• facebook
  • twitter
  • youtube
Saturday, 10 October, 2026

প্রতারণা রুখতে অনুমোদিত এজেন্সির দাওয়াই: নিরাপদ ভ্রমণ ও হোমস্টে সুরক্ষায় কড়া পদক্ষেপ পর্যটন ব্যবসায়ীদের

দায়িত্বশীল পর্যটন ও প্রতারণামুক্ত ভ্রমণের লক্ষ্যে কলকাতায় আয়োজিত হল বাহটো-র সাধারণ সভা। উত্তরবঙ্গ, সিকিম ও কাশ্মীরের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে সুরক্ষাবিধি নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত।

প্রতারণা রুখতে অনুমোদিত এজেন্সির দাওয়াই: নিরাপদ ভ্রমণ ও হোমস্টে সুরক্ষায় কড়া পদক্ষেপ পর্যটন ব্যবসায়ীদের

BAHTO annual general meeting Kolkata (SNS)

রাজ্যের পর্যটন শিল্পকে আরও মজবুত করতে এবং ভ্রমণপিপাসুদের নিরাপদ পরিষেবার আওতায় আনতে বড়সড় উদ্যোগ নিল ‘বেঙ্গল অ্যাসোসিয়েশন অব হোটেলস অ্যান্ড ট্যুর অপারেটর্স’ (BAHTO)। কলকাতায় সম্প্রতি আয়োজিত হল সংগঠনের কার্যকরী ও সাধারণ সভা। যেখানে মূল লক্ষ্য হিসেবে উঠে এসেছে দায়িত্বশীল পর্যটন (responsible tourism), পরিবেশবান্ধব ভ্রমণ এবং পর্যটন ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত সমস্ত পক্ষের স্বার্থরক্ষা। রাজ্যের নিজস্ব পর্যটন বিকাশের পাশাপাশি ভিনরাজ্য ও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে বাংলার পর্যটকদের সুরক্ষাকেই মূল অগ্রাধিকার হিসেবে তুলে ধরেছে এই সংগঠন।

দার্জিলিং থেকে কাশ্মীর: এক মঞ্চে সবাই

বৈঠকে অংশ নিয়েছিলেন আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়ি, দার্জিলিং, সুন্দরবন, মালদহ, নদিয়া, হাওড়া, হুগলি এবং কলকাতা-সহ রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের প্রতিনিধিরা। শুধু বাংলাই নয়, সংগঠনের প্রসারিত নেটওয়ার্কের ছবি স্পষ্ট হয়েছে সিকিম, হিমাচল প্রদেশ, শ্রীনগর ও কাশ্মীরের পর্যটন প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে।

সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ড. কিঙ্কর রায় এবং রাজ্য আহ্বায়ক রঞ্জিত দে-র উপস্থিতিতে পর্যটনের সামগ্রিক বিকাশ নিয়ে বিস্তারিত রূপরেখা তৈরি হয়। অভিজ্ঞতার মেলবন্ধনে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করতে বিশিষ্ট সমাজসেবী গৌতম সরকার এবং বিশিষ্ট সাংবাদিক দেবাশিস দাসকে উপদেষ্টা (advisors) হিসেবে সংযুক্ত করে নেওয়া হয়েছে।

BAHTO annual general meeting (SNS)
BAHTO annual general meeting (SNS)

প্রতারণা রুখতে কড়া সুরক্ষা বিধি

ভ্রমণপিপাসুরা যাতে অনুমোদনহীন ভুয়ো এজেন্সির ফাঁদে পড়ে হয়রানির শিকার না হন, সে দিকে বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে। সংগঠন স্পষ্ট জানিয়েছে, বাহটো-অনুমোদিত ট্যুর অপারেটরদের মাধ্যমে ভ্রমণ করলে পর্যটকেরা সঠিক মূল্যে স্বচ্ছ ও পেশাদার পরিষেবা পাবেন।

একই সঙ্গে পর্যটকদের নিরাপত্তা এবং হোটেল-রিসর্টের পরিকাঠামো সুরক্ষায় নেওয়া হচ্ছে কঠোর পদক্ষেপ। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের দমকল ও জরুরি পরিষেবা বিভাগের সহযোগিতায় ইতিমধ্যেই অগ্নিনির্বাপণ (fire safety) ও জরুরি পরিস্থিতির সচেতনতা শিবির শুরু করেছে সংগঠন। প্রতিটি হোটেল, রিসর্ট এবং হোমস্টেতে যথাযথ নথিপত্র, কর্মীদের পেশাদার প্রশিক্ষণ ও আপৎকালীন নির্গমন ব্যবস্থা সুনিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

গ্রামীণ পর্যটনের হাতছানি

চেনা পর্যটনকেন্দ্রের বাইরে বেরিয়ে প্রকৃতি ও গ্রামীণ জীবনকে বিশ্বের দরবারে তুলে ধরার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে উত্তরবঙ্গ এবং ডুয়ার্সের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে পরিবেশবান্ধব পর্যটন (eco-tourism) এবং গ্রামীণ পর্যটনকে (village tourism) অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

স্থানীয় শিল্প, লোকসংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও পাহাড়ি জীবনযাত্রাকে পর্যটকদের অভিজ্ঞতার সঙ্গে যুক্ত করাই মূল ভাবনা। এর ফলে পরিবেশের ক্ষতি না করেই প্রত্যন্ত এলাকার সাধারণ মানুষের জন্য বিকল্প আয়ের সুযোগ তৈরি হবে। ভিনরাজ্য ও বিদেশের পর্যটকদের বাংলায় টেনে আনার পাশাপাশি বাংলা থেকে বাইরে যাওয়া পর্যটকদের অধিকার সুরক্ষাতেও আগামী দিনে ধারাবাহিক প্রচার চালাবে সংগঠনটি।