম্মিলনীর সহযোগিতার কথাও উল্লেখ করেছেন শিল্পী। তাঁর মতে, ভাবনাটি প্রচলিত ধারার বাইরে হলেও পুজো উদ্যোক্তারা তাঁকে এবং তাঁর দলকে নতুন ভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার সুযোগ দিয়েছেন। ফলে পরিকল্পনা অনুযায়ী বৃহৎ আকারে শিল্পকর্মটি তৈরি করা সম্ভব হয়েছে।

মূল দুর্গাপ্রতিমার বিসর্জনের পর কলম দিয়ে তৈরি এই শিল্পকর্মটি ভেঙে ফেলা হবে। পরে ব্যবহৃত উপকরণগুলি পুনর্ব্যবহার করে নতুন কলম তৈরির কাজে লাগানো হবে। ফলে দেবী আরাধনার পাশাপাশি পুনর্ব্যবহার এবং পরিবেশবান্ধব ভাবনাকেও বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে ত্রিধারা সম্মিলনীর এই উদ্যোগ।

দেখুন: