• facebook
  • twitter
  • youtube
Friday, 31 July, 2026

আরজি কর কান্ডে উত্তাল কলকাতা পুরসভা

বিজেপি কাউন্সিলররা নিহত চিকিৎসকের কথা ভেবে অধিবেশন মুলতুবি করার দাবি জানান

আরজি কর কান্ডে উত্তাল কলকাতা পুরসভা

শুক্রবার ছিল কলকাতা পুরসভার মাসিক অধিবেশন৷ আরজি কর কান্ড নিয়ে পুরসভার অধিবেশনে বিজেপি কাউন্সিলররা এদিন সরব হন৷ প্লাকার্ড হাতে প্রদর্শিত হয় বিক্ষোভ, ওঠে স্লোগান৷ গেরুয়া শিবিরের কাউন্সিলররা অধিবেশন মুলতুবির প্রস্তাব দিলে, তা নাকচ করে দেয় শাসক শিবির৷ প্রতিবাদে অধিবেশন থেকে ওয়াক আউট করেন বিজেপি কাউন্সিলররা৷

উল্লেখ্য, প্রতি মাসে কলকাতা পুরসভার তরফে সকল কাউন্সিলরদের নিয়ে একটি অধিবেশন হয়ে থাকে৷ এই মাসেও তার ব্যতিক্রম হয়নি৷ শুক্রবার পুর অধিবেশনের শুরুতেই বিজেপি-র কলকাতা পুরসভার ৫০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সজল ঘোষ, ২২ নম্বরের ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মীনাদেবী পুরোহিত এবং ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর বিজয় ওঝা আরজি কর কান্ড নিয়ে সরব হয়ে স্লোগান তোলেন৷ ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’ স্লোগান দিতে শোনা যায় বিরোধীদের৷ বিজেপি কাউন্সিলর সজল ঘোষ ও বিজয় ওঝা আরজি কর কান্ডের তরুণী চিকিৎসক-পড়ুয়ার স্মৃতির উদ্দেশ্যে অধিবেশনে শোকপ্রস্তাবও পাঠ করার দাবি জানান৷ দাবি মেনে নীরবতা পালন করা হয় পুরসভার অধিবেশন কক্ষে৷

এরপর বিজেপি কাউন্সিলররা নিহত চিকিৎসকের কথা ভেবে অধিবেশন মুলতুবি করার দাবি জানান। কিন্তু তা মানতে চাননি অ্যাক্টিং চেয়ারপার্সন অরূপ চক্রবর্তী এবং পুরসভার মেয়র ফিরহাদ হাকিম সহ শাসক দলের কাউন্সিলররা৷ প্রতিবাদে অধিবেশন থেকে ওয়াক আউট করেন বিজেপি কাউন্সিলররা৷ প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে অধিবেশন কক্ষের চারদিকে ঘুরে কক্ষ ছেড়ে বেরিয়ে যান তাঁরা৷ এরপর বাইরে বিক্ষোভ দেখান সজল ঘোষেরা৷ সজল বলেন, ‘খেলোয়াড়, শিল্পীদের মৃত্যুতে শোকপ্রস্তাব পাঠ করা হয়। কিন্তু কর্তব্যরত একজন চিকিৎসকের ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় শোক প্রস্তাব পাঠ করতে রাজি নন এঁরা৷ এই সরকার এত নির্লজ্জ! কলকাতা পুরসভার ইতিহাসে এটা লজ্জা৷ এই পুরসভা চলাই উচিত নয়৷ আরজি করের ন্যক্কারজনক ঘটনায় কলকাতা সহ গোটা রাজ্যের মানুষ রাস্তায় নেমেছেন৷ তাই আমরা চেয়েছিলাম, অধিবেশন আজ মুলতুবি করে অন্য দিন রাখা হোক৷ কিন্তু তাতে তৃণমূল রাজি নয়৷’

এ প্রসঙ্গে মেয়র ফিরহাদ হাকিম বলেন, ‘তদন্ত তো করছে কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনস্থ সিবিআই৷ তাহলে ওঁরা কার কাছে বিচার চাইছেন? বিজেপি শাসিত গুজরাতে ধর্ষণকারীদের জেল থেকে ছাড়িয়ে মালা দিয়ে বরণ করে উৎসব পালন করা হয়৷ ওঁদের কাছ থেকে এসব কথা শুনব না৷ প্রতিবাদ করতে হলে তৃণমূল সরকার বিধানসভায় যে ধষর্ণ বিরোধী বিল আনবে, তা সমর্থন করে প্রতিবাদ জানান৷’