• facebook
  • twitter
  • youtube
Thursday, 17 September, 2026

‘সেক্স টয় কি অশ্লীল সামগ্রী?’ কলকাতা হাইকোর্টে প্রশ্নের মুখে পড়ল শুল্ক বিভাগ

তবে মামলাকারী সংস্থার দাবি, ‘বডি ম্যাসাজার’ কিংবা ‘সেক্স টয়’কে কোনওভাবেই নিষিদ্ধ পণ্য বলা যায় না। ১৯৬২ সালে এই ধরনের পণ্যকে

‘সেক্স টয় কি অশ্লীল সামগ্রী?’ কলকাতা হাইকোর্টে প্রশ্নের মুখে পড়ল শুল্ক বিভাগ

Calcutta High Court Photo-SNS

সেক্স টয় কি অশ্লীল সামগ্রী? এই নিয়ে নানা মতামত থাকলেও ভারতীয় কাস্টমস আইনে এমন পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কিন্তু সেই আইনি ক্ষমতা কি কাস্টমসের আছে? এবার উঠে গেল প্রশ্ন। এই নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা হয়। আর সেই মামলার শুনানিতে এমনই প্রশ্ন তুললেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি স্মিতা দাস দে’র সিঙ্গল বেঞ্চ। কাস্টমস অর্থাৎ শুল্ক বিভাগের পক্ষ থেকে অবশ্য মামলার গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। আগামী ৯ অক্টোবর মামলার পরবর্তী শুনানি রয়েছে।

এই বিতর্কিত প্রশ্নের ফয়সালা করতে মামলা গ্রহণ করে কলকাতা হাইকোর্ট। বিচারপতি স্মিতা দাস দে-র সিঙ্গল বেঞ্চে দায়ের হওয়া মামলায় অভিযোগ, শুল্ক বিভাগ কর্তৃপক্ষ ১৯৬৪ সালের একটি বিজ্ঞপ্তির জেরে সংশ্লিষ্ট পণ্যকে অশ্লীল সামগ্রী হিসেবে চিহ্নিত করে আমদানিতে আপত্তি তুলেছে। ওই বিজ্ঞপ্তিতে অশ্লীল বই, পুস্তিকা, ছবি, চিত্র বা কোনও ধরনের সামগ্রী আমদানির উপরে নিষেধাজ্ঞার কথা বলা আছে। প্রাথমিক শুনানির পরে মামলা গ্রহণ করতে গিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ, কোনও কর্তৃপক্ষ শুধু নিজের নৈতিক ধারণা বা ব্যক্তিগত মূল্যবোধের ভিত্তিতে কোনও পণ্যকে অশ্লীল বলে চিহ্নিত করতে পারে না। তার জন্য আইনের নির্দিষ্ট বিধান থাকা প্রয়োজন। এই ধরনের সামগ্রীকে কি ১৯৬৪ সালের বিজ্ঞপ্তির আওতায় অশ্লীল সামগ্রী বলা যায়? প্রশ্ন তুলেছে আদালত।

তবে মামলাকারী সংস্থার দাবি, ‘বডি ম্যাসাজার’ কিংবা ‘সেক্স টয়’কে কোনওভাবেই নিষিদ্ধ পণ্য বলা যায় না। ১৯৬২ সালে এই ধরনের পণ্যকে সরাসরি নিষেধাজ্ঞার কোনও নির্দিষ্ট বিধান নেই। এমন পণ্য দেশের বাজার এবং অনলাইন বিপণন সংস্থায় সহজে পাওয়া যায়। সেক্ষেত্রে আমদানির উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করলে ব্যবসায় প্রভাব পড়বে। আর কারও ব্যবসা করার অধিকারে হস্তক্ষেপ করা যায় না। আর শুল্ক বিভাগের বক্তব্য, প্রথমে কাস্টমস আইনের ১২৮ নম্বর ধারায় নির্ধারিত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করতে হতো মামলাকারীকে। কিন্তু এক্ষেত্রে তা করা হয়নি। দু’পক্ষের সওয়াল-জবাব শোনার পর কলতাতা হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ, মামলায় নিছক তথ্যগত বিরোধ নয়, একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি প্রশ্ন উঠছে। কোনও আইনানুগ কর্তৃপক্ষ যদি বস্তুনিষ্ঠ আইনের সীমা পেরিয়ে ব্যক্তিনির্ভর নৈতিকতার প্রশ্নে সিদ্ধান্ত নেয় এবং তাতে নাগরিকের ব্যবসার মৌলিক অধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হয় সেক্ষেত্রে কলকাতা হাইকোর্টের দরজা বন্ধ থাকবে না।

তাছাড়া কোন আইনি বিধানে এই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে এবং কেমনভাবে সেটা প্রয়োগ করা হয়েছে তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। আগামী দু’সপ্তাহের মধ্যে কাস্টমসের বক্তব্য হলফনামা আকারে আদালতে জমা দিতে হবে বলে নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। কাস্টমস আইনের ১১১(এম) ধারা কেমনভাবে প্রয়োগ করা হয়েছে সেটা খতিয়ে দেখা দরকার বলে জানিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট।