তারিখটা ২ অক্টোবর। এই তারিখ দেশবাসী মনে রাখে জাতির জনক মহাত্মা গান্ধীর জন্মজয়ন্তী হিসাবে। দেশজুড়ে তা পালিত হয়। প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে পশ্চিমবঙ্গ-সহ অন্যান্য রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরাও শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করে থাকেন। শুক্রবারও তার অন্যথা হয়নি। কিন্তু তাল কেটে যায় বর্ষীয়ান বিজেপি নেতা তথা প্রাক্তন রাজ্যপাল তথাগত রায়ের সমাজমাধ্যমে একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে। ১৫৭তম জন্মবার্ষিকীতে একদিকে যখন দিল্লিতে রাজঘাটে গান্ধীজির স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তাঁর আদর্শে ‘বিকশিত ভারত’ গড়ার বার্তা দিচ্ছেন, ঠিক তখনই সমাজমাধ্যমে একটি বিস্ফোরক পোস্ট করে নতুন বিতর্ক তৈরি করলেন তথাগত রায়। এমনকী মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধীকে পরোক্ষে ‘পাকিস্তানের জনক’ বলে কটাক্ষ করেন তিনি।
মহাত্মা গান্ধীকে নিয়ে অনেকের মধ্যেই ভিন্ন মত আছে। বিতর্ক কম নেই। তবু স্বাধীনতা আন্দোলনে দেশের প্রতি তাঁর অবদান অস্বীকার করার নয়। বিদেশের মাটিতেও নানা জায়গায় মহাত্মা গান্ধীর মূর্তি রয়েছে। সেখানেও পালিত হয় গান্ধীজির জন্মজয়ন্তী। সেখানে খোদ নিজের দেশের মাটিতেই এত বছর পর উঠে এল বিতর্কিত মন্তব্য। নিজের সমাজমাধ্যম প্ল্যাটফর্মে প্রকাশিত পোস্টে তথাগত রায় মহাত্মা গান্ধীকে জাতির জনক হিসেবে মেনে নিতে অস্বীকার করে ভারতীয় সভ্যতার ইতিহাস এবং বয়সের সমীকরণ টেনে প্রশ্ন তুলেছেন। তাতেই তৈরি হয়েছে বিতর্ক।
ভারত’ নামক দেশের কল্পনা কমপক্ষে খ্রীস্টজন্মের ১৫০০ বছর আগেকার, অর্থাৎ এখন থেকে ৩৫০০ বছর আগেকার।
মোহনদাস গান্ধী বেঁচে থাকলে তার বয়স এখন হত ১৫৭।
১৫৭ বছর বয়সের কোন লোক কি করে ৩৫০০ বছর বয়সের একটা ‘জাতির জনক’ হতে পারে আমাকে কেউ বুঝিয়ে দেবেন, প্লিজ?
অবশ্য তাকে পাকিস্তানের জনক…
— Tathagata Roy (@tathagata2) October 2, 2026
তথাগত রায় পরিচিত স্রোতের প্রতিকূলে হাঁটার জন্য। ঠোঁট কাটা হলেও তাঁর বিস্তর পাণ্ডিত্য রয়েছে। ত্রিপুরার রাজ্যপাল ছিলেন। মেঘালয়ের রাজ্যপালও ছিলেন। বিজেপির মতো সর্বভারতীয় দলের একদা রাজ্য সভাপতিও ছিলেন। সেখানে এদিন সমাজমাধ্যমে তথাগত রায় লিখলেন, ‘ভারত নামক দেশের কল্পনা কমপক্ষে খ্রীস্টজন্মের ১৫০০ বছর আগেকার, অর্থাৎ এখন থেকে ৩৫০০ বছর আগেকার। মোহনদাস গান্ধী বেঁচে থাকলে তার বয়স এখন হতো ১৫৭। এই বয়সের কোনও লোক কী করে ৩৫০০ বছর বয়সের একটা ‘জাতির জনক’ হতে পারে আমাকে কেউ বুঝিয়ে দেবেন? শুধু তাই নয়, তাঁকে পাকিস্তানের জনক বললে কারওরই আপত্তি হবে না।’
তাছাড়া তথাগত রায়ের এই বিস্ফোরক মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে নানা মহলে। গান্ধীজয়ন্তীর মতো জাতীয় তাৎপর্যপূর্ণ দিনে মহাত্মা গান্ধীর অবদানকে অস্বীকার করা এবং পাকিস্তানের জনক কটাক্ষ করাকে নিয়ে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি ভারতীয় ঐতিহ্য এবং মহাত্মার প্রতি চরম অপমান বলে অভিহিত করেছে। যদিও এখনও পর্যন্ত জাতীয় এবং রাজ্য বিজেপির পক্ষ থেকে এই ধরণের ব্যক্তিগত মতামত থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা হয়েছে।




