অবসরপ্রাপ্ত এক শিক্ষিকার পারিবারিক পেনশন সংক্রান্ত ফাইল বছরের পর বছর আটকে থাকায় নজিরবিহীন কড়া পদক্ষেপ করল কলকাতা হাইকোর্ট। দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলা জয়নগরে বিদ্যালয় পরিদর্শক (মাধ্যমিক শিক্ষা) এবং ময়দাহ হায়ার সেকেন্ডারি স্কুলের প্রধান শিক্ষকের বেতন পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ‘ফ্রিজ’ রাখার নির্দেশ দিলেন বিচারপতি অমৃতা সিনহা।
মামলার শুনানিতে আদালত স্পষ্ট জানায়, দীর্ঘদিন ধরে বিষয়টি ঝুলে থাকা সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট আধিকারিক যথাযথ পদক্ষেপ করেননি। আদালত এই ঘটনায় জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শকের ভূমিকা নিয়ে ‘হাইলি ডিশ সাটিসফেকশন’ বলেও উল্লেখ করেছে।
মামলাকারী প্রীতিভা সরকারের পক্ষের আইনজীবী কল্যাণ কুমার পন্ডা এবং আইনজীবী উত্তম কুমার রায় মামলার শুনানিতে আদালতে জানান, তাঁর স্বামী ১৯ মার্চ ১৯৮৪ সালে মারা যান। এরপর ২৯ জুন ১৯৮৪ সালে তিনি সহানুভূতিশীল ভিত্তিতে চাকরি পান। পরবর্তীতে ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১১ সালে অবসর নেন এবং বর্তমানে পেনশন পাচ্ছেন। তাঁর দাবি, স্বামীর চাকরির সূত্রে তিনি পারিবারিক পেনশনের অধিকারী বলে দাবি করেন।
আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ২০১৮ সালের ২৮ মে-তেই দক্ষিণ ২৪ পরগনার ডিআই স্কুল কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছিলেন। যাতে আবেদনকারীর পারিবারিক পেনশন ও ডেথ গ্র্যাচুইটির মামলা প্রস্তুতের জন্য প্রয়োজনীয় নথি এক মাসের মধ্যে তাঁর দপ্তরে জমা দেওয়া হয়।
কিন্তু এত বছর পরেও সেই ফাইলের নিষ্পত্তি হয়নি। সাম্প্রতিক রিপোর্টে ডিআই আদালতকে জানান, মৃত শিক্ষকের সার্ভিস বুক, পেনশন বুকলেট এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পুনর্গঠনের জন্য স্কুল কর্তৃপক্ষকে বলা হয়েছিল। এমনকী প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগ করা হলেও এখনও স্কুলের তরফে প্রয়োজনীয় নথি বা পেনশন ফাইল জমা দেওয়া হয়নি।
এই পরিস্থিতিতেই তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বিচারপতি অমৃতা সিনহা জানান, স্কুলের ফাইল না পাঠানোর কারণে আবেদনকারীর সমস্যা আরও দীর্ঘায়িত হচ্ছে। ডিআইও সংশ্লিষ্ট স্কুলের গাফিলতির বিরুদ্ধে যথাযথ পদক্ষেপ নেননি বলে আদালত উল্লেখ করে।
আদালতের কড়া নির্দেশ, দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক (মাধ্যমিক শিক্ষা)-র বেতন পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ফ্রিজ থাকবে। পাশাপশি একই অভিযোগে ময়দাহ হায়ার সেকেন্ডারি স্কুলের প্রধান শিক্ষকের বেতনও পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ফ্রিজ থাকবে। ডিআইকে অবিলম্বে মৃত শিক্ষকের সার্ভিস বুক, পেনশন বুকলেট এবং প্রয়োজনীয় নথি পুনর্গঠন করে পারিবারিক পেনশন ফাইল প্রস্তুতের ব্যবস্থা করতে হবে। মামলাটি ফের শুনানির জন্য ১৬ নভেম্বর তারিখে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: নিজের বাড়িতেই অগ্নিদগ্ধ বায়রন বিশ্বাস, অবস্থা আশঙ্কাজনক
আদেশটি অবিলম্বে কার্যকর করার জন্য আবেদনকারীর আইনজীবীকে কমিশনার অফ স্কুল এডুকেশনকে আদালতের এই নির্দেশের কথা জানাতে বলা হয়েছে। দীর্ঘ প্রায় আট বছর ধরে পারিবারিক পেনশনের বিষয়টি ঝুলে থাকার পর আদালতের এই কড়া নির্দেশ প্রশাসনিক স্তরে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন আইনজীবী মহলের একাংশ।




