শালবনি জমি-দখল মামলায় তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্ত সহায়ক সুমিত রায়ের আগাম জামিনের আবেদন খারিজ করল সুপ্রিম কোর্ট। বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চে দীর্ঘ শুনানির পর আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, এই পর্যায়ে তদন্তে হস্তক্ষেপ করে তাঁকে আগাম জামিন দেওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি।
শুনানিতে সুমিতের প্রবীণ আইনজীবী গোপাল এস দাবি করেন, প্রায় ৮৮ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করা হলেও তাঁর মক্কেলকে ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে জমা হওয়া প্রায় ১৫ কোটি টাকা নিয়ে কোনও নির্দিষ্ট প্রশ্ন করা হয়নি। এমনকী কোনও অভিযোগকারী বা ভুক্তভোগীর সঙ্গে টাকা লেনদেনের অভিযোগও তাঁর সামনে তুলে ধরা হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।
আইনজীবীর আরও বক্তব্য, সুমিতের নামে সবচেয়ে বড় ব্যক্তিগত নগদ জমা মাত্র ৬০ হাজার টাকা। তদন্তের প্রশ্ন মূলত তৃণমূলের দলীয় অ্যাকাউন্টের লেনদেনকে কেন্দ্র করে। দলীয় অ্যাকাউন্টে প্রায় ৪২.১৭ কোটি টাকা জমা পড়েছে। যার বিভিন্ন উৎস থাকতে পারে। সদস্যপদ বাবদ অর্থও তার মধ্যে রয়েছে বলে আদালতে দাবি করা হয়।
কিন্তু এখানেই তদন্তের সঙ্গে সুমিতের যোগসূত্র নিয়ে প্রশ্ন তোলেন বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী। তাঁর পর্যবেক্ষণ, ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে নগদ জমা না থাকলেও একই সময়ে দলীয় অ্যাকাউন্টে নগদ জমা পড়ার বিষয়টি তদন্তকারীদের প্রশ্নের আওতায় আসতেই পারে। বিচারপতি বলেন, ‘আমরা তাঁকে সবচেয়ে লম্বা দড়ি দিচ্ছি।’
আইনজীবীর দাবি ছিল, রাজনৈতিক দলের সঙ্গে তাঁর মক্কেলকে জড়িয়ে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। তাঁকে ‘কারও নাম বলানোর হাতিয়ার’ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। প্রশ্ন তোলেন, পাঁচ বছর আগের ঘটনার ক্ষেত্রে এখন হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে কী লাভ হবে?
অন্যদিকে, সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা জানান, জিজ্ঞাসাবাদের সময় সুমিত রায় একাধিক প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে গিয়েছেন। তদন্তে প্রায় ১৫ কোটি টাকার নগদ জমার বিষয়ও উঠে এসেছে বলে আদালতকে জানানো হয়। শেষ পর্যন্ত প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ সুমিতকে আগাম জামিনের স্বস্তি দেয়নি। প্রধান বিচারপতির তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য, জিজ্ঞাসাবাদের সময় সুমিতের দেওয়া উত্তরই এমন পরিস্থিতি তৈরি করেছে, যাতে এই পর্যায়ে আদালতের হস্তক্ষেপের সুযোগ সীমিত হয়ে যাচ্ছে।
আরও পড়ুন: ফের নিম্নচাপের ভ্রুকুটি, দক্ষিণবঙ্গে বাড়তে চলেছে বৃষ্টির দাপট, উত্তরে কী পরিস্থিতি?
বিচারপতি বাগচীও জানান, এই ধরনের মামলায় অতিরিক্ত স্তরের বিচারিক নজরদারি প্রয়োজন। তবে তদন্তের এই পর্যায়ে ব্ল্যাঙ্কেট আগাম জামিন দেওয়ার পক্ষে আদালত রাজি নয়।




