অনুপ্রবেশ ইস্যুতে জিরো টলারেন্স নীতি নিয়েছে রাজ্য সরকার। অবৈধভাবে বাংলাদেশ থেকে পশ্চিমবঙ্গে ঢুকে পড়লে তাদের ধরা হবে। আর হোল্ডিং সেন্টারে রাখা হবে। ওই বাংলাদেশি নাগরিকদের তারপর নিজ ভূমে ফেরত পাঠানো হবে। আর এই অনুপ্রবেশ করার কাজে কেউ যুক্ত থাকলে তাকেও গ্রেপ্তার করা হবে। এমন নীতি নিয়েই চলছে শুভেন্দু অধিকারীর সরকার। এবার কলকাতায় রাত কাটিয়ে আলো ফোটার আগে কাঁটাতার পেরিয়ে বাংলাদেশে ফেরার চেষ্টা করল এক ব্যক্তি। সীমান্তে বিএসএফের হাতে ধরাও পড়ে গেল ওই বাংলাদেশি যুবক। তবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ভারতীয় এক যুবককেও। কারণ এই ভারতীয় যুবক মোটা টাকার বিনিময়ে বাংলাদেশে ফেরাতে ওই বাংলাদেশিকে সাহায্য করেছিলেন বলে অভিযোগ।
তেহট্ট থানার সীমান্ত লাগোয়া নফরচন্দ্রপুর গ্রামে এই বাংলাদেশের নাগরিক ধরা পড়া নিয়ে জোর আলোড়ন পড়ে গিয়েছে। তবে ধৃত ওই বাংলাদেশি কেন কলকাতায় এসেছিলেন? এখন সেটা জানার চেষ্টা করছে তেহট্ট থানার পুলিশ। দফায় দফায় জেরা করা হচ্ছে ওই বাংলাদেশের যুবককে। আর ভারতীয় ওই যুবকের ভূমিকাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশ সূত্রে খবর, ধৃত বাংলাদেশের যুবকের নাম বাবুল হোসেন হালাদার। বাড়ি বাংলাদেশের খুলনায়। কদিন আগেই অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেছিল বাবুল। কলকাতায় কিছুদিন কাটিয়ে ফের বাংলাদেশে ফিরে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিল। আর তাতে তেহট্টের এই স্থানীয় যুবককে মোটা অঙ্কের টাকাও দেয় বাবুল। ভোররাতে নফরচন্দ্রপুর এলাকার সীমান্ত দিয়ে কাঁটাতার টপকে ওপারে পাঠানোর চেষ্টা করতেই ধরা পড়ে যায় দু’জনেই।
এই অনুপ্রবেশ ঠেকাতেই বিএসএফকে জমি দিয়েছে শুভেন্দু অধিকারীর সরকার। আর সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে হোল্ডিং সেন্টার করা হয়েছে। বিএসএফের নজরদারি থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশ থেকে এপারে কেমন করে ওই যুবক এল? এই প্রশ্নও এখন উঠতে শুরু করেছে। ভোররাতে সীমান্তে টহল দিচ্ছিলেন বিএসএফ জওয়ানরা। তখন দু’জনকে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করতে দেখে ধরে ফেলে। জওয়ানদের জেরায় বেরিয়ে আসে আসল সত্য। সীমান্ত পারাপারের বেআইনি চেষ্টার কথা স্বীকার করে নেয় তারা। তখন আটক করে তেহট্ট থানার পুলিশের হাতে তুলে দেয় বিএসএফ। এই ঘটনার নেপথ্যে কোনও বড় আন্তর্জাতিক পাচার বা অনুপ্রবেশকারী চক্র যুক্ত আছে কিনা এবং ধৃত বাংলাদেশি যুবক আগে কেমন করে ভারতের সীমানায় প্রবেশ করল খতিয়ে দেখতে জোরকদমে তদন্ত শুরু করেছে তেহট্ট থানার পুলিশ।
উল্লেখ্য, কদিন আগেই পশ্চিমবঙ্গের মাটিতে বাংলাদেশের জঙ্গি সংগঠন জেএমবির শাখা সংগঠন ‘ইমাম মাহমুদের কাফেলা’-র বড় ষড়যন্ত্রের খোঁজ পায় এনআইএ। ওই ঘটনার তদন্তে নেমে বর্ধমান, ডায়মন্ডহারবার-সহ রাজ্যের নানা জায়গা থেকে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। ‘কাফেলা’র সূত্র খুঁজতে একেবারে গভীরে গিয়ে তদন্ত চালাচ্ছে এনআইএ। এই আবহে সীমান্তে ধৃত ওই বাংলাদেশি যুবক কলকাতায় কাটিয়ে রাজ্যের দালালের সাহায্যে বাংলাদেশে ফেরার চেষ্টা করছিল, যা অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বড় আতঙ্কের বলে মনে করা হচ্ছে।




